খুঁজুন
                               
, ,
           

নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
নোট মুদ্রণে ব্যয় দ্বিগুণ

নতুন টাকা ছাপানোর খরচ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকনোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টসে এই ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। পাঁচ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, সর্বশেষ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে।

বেশি টাকা ছাপানোর কারণে নয়
নোট মুদ্রণের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি বাজারে সরবরাহের জন্য এবার অনেক বেশি নতুন নোট ছাপানো হয়েছে? বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা বলছে, বিষয়টি তেমন নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন নোট মুদ্রণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে নোটের পরিমাণের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং একটি নোট উৎপাদনের পেছনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াই এবারের ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণ।

নোট মুদ্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানের কাগজ বা কালি ব্যবহার করা যায় না। নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যের সরবরাহকারীও বিশ্বজুড়ে সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নোট তৈরির কাগজ ও কালি অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় এসব উপকরণের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম। ফলে সরবরাহকারীদের সঙ্গে দাম কমানোর জন্য বড় ধরনের দর-কষাকষির সুযোগ থাকে না।

তার ব্যাখ্যায়, বিশেষায়িত কাগজ ও কালি তৈরির প্রক্রিয়াই তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এমনকি বিশ্বের সব দেশেও ব্যাংকনোট তৈরির নিরাপত্তা কাগজ উৎপাদন হয় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপকরণের দাম বাড়লে বাংলাদেশকেও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এবার নোট মুদ্রণের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির বড় ভূমিকা রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে কাগজের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহের খরচও বেড়েছে।

আরিফ হোসেন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি বিনিময় হারের প্রভাবও কিছুটা রয়েছে। তবে সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ব্যাংকনোট ছাপানোর কাজ করে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড—এসপিসিবিএল। তবে নোট তৈরির প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের একটি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের নোট মুদ্রণের ব্যয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে।

ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব
আমদানিনির্ভর উপকরণ ব্যবহারের কারণে ডলারের বিনিময় হারও মুদ্রণ ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে আন্তঃব্যাংক গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুন শেষে সেটি বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পরিবর্তন মাত্র ৮ পয়সা, বা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। যেখানে নোট মুদ্রণের ব্যয় বেড়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি, সেখানে বিনিময় হারের সামান্য পরিবর্তনকে এই বিশাল ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই বেশি।

খরচ বাড়িয়েছে নতুন নকশা
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিযুক্ত নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার ব্যাংকনোট চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের নকশা পরিবর্তনের কাজও এগিয়েছে। তবে নতুন নকশার কারণে মুদ্রণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—এমন ধারণা নাকচ করেছেন আরিফ হোসেন খান। তাঁর মতে, নকশা পরিবর্তনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুব কম। নতুন নকশা মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় কিছু বাড়তি জটিলতা তৈরি করলেও ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ এটি নয়।

পাঁচ বছরের চিত্রে এবারই সর্বোচ্চ
নোট মুদ্রণের ব্যয়ের গতিপথেও এবারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি স্পষ্ট। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ সালে তা কমে হয় ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় আরও কমে ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় নেমেছিল। কিন্তু এক বছর পরই তা বেড়ে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

ফলে পরিসংখ্যান বলছে, এবার শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, গত পাঁচ অর্থবছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় নোট মুদ্রণে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—নতুন নোটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও এই ব্যয় বেড়েছে। অর্থাৎ এবারের হিসাব মূলত বেশি টাকা ছাপার চেয়ে টাকা তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ার চিত্রই তুলে ধরছে। বিশেষায়িত কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহ সংকট এবং সীমিত সরবরাহকারীর কারণে এই ব্যয় আগামী দিনেও বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের চাপ হয়ে থাকতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

মাদকাসক্তি, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দ্রুত স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ চালুর আহ্বান জানান। বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে