খুঁজুন
                               
, ,
           

নগর পরিকল্পনায় দরিদ্র-প্রান্তিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নগর পরিকল্পনায় দরিদ্র-প্রান্তিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় নগর ফোরাম-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণকে শুধু বড় বড় ভবন নির্মাণ, সড়ক, পানি সরবরাহ কিংবা স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবে দেখলে হবে না। নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান, সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই নগর উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, নগর পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজন বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বিত্তবানরা নিজেদের প্রয়োজন অনেকটাই পূরণ করতে পারলেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। নগরায়ণের সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। তাই টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি ও যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ফোরামে পল্লি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কার্যকর নগরসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষার্থী ও নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দুই হাতের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বামীর সঙ্গে জোহরার সংসার

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
দুই হাতের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বামীর সঙ্গে জোহরার সংসার

দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করাই কঠিন। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানেননি যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের জোহরা খাতুন। প্রায় ২৫ বছর ধরে স্বামী রশিদের সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন তিনি।

জোহরা ও রশিদের দাম্পত্যজীবন প্রায় ৪০ বছরের। দীর্ঘ এই সময়ে অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা এলেও দুজন একে অপরের পাশে থেকেছেন। জোহরার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করলেও সংসারের দায়িত্ব থেকে তাঁকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।

প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ঘুম থেকে ওঠেন জোহরা। এরপর চলে যান স্বামীর চায়ের দোকানে। সেখানে চা তৈরি, ক্রেতাদের চা দেওয়া এবং দোকানের বিভিন্ন কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেন। দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে রান্নাসহ ঘরের কাজ শেষ করেন। স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করে আবার দোকানে ফিরে যান। এরপর দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দোকানে কাজ করেন।

দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় প্রতিদিনের কাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তারপরও জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

জোহরা খাতুন বলেন, ‘আমরা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। আমার দুই হাত প্রতিবন্ধী। তারপরও আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কষ্ট করে সংসার চালাই। আমার স্বামী আমাকে দেখে কখনো ঘৃণা করে না। আমরা দুজন দুজনকে নিয়ে বেঁচে আছি।’

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বামী রশিদও দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। সংসারের প্রয়োজনেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন তিনি। দুজনের আয়ে চলে তাঁদের সংসার।

স্থানীয় এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি বলেন, জোহরা ও রশিদের মতো অসচ্ছল মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে তাঁদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই কাটে জোহরার দিন। ঘরের কাজ সামলে আবার দোকানে ছুটে যেতে হয়। এভাবেই প্রায় ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকানে কাজ করছেন তিনি।

জোহরা বলেন, তিনি কারও করুণা চান না। স্বামীর সঙ্গে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে চান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানেনি, ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারে পাঠদান

ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানেনি, ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারে পাঠদান

দুই পায়ের শক্তি হারিয়েছেন এক দশক আগে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা না থাকলেও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে থেমে যাননি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বামুন্দী বালিয়াকান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল। হুইলচেয়ারই এখন তার চলাচলের একমাত্র বাহন। বিদ্যালয়ে যাতায়াত থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জানা গেছে, জন্মের পর সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন অপূর্ব লাল মণ্ডল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার পায়ে সামান্য সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা নিয়েই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন। ১৯৯৯ সালে নিজ এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

এর কয়েক বছর পর ধীরে ধীরে তার দুই পায়ের শক্তি কমতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পায়ে ভর করে হাঁটার সক্ষমতা হারান। গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তার একমাত্র চলাচলের মাধ্যম।

অপূর্ব লাল মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীরাই তার চলার সঙ্গী। কখনো কারও কাঁধে ভর করে, আবার কখনো একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তিনি স্কুলে যান। নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখেন না তিনি; শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াকেই জীবনের নেশা হিসেবে নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব উল্লাহ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তিনি অপূর্ব স্যারের কাছে পড়ছেন। আগে বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা স্যারকে হুইলচেয়ারে করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। এখন তারা নিজেরাই সেই দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও স্যার খুব সুন্দরভাবে ক্লাস নেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগান।

সহকারী শিক্ষক ফরিদ শেখ বলেন, অপূর্ব লাল মণ্ডল তার বাল্যবন্ধু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং কাছাকাছি সময়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বন্ধুর শারীরিক অসুস্থতার কষ্ট থাকলেও শেষ দিন পর্যন্ত তার পাশে থাকতে চান তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নয়, শ্রেণিকক্ষেও অপূর্ব লালের দায়িত্ব পালনে কোনো ক্লান্তি দেখা যায় না। তিনি যত্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ বুঝিয়ে দেন। তবে একটি আধুনিক হুইলচেয়ার পেলে তার যাতায়াত ও পাঠদান আরও সহজ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৪ অক্টোবর) দেশের দুই শেয়ারবাজারে সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। দিনের শুরুতে নিম্নমুখী থাকলেও পরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হয়।

ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে অবস্থান করে। এ সময় ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০০ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে ৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১২০টির কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগে লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসইএক্স ৫ পয়েন্ট কমে যায়। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আরও ৬ পয়েন্ট কমে যায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। পরে সূচক ঘুরে দাঁড়ায়।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮২৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে এরপর সিএসইর সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইতে ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময় ১০টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৩টির কমেছে এবং চারটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি