খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্মি মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সম্মেলনে প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতায় গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
আর্মি মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সম্মেলনে প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতায় গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

সামরিক চিকিৎসাসেবা এখন আর কেবল প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় মোটেও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটিও তাই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের চলতি বছরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদই যেন সামনে এসেছে এবারের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে।

  • সামরিক চিকিৎসায় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর তাগিদ
  • পেশাগত মান ও মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রত্যাশা
  • সমন্বিত বার্তা আগামী দিনের সামরিক চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসের আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে (এএমসিসিঅ্যান্ডএস) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কোর দুটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি সততা ও কর্তব্যবোধের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য পেশাগত মান ও মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন। চিকিৎসা পেশার সঙ্গে মানবিক দায়িত্বেও সম্পর্ক যে নিবিড় এই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে আর্মি মেডিকেল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি চিকিৎসা সেবায় তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়াও, সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে ব্রতী হয়ে সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কোরের প্রশংসনীয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেনাপ্রধানের আলোচনায় প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। যা সামরিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণার বিষয়টি চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করেছে। আর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি সেই পরিবর্তনকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেনাপ্রধানের সমন্বিত এই বার্তা আগামী দিনের সামরিক চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসাসেবার পেশাগত মান ধরে রাখার একটি মৌলিক বার্তা
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার বিকাশ চিকিৎসাসেবাকে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু দায়িত্ব পালনের নৈতিক ভিত্তি অটুট না থাকলে সেই অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না। ফলে সম্মেলনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের ওপর সেনাপ্রধানের গুরুত্ব দেওয়াকে সামরিক চিকিৎসাসেবার পেশাগত মান ধরে রাখার একটি মৌলিক বার্তা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মোহাম্মদ রাশিদুন্নবী, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাঈদ আনোয়ার মাহমুদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কোর দুটির অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

এশিয়ান হাইওয়েতে মরণফাঁদ, বৃষ্টির দায় দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
এশিয়ান হাইওয়েতে মরণফাঁদ, বৃষ্টির দায় দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক

গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়কের (ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সিংলাব-পাকুন্দা এলাকার আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় ২৫০ মিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।

রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ভেতরের মাটি ও সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। এতে সড়কের একটি অংশ নিচের দিকে দেবে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার প্রথম বড় ধরনের ফাটল দেখতে পান তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না রাখার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সড়ক নির্মাণের সময়ই নিম্নমানের কাজ নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্মাণ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সড়কে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আরেক বাসিন্দা আল আমিনের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশ থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে রাস্তার পাশের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণ না করেই দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে নির্মাণকাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই থেকে তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়। এর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে মাটি সরে গিয়ে সড়ক দেবে ফাটল তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, নির্মাণকারী বেসরকারি অংশীদার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ডাইভারশন সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে দ্রুত সড়ক সংস্কার করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত না করে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন থানায় ৫৪টি মামলা করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২১ জন, লালবাগে ৫৩, ওয়ারীতে ৫৪, মতিঝিলে ৫৫, তেজগাঁওয়ে ৮৯, মিরপুরে ৮২, গুলশানে ৩৫, উত্তরা বিভাগে ৩৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে তিনজন রয়েছেন।

অভিযানে ৫৪ কেজি ৪৬০ গ্রাম গাঁজা, ৫২৪ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ ভোলায়

দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নির্ভরতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকা ভোলার গ্যাসসম্পদ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় ভোলার গ্যাসের পূর্ণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা-নর্থ ও ইলিশা—এই তিন গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪৩২ থেকে ১ দশমিক ৪৩৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। দেশে বর্তমানে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। অর্থাৎ দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রায় ১৯ শতাংশই রয়েছে ভোলায়।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার নয়টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যবহৃত রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মজুত থাকা গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকলে এর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে না।

দেশের বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতিও ভোলার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি আমদানির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎসের গ্যাস বাড়ানো এবং অব্যবহৃত গ্যাসকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগও এগোচ্ছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে খুলনা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

শুধু জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নয়, স্থানীয়ভাবেও ভোলার গ্যাস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প, শিল্পপার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে সড়ক, নদীবন্দর, বিদ্যুৎ, পানি ও দক্ষ জনশক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে শিল্পায়নের গতি বাড়তে পারে।

ভোলায় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ ও ইলিশা-১ কূপ থেকে অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাপেক্স ও রাশিয়ার গ্যাসপ্রমের অনুসন্ধানে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনসহ দক্ষিণাঞ্চলে নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাসসম্পদের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোলার গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, ভোলার গ্যাসের মূল্য শুধু কত গ্যাস পাওয়া যাবে, তা দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। গ্যাসটি কোথায় ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুৎ, সার, শিল্প ও জাতীয় গ্রিড—সব বিকল্পের ব্যয় ও সুফল তুলনা করে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বড় বিনিয়োগের আগে গ্যাসের প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণ জরুরি। সম্ভাব্য মজুত এবং অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস এক বিষয় নয়। অনুসন্ধান, কূপ খনন, উৎপাদন পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে হবে।

ভোলার শিল্পোদ্যোক্তারাও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকে শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভোলায় শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সড়ক, নদীবন্দর ও অন্যান্য শিল্প অবকাঠামোরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিডে কতটা গ্যাস যাবে, স্থানীয় শিল্পে কতটা ব্যবহার হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কতটা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কী পরিমাণ সক্ষমতা রাখা হবে—এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নির্ধারণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি চাহিদার বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে এই গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানো গেলে নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সূএ:বাসস

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি