সুযোগ বেড়েছে, তবু কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট?
একসময় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের অবহেলার কথা উঠলেই সামনে আসত নানা সীমাবদ্ধতার ছবি। ম্যাচের সংখ্যা কম, নিয়মিত ক্যাম্পের অভাব, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, বেতন-ভাতা নিয়েও ছিল অভিযোগ। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বছরের পর বছর।
তবে সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। বেড়েছে সুযোগ-সুবিধা, ম্যাচের সংখ্যা, নিয়মিত হচ্ছে ক্যাম্প। আর্থিক দিক থেকেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই অগ্রগতির প্রতিফলন কতটা দেখা যাচ্ছে—এ প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হারের পর আবারও সামনে এসেছে একই প্রশ্ন—সুযোগ-সুবিধা বাড়ার সঙ্গে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের মানও কি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে?
সেমিফাইনালেও মিলল না সাফল্য
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে প্রায় ১১০ রানের কাছাকাছি। ফলে ৪০ রানের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
সেমিফাইনালে ওঠা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অর্জন। কিন্তু শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচের ফল এবং পারফরম্যান্সের ধরনই দলের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগিয়ে গেলেও ভারতসহ শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বারবার আটকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও সেই সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট হয়েছে।
ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় ঘাটতি
বাংলাদেশের সমস্যাটা অবশ্য শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে ব্যাটিংয়ের ধীরগতি।
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলাই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। সেখানে দীর্ঘ সময় কম স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করলে বড় সংগ্রহ গড়া কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশও বারবার এই সমস্যায় পড়ছে।
১০০-১১০ রানের মতো স্কোর নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করা কঠিন। তাই ব্যাটিংয়ের ধরন, রান তোলার মানসিকতা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি বাড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
নেতৃত্ব ও ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দলের জন্য তার অবদানও কম নয়। তবে বর্তমান টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটে তার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।
শুধু একজন খেলোয়াড় নয়, দলের একাধিক ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট যদি দীর্ঘ সময় ৭০-৮০-এর আশপাশে থাকে, তাহলে বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে।
দল নির্বাচনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বর্তমান টি-টোয়েন্টির চাহিদা অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেন—এমন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
শুধু সুযোগ নয়, দরকার তার প্রতিফলন
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধা বাড়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু সুযোগ পাওয়ার পর সেই সুযোগকে পারফরম্যান্সে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই সঙ্গে তাল মেলাতে হলে ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন, ফিল্ডিংয়ের মান, বোলিংয়ের বৈচিত্র্য এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতি প্রয়োজন।
এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে ওঠা তাই একদিকে যেমন আশার খবর, অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে হারটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সামনে থাকা ঘাটতিগুলোও নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array