খুঁজুন
                               
, ,
           

‘ইমরান খানের সিদ্ধান্তেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অধঃপতন’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
‘ইমরান খানের সিদ্ধান্তেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অধঃপতন’

পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অধঃপতনের জন্য দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে দায়ী করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক ও কোচ হারুন রশিদ। তার দাবি, ইমরানের নির্দেশে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো পরিবর্তনের পর থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মান কমতে শুরু করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ক্রিকেটের পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক। সর্বশেষ চারটি আইসিসি ইভেন্টের কোনোটিতেই সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যুক্তরাজ্য থেকে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন দুরবস্থার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও হারুন রশিদের মতে, ইমরান খানের সময় ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোয় আনা পরিবর্তন ছিল বড় ভুল। ইমরান ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেন। অস্ট্রেলিয়ার কাঠামো অনুসরণ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দলের সংখ্যা ১০-১৬টি থেকে কমিয়ে ছয়টিতে নামিয়ে আনা হয়।

সে সময় ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো পর্যালোচনায় গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য ছিলেন হারুন। ‘স্ম্যাশ ইট’ স্পোর্টস চ্যানেলের একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট বোর্ড ও টাস্কফোর্সের অংশ ছিলাম। মনে আছে, ইমরানের সঙ্গে বৈঠকে আমরা একটি হাইব্রিড ঘরোয়া ক্রিকেট মডেল জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সেটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।’

হারুন বলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা সময় দিতে পারেন? আমাদের সংশোধিত ঘরোয়া ক্রিকেট পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছিল। আমরা সেটি দিয়েছিলাম এবং সেটি ছিল একটি হাইব্রিড মডেল।’

পিসিবিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা হারুন ২০২০ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির সঙ্গে ছিলেন। তিনি প্রধান নির্বাচক, নির্বাচক, প্রধান কোচ, হাই পারফরম্যান্স ও ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান এবং ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন। ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে হারুন বলেন, ‘আমরা ইমরানকে বলেছিলাম, হাইব্রিড মডেলটাই আমাদের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে ভালো। কারণ আমরা দলসংখ্যা আটটিতে কমালেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভাগীয় দলগুলোর অংশগ্রহণ রেখেছিলাম।’

‘কিন্তু ইমরান আমাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে হাইব্রিড মডেল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি আটটি দল চান না, সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয়টি দল চান ঘরোয়া কাঠামোয়। আমরা তাকে বলেছিলাম, ধীরে ধীরে নতুন কাঠামোয় যাওয়া ভালো হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, সেটিই শুনতে হয়। তার উদ্দেশ্য ভালো হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সেটি কার্যকর হয়নি।’

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো আরও বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শও দিয়েছেন হারুন। তার মতে, ভারতের ক্রিকেটের শক্তি শুধু আইপিএলে নয়, বরং শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামোর ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। হারুন বলেন, ‘মানুষ আইপিএলের কথা বলে, কিন্তু ভারতে এখনো রঞ্জি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি, সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফি রয়েছে। তাদের রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোও স্বাধীন এবং ক্লাব পর্যায়েও নিয়মিত ঘরোয়া আয়োজন করে।’

‘পাকিস্তানে এখন সব ক্ষমতা পিসিবির হাতে। তাদের উচিত ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা এবং আঞ্চলিক অ্যাসোসিয়েশন ও বিভাগগুলোকে আরও স্বাধীনতা দেওয়া, যেমনটা অতীতে ছিল।’

২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান। বর্তমানে তিনি আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন এবং তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলায় সাজা ভোগ করছেন।

কালের আলো/এমআর

এলপি গ্যাসে কারচুপি, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
এলপি গ্যাসে কারচুপি, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রাজধানীসহ ৩০ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সঠিক ওজন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করাই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য।

সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযানে কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকারও জব্দ করা হয়।

এর মধ্যে সরবরাহ সংকটের কারণে অক্টোবর মাসে এলপি গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে সরকার। রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা এবং ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলা কিউআরের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলা কিউআরের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ব্যাংকিংয়ের হিসাব

দেশে ব্যাংকিং সেবার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ব্যাংকের শাখা কিংবা ওয়েবসাইটের পরিবর্তে স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করেই এখন ব্যাংকিংয়ের বড় অংশের কাজ সারছেন গ্রাহকরা। এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা বাংলা কিউআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই শেষে দেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এক বছর আগে, গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ ৬৬ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ, যা প্রায় তিন গুণ।

২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেনের জন্য বাংলা কিউআর চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলা কিউআরের ফলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকের গ্রাহককে শুধু সেই ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করতে হচ্ছে না। যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কিউআরভিত্তিক লেনদেনের আগ্রহ বাড়ছে।

অ্যাপ ব্যবহারকারীর পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। গত জুলাইয়ে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে, গত আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। অবশ্য একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল গত জুনে—১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কমছে ব্রাউজারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার। গত জুলাই শেষে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবা নেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৮৯ হাজার। বিপরীতে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি।

অ্যাপ ও ব্রাউজার মিলিয়ে গত জুলাই শেষে মোট ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, একসময় অ্যাপভিত্তিক লেনদেনকে মূলত এমএফএসের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হতো। বাংলা কিউআর চালুর পর ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছে। যেসব ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ছিল না, তাদেরও এ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফলে বাংলা কিউআর এখন শুধু একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা নয়; এটি ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা, অ্যাপ ব্যবহার এবং গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করছে।

ব্যাংকিং অ্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধির এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে বাংলা কিউআর ও অ্যাপভিত্তিক সেবা আরও বিস্তৃত হলে স্মার্টফোনই হয়ে উঠতে পারে দৈনন্দিন ব্যাংকিংয়ের প্রধান মাধ্যম।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জরুরি সংকেতের পর নিখোঁজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, মিলল ধ্বংসাবশেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
জরুরি সংকেতের পর নিখোঁজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, মিলল ধ্বংসাবশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ন্যান্টাকেট দ্বীপের উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। তবে বিমানটিতে থাকা ছয় আরোহীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের জানায়, সি-জিআরজেপি টেইল নম্বরের একটি গালফস্ট্রিম জি১০০ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এরপর ন্যান্টাকেটের আশপাশের বিশাল সমুদ্র এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর বিমানটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধ্বংসাবশেষের এলাকা শনাক্ত করা হয়। কানাডাভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত বিমানটিতে চারজন ক্রু ও দুজন যাত্রী ছিলেন।

কোম্পানির মুখপাত্র ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ জানিয়েছেন, আরোহীদের মধ্যে ছিলেন দুজন পাইলট, দুজন চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী ও রোগীর পরিবারের একজন সদস্য। চার ক্রু কানাডার নাগরিক এবং দুই যাত্রী বারমুডার নাগরিক।

প্রাথমিক ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। পরে অল্প সময়ের মধ্যে এটি ১০ থেকে ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।

নিখোঁজ ছয় আরোহীর সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। কোস্ট গার্ডের বিমান, হেলিকপ্টার ও নৌযান দিয়ে সমুদ্রে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ অভিযানে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে।

সূত্র: এনডিটিভি 

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি