খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ভাড়া ভবনে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভবনে চলছে ক্লাস, মাঝামাঝি তৃতীয় ভবনে প্রশাসনিক কাজ। প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে ছোট তিনটি ভাড়া ভবনে। ইউএফটিবির এই চিত্র আসলে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি; অন্যগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই কেন একের পর এক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলো?

ক্যাম্পাসের আগে ক্লাস
এই ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে। তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশেষায়িত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকাংশের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। অর্থাৎ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকার সময় এক দশক পর্যন্ত গড়িয়েছে। কোথাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও ভাড়া বাড়ি, আবার কোথাও একাধিক স্থাপনায় ভাগ হয়ে আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ হলেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-পরিবেশ নেই
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আট হাজারের কিছু বেশি। অধিকাংশ চলছে মাত্র দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নেই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের জন্য সংকটটি স্পষ্ট। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়—গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, খেলার মাঠ, আবাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি ও এভিয়েশন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব ও ব্যবহারিক অবকাঠামো ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পাঁচটির এখনো যাত্রাই হয়নি
মেহেরপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায় এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা থেমে থাকছে না। এতে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

ভাড়ার পেছনে সরকারি অর্থ
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আর্থিক চাপও কম নয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরের পর বছর ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভবন পরিচালনা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বাড়তি ব্যয়। সাময়িক সমাধান তাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থের স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হচ্ছে।

কোথাও জমি আছে, ক্যাম্পাস নেই
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ২০২০ সালে আইন পাসের পর ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভবনে। অন্যদিকে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগোলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ইউএফটিবিতেও শিক্ষার্থী ৯২৮ জন, শিক্ষক ৪১ জন, কর্মকর্তা ৩৬ এবং কর্মচারী ৫২ জন। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

দায়ের জায়গা, সমাধানের পথ
এই বাস্তবতা কোনো এক বছরের সিদ্ধান্তের ফল নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আইন, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবই এগিয়েছে; কিন্তু ক্যাম্পাস নির্মাণ পিছিয়ে থেকেছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত এগুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জমি, অর্থায়ন, মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্যও ন্যূনতম একাডেমিক ও গবেষণা অবকাঠামোর বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি আইন পাস কিংবা উপাচার্য নিয়োগ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে নিজস্ব শিক্ষাঙ্গন, গবেষণার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কালের আলো/এম/এএইচ

এশিয়ান হাইওয়েতে মরণফাঁদ, বৃষ্টির দায় দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
এশিয়ান হাইওয়েতে মরণফাঁদ, বৃষ্টির দায় দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক

গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়কের (ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সিংলাব-পাকুন্দা এলাকার আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় ২৫০ মিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।

রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ভেতরের মাটি ও সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। এতে সড়কের একটি অংশ নিচের দিকে দেবে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার প্রথম বড় ধরনের ফাটল দেখতে পান তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না রাখার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সড়ক নির্মাণের সময়ই নিম্নমানের কাজ নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্মাণ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সড়কে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আরেক বাসিন্দা আল আমিনের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশ থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে রাস্তার পাশের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণ না করেই দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে নির্মাণকাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই থেকে তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়। এর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে মাটি সরে গিয়ে সড়ক দেবে ফাটল তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, নির্মাণকারী বেসরকারি অংশীদার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ডাইভারশন সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে দ্রুত সড়ক সংস্কার করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত না করে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন থানায় ৫৪টি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২১ জন, লালবাগে ৫৩, ওয়ারীতে ৫৪, মতিঝিলে ৫৫, তেজগাঁওয়ে ৮৯, মিরপুরে ৮২, গুলশানে ৩৫, উত্তরা বিভাগে ৩৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে তিনজন রয়েছেন।

অভিযানে ৫৪ কেজি ৪৬০ গ্রাম গাঁজা, ৫২৪ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নির্ভরতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকা ভোলার গ্যাসসম্পদ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় ভোলার গ্যাসের পূর্ণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা-নর্থ ও ইলিশা—এই তিন গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪৩২ থেকে ১ দশমিক ৪৩৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। দেশে বর্তমানে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। অর্থাৎ দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রায় ১৯ শতাংশই রয়েছে ভোলায়।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার নয়টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যবহৃত রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মজুত থাকা গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকলে এর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে না।

দেশের বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতিও ভোলার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি আমদানির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎসের গ্যাস বাড়ানো এবং অব্যবহৃত গ্যাসকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগও এগোচ্ছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে খুলনা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

শুধু জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নয়, স্থানীয়ভাবেও ভোলার গ্যাস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প, শিল্পপার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে সড়ক, নদীবন্দর, বিদ্যুৎ, পানি ও দক্ষ জনশক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে শিল্পায়নের গতি বাড়তে পারে।

ভোলায় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ ও ইলিশা-১ কূপ থেকে অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাপেক্স ও রাশিয়ার গ্যাসপ্রমের অনুসন্ধানে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনসহ দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসসম্পদের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোলার গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, ভোলার গ্যাসের মূল্য শুধু কত গ্যাস পাওয়া যাবে, তা দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। গ্যাসটি কোথায় ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুৎ, সার, শিল্প ও জাতীয় গ্রিড—সব বিকল্পের ব্যয় ও সুফল তুলনা করে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বড় বিনিয়োগের আগে গ্যাসের প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণ জরুরি। সম্ভাব্য মজুত এবং অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস এক বিষয় নয়। অনুসন্ধান, কূপ খনন, উৎপাদন পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে হবে।

ভোলার শিল্পোদ্যোক্তারাও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকে শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভোলায় শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সড়ক, নদীবন্দর ও অন্যান্য শিল্প অবকাঠামোরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিডে কতটা গ্যাস যাবে, স্থানীয় শিল্পে কতটা ব্যবহার হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কতটা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কী পরিমাণ সক্ষমতা রাখা হবে—এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নির্ধারণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি চাহিদার বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে এই গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানো গেলে নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সূএ:বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি