খুঁজুন
                               
, ,
           

আশিক মাহমুদকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আশিক মাহমুদকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিমন্ত্রীর বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই এ পদমর্যাদা কার্যকর হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই নেতার নাম মুজাহিদ ফকির। তিনি এনসিপির সাঁথিয়া পৌর শাখার সদস্যসচিব। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করেন মুজাহিদ ফকির। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এর আগেই অনেকে ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই নেতার এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।

ফেসবুক স্টোরি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দেখা যায়। তাঁদের একজন মেঝেতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন। পরে অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করেন এবং প্রদর্শন করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কারও মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই অস্ত্রটির প্রকৃতি ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ ও আইডির মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে একজন রাজনৈতিক নেতার এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি বলেন, যে ধরনের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে তাঁরা মনে করছেন। আব্দুল করিমের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেও মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অস্ত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মুজাহিদ ফকিরের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং ভিডিওটিও দেখেননি বলে জানান।

বকুল বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মুজাহিদ ফকিরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের কারণ কিংবা সেখানে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আগের ভিডিও নিয়ে পুলিশের তদন্তে খেলনা পিস্তলের তথ্য
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, অস্ত্রটি আসল হলে সেটি প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও তদন্ত করছে, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অস্ত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পর নেওয়া হবে ব্যবস্থা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অস্ত্রটির প্রকৃতি বা ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে শীতের মিষ্টি আবেশ

গাজীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে শীতের মিষ্টি আবেশ

ঋতু পরিবর্তনের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জের প্রকৃতি। ভোরের আকাশে হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু আর ধানখেতের ওপর মায়াবী আবহ জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা। সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর কুয়াশার উপস্থিতি এবং সকালে বাতাসের শীতল অনুভূতিতে গ্রামীণ জনপদে তৈরি হচ্ছে শীতের আবেশ। বাংলার প্রকৃতিতে ছয় ঋতুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরতের সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের মুগ্ধতা পেরিয়ে এখন প্রকৃতি ধীরে ধীরে হেমন্তের দিকে এগোচ্ছে। কার্তিকের শুরুতেই কালীগঞ্জের মাঠঘাট, ফসলের খেত ও জনপদে দেখা যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের নানা চিহ্ন। ভোরের কুয়াশা সূর্যের আলোয় মিলিয়ে গেলেও দিনের শুরুতে তার উপস্থিতি প্রকৃতিকে করে তুলছে আরও স্নিগ্ধ।

ভোরের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যে বাতাসে কুয়াশার আস্তরণ তৈরি হচ্ছে, যা সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত কোথাও কোথাও স্থায়ী থাকছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে, উন্মোচিত হচ্ছে চারপাশের পরিচিত দৃশ্য।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদার্তী এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক কাজী কেরামত আলী জানান, তিনি প্রায়ই সকালে হাঁটতে বের হন। কয়েক দিন ধরে ভোরে কুয়াশা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, শীত যেন আগেভাগেই জানান দিচ্ছে নিজের উপস্থিতি। শুধু কালীগঞ্জ নয়, রাজধানী ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও হেমন্তের আবহ অনুভূত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে। ভোরের হালকা শীতল বাতাস আর কুয়াশার চাদর দিনের শুরুতে প্রকৃতিতে এনে দিচ্ছে ভিন্নমাত্রা।

শিশিরবিন্দুতে ঝলমল করে সকালের প্রকৃতি
হেমন্তের সকাল মানেই ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির, ফুলের পাপড়িতে বিন্দু বিন্দু জল আর সূর্যের আলোয় সেগুলোর ঝিকমিক করে ওঠা। কালীগঞ্জের গ্রামীণ পরিবেশেও দেখা মিলছে এমন দৃশ্যের। শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশির আর ভোরের কোমল আলো মিলে প্রকৃতিতে তৈরি করছে স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। গ্রামের পথ ধরে হাঁটলে কোথাও দেখা যায় কুয়াশায় আচ্ছন্ন গাছপালা, কোথাও বাতাসে দুলছে কাশফুল। পুকুরপাড় ও নদীর ঘাটে দিনের ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে জেগে ওঠে। পাখির ডাক, বাতাসের মৃদু প্রবাহ আর দূরের গ্রামীণ জনপদের পরিচিত শব্দে ভোরের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এ সময় প্রকৃতির পরিবর্তন শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়; অনুভবেরও। সকালের বাতাসে শীতলতা, দুপুরে রোদের উষ্ণতা এবং সন্ধ্যার পর তুলনামূলক ঠান্ডা আবহ—সব মিলিয়ে হেমন্তের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠতে শুরু করে। হেমন্তের আগমনের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে বাড়ে কৃষিকাজের ব্যস্ততাও। মাঠে মাঠে আমন ধান পাকতে শুরু করার অপেক্ষা। কোথাও ধানের শিষে দানা পূর্ণ হচ্ছে, কোথাও কৃষকেরা পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। ধানখেতের সবুজ ও সোনালি আভা গ্রামীণ প্রকৃতিকে দিয়েছে আলাদা রূপ।

ধানের মৌসুম ঘিরে কৃষকের প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন ধান ঘরে তোলার সময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের পারিবারিক জীবনে আসে নতুন ব্যস্ততা। একই সময়ে বিভিন্ন জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতিও শুরু হচ্ছে। হেমন্ত তাই শুধু ঋতু পরিবর্তনের নাম নয়; কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও এই ঋতু গভীরভাবে জড়িত। ফসলের মাঠ, কৃষকের শ্রম এবং প্রকৃতির পরিবর্তন মিলিয়ে গ্রামবাংলায় তৈরি হয় এক পরিচিত মৌসুমি পরিবেশ।

শরৎ পেরিয়ে সেতুবন্ধনের ঋতু হেমন্ত
বাংলার ছয় ঋতুর ধারাবাহিকতায় হেমন্ত শরৎ ও শীতের মধ্যবর্তী সময়। শরতের উজ্জ্বল আকাশ, কাশফুল ও শিউলির সৌন্দর্যের পর হেমন্ত নিয়ে আসে পরিণত প্রকৃতির আবহ। মাঠে ফসলের রং বদলায়, ভোরের বাতাসে বাড়ে শীতলতা, আর রাতের পরিবেশে ধীরে ধীরে অনুভূত হয় শীতের উপস্থিতি। এই সময় প্রকৃতির রূপান্তর খুব ধীরে ঘটে। দিনের আলো ও রাতের আবহে ভিন্নতা তৈরি হয়। কুয়াশা, শিশির আর ফসলের মাঠ যেন জানান দেয়, বছর এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক ঋতুর দিকে। গ্রামীণ জীবনে এই পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।

প্রকৃতির সৌন্দর্যে নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার সময়
হেমন্তের স্নিগ্ধতা মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে। ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস, ধানখেতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আলো কিংবা বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল—এসব সাধারণ দৃশ্যও এ সময় হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণের। কালীগঞ্জের প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রতিদিনের পরিচিত পরিবেশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালেই ধরা পড়ে তার রং, গন্ধ ও অনুভূতির পরিবর্তন। শরতের বিদায়ের পর হেমন্তের এই কোমল আগমন প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজাচ্ছে। কুয়াশার পাতলা পর্দা আর শীতল বাতাসের ছোঁয়ায় কালীগঞ্জের জনপদে এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে শীতের আগাম অনুভূতি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও তিনি পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রজীবনেই গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিজের বেতনের একটি অংশ ব্যয় করে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

গাছ লাগানোকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফুর রহমান। রাস্তার দুই পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে তালগাছের সারি, ফুলের বাগান ও সবুজে ঘেরা নানা স্থান। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছায়া ও উপকার বয়ে আনছে। নওগাঁর বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতপ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে। প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা এসব গাছ এখন বেড়ে উঠে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘তালপার্ক’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে তালগাছ লাগানোর পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগ। ছাত্রজীবনে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ যেমন সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তেমনি মাঠে কাজ করা কৃষকেরাও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্ত করার সময় মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর রহমান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। সেই উদ্যোগের ফল এখন সড়কজুড়ে দৃশ্যমান। লুৎফর রহমানের ভাষ্য, তালগাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের জায়গা হিসেবে কাজে আসছে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ও মানুষ এসব গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর চিন্তা। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি তালগাছের চারা রোপণ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর এই উদ্যোগে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ। তবে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান শুধু নিজের উদ্যোগে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যেও গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছের চারা রাখেন। তাঁর এই অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

তালগাছের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন আরিফুর রহমান। এসব গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা একটি স্থান ‘কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল, পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশ এবং সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া চত্বর গড়ে তোলার মাধ্যমেও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ফুলের গাছের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন আরিফুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য, গাছ লাগানোর কাজকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও করেন তিনি। কারণ, শুধু চারা লাগালেই বনায়নের কাজ শেষ হয় না; গাছের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ কারণে চারা রোপণের পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করতে পারে। আরিফুর রহমানের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটেছে। মাতাজি হাটের বাসিন্দা খালিদ হাসান বাবু বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা তালগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; ফল ও ছায়া দিয়েও স্থানীয়দের উপকার করছে। তাল মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও তাল খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তাঁর মতে, তালগাছের পাশাপাশি অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই উদ্যোগ মহাদেবপুর ছাড়িয়ে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে। গাছের ছায়া, ফল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কও দৃঢ় করে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরিফুর রহমানের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে সবুজে ভরিয়ে তোলা। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও এগিয়ে আসবে। কারণ, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের নিয়ে শুরু করা বৃক্ষরোপণ আজ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর সড়কের পাশে তালগাছের সারি কিংবা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছের সমারোহ—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা। অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ লাগাতে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি