খুঁজুন
                               
, ,
           

জুলাইয়ের ঐক্যে ছয় মাসেই ফাটল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
জুলাইয়ের ঐক্যে ছয় মাসেই ফাটল

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে এক হয়েছিল বিভিন্ন দল। রাজপথের সেই ঐক্যই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে শক্তি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের মাত্র ছয় মাসের মাথায় সেই রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময়ের আন্দোলনের সহযোদ্ধারা এখন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে। ত্রয়োদশ ভোটে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি এখন সরকারে।

  • একসময় একই আন্দোলনের সহযোদ্ধা এখন একজন সরকারে অন্যজন বিরোধী শিবিরে
  • ছয় মাসেই রাজপথের কর্মসূচি—এই বিভাজন কি জুলাইয়ের শক্তিকেই দুর্বল করছে?

একসময় তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী এখন সংসদের প্রধান বিরোধী দল। আর বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে সংসদের বাইরে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে নেমেছে। শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চও হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবি। এখন প্রশ্ন উঠছে, নতুন সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই রাজপথের বড় কর্মসূচিতে যাওয়া কতটা যৌক্তিক?

জনস্বার্থে চাপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সংসদ
বিরোধী দলের আন্দোলনের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন নেই। গণতন্ত্রে সরকারকে প্রশ্ন করা, সমালোচনা করা এবং জনস্বার্থে চাপ তৈরি করা বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সেই চাপের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সংসদ। বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের প্রশ্ন তোলা, প্রস্তাব দেওয়া, বিতর্ক করা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক নানা সমস্যার সমাধানে সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া যেত—এমন মতও রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিরোধী দলকে নীরব থাকতে হবে। বরং সংসদের ভেতরে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে, নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে এবং সরকারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে রাজপথে যাওয়ার পথ খোলা রাখা যেত। এতে একদিকে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হতো, অন্যদিকে সরকারেরও কাজ করার সুযোগ বাড়ত।

সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান বাস্তবসম্মত নয়
বিরোধী দলের ছয় দফার মধ্যে জুলাই গণহত্যার বিচার কিংবা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অন্যতম। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলা বা দুর্নীতি—এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রত্যাশিত হলেও সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান বাস্তবসম্মত নয়। তাই রাজনৈতিকভাবে সব দাবিকে একই মাত্রার চাপের মধ্যে নিয়ে আসার বদলে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন আর কোন বিষয়ে সময় দেওয়া যায়—এই পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই এসব বিষয় ভেবে দেখা উচিত।

বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা
বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্কের পরিবর্তন। একসময় দুই দল ছিল রাজনৈতিক মিত্র। এখন বিএনপি সরকারে, জামায়াত বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে। ফলে পুরোনো মিত্রতার জায়গায় এসেছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। যদিও বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে জনকল্যাণেই নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সমস্যাসমূহ সমাধানে চেষ্টা করছেন। এদিকে, লংমার্চে বিরোধী দলের নেতাদের কঠোর বক্তব্যের পাল্টা জবাবও এসেছে সরকারি দলের নেতাদের কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংকটকে পুঁজি করে কেউ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আইনে রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও সরকারের সমালোচনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় দু’পক্ষের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

জুলাইয়ের ঐক্য ফাটলে লাভ ক্ষতি
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বহুমতের ঐক্য। ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের দলগুলো একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। সেই ঐক্যের কারণেই আন্দোলন একটি ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। এখন সেই শক্তিগুলোই যদি ক্ষমতার পালাবদলের পর দ্রুত পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়, তাহলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নের পথ কঠিন হতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সরকার ও বিরোধী দল একসময় একই রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশীদার ছিল। তাই তাঁদের কাছ থেকে মানুষের প্রত্যাশা ছিল জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে সহযোগিতার। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের ত্রুটি তুলে ধরা, তবে একই সঙ্গে গঠনমূলক প্রস্তাবও দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হওয়া উচিত জনস্বার্থ। তাঁর মতে, ক্ষমতার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক বিরোধ—সবকিছুর সমাধান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হওয়া প্রয়োজন। দুই বিশ্লেষকের বক্তব্যের মধ্যে একটি অভিন্ন বার্তা আছে—সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা যেমন জরুরি, বিরোধী দলের আন্দোলনকেও দায়িত্বশীল ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক রাখা তেমনই জরুরি।

পারস্পরিক অবিশ্বাসে ক্ষতি হবে রাষ্ট্রের
সরকার ও বিরোধী দল যে আলাদা অবস্থানে থাকবে, সেটিই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম। মতপার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যদি এমন পর্যায়ে যায়, যেখানে পারস্পরিক অবিশ্বাসই রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তাহলে ক্ষতি হবে রাষ্ট্রের। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য যত বাড়বে, ততই সেই আন্দোলনের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। সরকার বিরোধী দলের প্রশ্ন ও সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়েছে। এখন বিরোধী দলের জন্যও জরুরি হবে সংসদকে কার্যকর রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে রাজপথে যাওয়া। কারণ সরকার ও বিরোধী দল দুটিই গণতন্ত্রের অংশ। একজনের দুর্বলতায় অন্যজন শক্তিশালী হয় না; বরং দুর্বল হয় পুরো ব্যবস্থাই। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান যে রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে এক করেছিল, ছয় মাস পর তাদের সামনে এখন নতুন পরীক্ষা—তারা কি ক্ষমতার প্রতিযোগিতার মধ্যেও জুলাইয়ের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বিএনপি বা জামায়াতের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণ করবে না; নির্ধারণ করবে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রও।

কালের আলো/এম/এএইচ

সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

সাবেক র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ মামলায় বৃহস্পতিবার সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

মামলার অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

আগামী ১৩ অক্টোবর এ মামলায় সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া

বিশেষ সংবাদদাতা/ফেনী প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া
বৃষ্টিভেজা বিকেল। সামনে মুহুরী নদী। দুই পাড়ে মানুষের ভিড়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফুল; কারও চোখে কৌতূহল—নানাবাড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেন? সেই অপেক্ষার মধ্যেই ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এসে পৌঁছালেন তিনি। ফলক উন্মোচন করলেন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের। নদী খননের উদ্বোধন করলেন, রোপণ করলেন গাছের চারা। এরপর মঞ্চে উঠে একে একে বললেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কৃষকের কথা, খেটে খাওয়া পরিবারের কথা, স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা। ‘ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে এসেছি।’ মুহুরীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই এক বাক্যেই যেন বৃহস্পতিবারের (০১ অক্টোবর) ফেনী সফরের সারাংশ—প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্প, প্রকল্প থেকে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা।
  • ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন
  • ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ডে জনকল্যাণের বার্তা
  • অরাজকতা নিয়ে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা

নদীর সঙ্গে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের কাছে মুহুরী-কহুয়া নদী শুধু জলধারা নয়; কখনো আশীর্বাদ, কখনো আতঙ্ক। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে বাঁধের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। পানি উপচে পড়লে ডুবে যায় কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতভিটা, থমকে যায় জনজীবন। সেই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের মোকাবিলায় এবার ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বড় প্রকল্প। ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’—বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৬ জুন একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। কাজ শেষ করার লক্ষ্য ২০৩০ সাল। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি’

প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে এই নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি বাস্তবায়ন করতেই তাঁরা এসেছেন। তিনি স্মরণ করেন, দুই-আড়াই বছর আগে বড় বন্যায় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা তৈরি হবে। বাড়বে কৃষি উৎপাদন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের লাভ বাড়বে, বাজারে খাদ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নদী খনন থেকে কৃষকের গোলা

তারেক রহমানের বক্তব্যে নদী খনন কোনো বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন কৃষকের আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের উপকারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে বলেই সেই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের মা, কৃষক কার্ডে কৃষক 

ফেনীর দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কৃষকদের জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড। এদিন, ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড এবং ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও বিতরণ করা হয় সহায়তার চেক।

উন্নয়নের মঞ্চে রাজনীতির উত্তাপ

তবে ফেনীর মঞ্চ শুধু উন্নয়নের হিসাবেই থেমে থাকেনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক সুর তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কিছু আসনে জয় পাওয়ার পর তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—অন্যকে নসিহত করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।

‘আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন’

একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক দল’-এর নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করছেন, তাদের আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া উচিত। নারী নির্যাতন ও একটি মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে আরও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার এক হয়েছে এবং তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘এক দফা’ নিয়ে রাজনীতি করা এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন—তাদের মানুষের জন্য কী কর্মসূচি আছে? খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি তাদের আছে কি না। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘বেহেশতের টিকিট’ নিয়ে সমালোচনা

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বেহেশতের মালিক আল্লাহ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ওই প্রচারণাকে রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, তাদের ‘মুনাফেকি’ প্রকাশ হয়ে গেছে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ তাদের ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫০ শয্যার

ফেনীর জনসভায় স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনাও সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নানাবাড়ির স্মৃতিতে ফিরে দেখা

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও ফেনীতে নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসেছেন। সম্ভবত ১৯৮৪ সালে প্রথম এসেছিলেন, এরপর ১৯৯১ সালে। নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে তাঁর বক্তব্য—‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্যও কাজ করতে হবে।’ ফেনীর ফুলগাজীতে তাঁর নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। ফুলগাজীসহ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মহাসড়কজুড়ে অভ্যর্থনা

ফেনী যাওয়ার পথও ছিল আলাদা এক দৃশ্যপট। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে বাসে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ফুল, ব্যানার ও দলীয় পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। গাড়িবহর অতিক্রমের সময় স্লোগান, ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আলাদা আবহ।

নদীর পাড়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা

পরশুরামের ঘাটঘর এলাকার দক্ষিণ কাউতলীতে মুহুরী নদীর পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার আগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের সড়ক ও নদীর পাড়ে দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপন—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পূর্ব সাহেবনগরের পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান নাতিকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপনজনকে দেখার সুযোগও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবদুল জলিলের প্রত্যাশা আরও বাস্তব—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম।

সূর্যের শক্তিও যাবে জাতীয় গ্রিডে

ফেনী সফরের আরেক কর্মসূচিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে স্থাপিত রুফটপ সমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

শেষ দৃশ্যে মুহুরীর পাড়

দিনের শেষে থেকে যায় মুহুরী নদী, বৃষ্টিভেজা মাঠ আর মানুষের প্রত্যাশা। একদিকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প—বাঁধ মেরামত হবে, নদী খনন হবে, সেচের পানি বাড়বে। অন্যদিকে কৃষকের হাতে কার্ড, পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, অসহায় মানুষের হাতে সহায়তা। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা—অরাজকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের ভ্যাট মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ভ্যাট রিটার্নসংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি।

এ পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রিটার্ন জমা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি