খুঁজুন
                               
, ,
           

অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
অপতথ্যের ভিড়ে সাংবাদিকতার বড় পরীক্ষা, দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—সরকারের ভুল-ত্রুটি অবশ্যই তুলে ধরতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে; অপপ্রচার বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে নয়।

  • এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে তথ্য যাচাইয়ে দক্ষতার তাগিদ
  • সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরুন, তবে অপপ্রচার নয়

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু সাংবাদিকদের হাতে একটি সনদ তুলে দেওয়া নয়; বরং তথ্য যাচাই, বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে তাদের দক্ষ করে তোলা। দেশে অপতথ্য যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী, ঝুঁকিও তত বড়কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার

অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নারীদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সাংবাদিক না হয়েও অনেকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। এতে সত্য সংবাদ, মতামত এবং পরিকল্পিত অপতথ্যের সীমারেখা সাধারণ মানুষের কাছে ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা সাংবাদিকতার মৌলিক দক্ষতার অংশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি যাচাইহীন তথ্য যেমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি পরে সত্য প্রকাশ পেলেও সেই ভুল তথ্যের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।

দেশজুড়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
প্রকৃত সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের প্রশ্ন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের কথা বলবেন, সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন—এটাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু সেই সমালোচনার ভিত্তি হতে হবে তথ্য ও সত্য। অপতথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারকে সাংবাদিকতার হাতিয়ার বানানো হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা।

রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে যে ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, সেদিকে গণমাধ্যমকে নজর রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়াতে চায় না। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেওয়ার মতো আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশকে আরও সুন্দর ও উন্নত জায়গায় নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

অপতথ্যের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সাংবাদিকতার সামনে এখন একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে সুযোগ ও ঝুঁকি। একদিকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নতুন দরজা খুলছে, অন্যদিকে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে এই সময়ে সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়, তথ্য যাচাই, পেশাগত সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। সেই জায়গাটিকেই সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান—গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে, প্রশ্ন করবে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে; কিন্তু সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে সত্য ও দায়িত্বশীলতা। কারণ অপতথ্যের ভিড়ে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদই শেষ পর্যন্ত জনআস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটার লেম্বুরবন সৈকতে সমুদ্রভাঙনের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের দূষণ নতুন সংকট তৈরি করেছে। সৈকতের পাশে থাকা গাছগুলোর শিকড় ও কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ছেঁড়া জাল ও নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের টানে লেম্বুরবন সৈকতের বালু সরে যাওয়ায় অনেক গাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিকড়ের ফাঁকে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও জালের স্তূপ এবং কাণ্ডে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি জানান, মাছ ধরার সময় জাল ছিঁড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা সমুদ্রে থেকে যায়। আবার নৌকা থেকে ফেরার পর ছেঁড়া জাল সৈকত বা আশপাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটে। নির্দিষ্ট স্থানে জাল ও জালের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সেখানে এসব বর্জ্য জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

লেম্বুরবনের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সৈকতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও জমছে। এর মধ্যে ছেঁড়া মাছ ধরার জালও দেখা যায়। এসব বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি করছে।

পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে ছড়িয়ে থাকা জালের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও প্লাস্টিক ও নাইলনের জাল সহজে নষ্ট হয় না। এসব জালে বন্যপ্রাণী আটকে যেতে পারে এবং পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর বিচ ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাব্যান্ডন্ড, লস্ট অর ডিসকার্ডেড ফিশিং গিয়ার’ বা ‘ঘোস্ট গিয়ার’ বলা হয়। এসব জালে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে।

তার ভাষ্য, সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকা জাল প্রবাল, সি-গ্রাসসহ বিভিন্ন জলজ আবাসস্থলের ক্ষতি করে। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জাল সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জাল দীর্ঘদিন পানিতে থেকে মাছ ধরতে থাকলে তাকে ‘ঘোস্ট ফিশিং’ বলা হয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে।

বখতিয়ার রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জাল কেনা, ব্যবহার, হারিয়ে গেলে রিপোর্ট, উদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। জালে মালিক বা নৌকার পরিচয় নম্বর যুক্ত করা, পুরোনো জাল ফেরত দিলে প্রণোদনা দেওয়া এবং কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে জাল সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, উপকূলীয় গাছগুলো মাটি ও বালু ধরে রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় উন্মুক্ত হওয়ায় সেগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এর সঙ্গে জাল জড়িয়ে থাকলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে জাল অপসারণ প্রয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় জাল টেনে তুলতে না পারলে অনেক জেলে তা কেটে দেন। জালে প্যাঁচ লাগলেও কখনো কখনো জাল কেটে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের সঙ্গে এসব জাল সৈকতে চলে আসে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি মহিপুর ও আলীপুর মাছবাজারের গদি মালিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পৌরসভাকে জানানো হবে। লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির চরে দায়িত্ব পালনের সময় জেলেদের পরিত্যক্ত জাল না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এরপরও কেউ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং এসব জাল অপসারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৈকতে যাতে এ ধরনের বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে।

সমুদ্রভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া শিকড় আর তাতে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল কুয়াকাটার উপকূলীয় বনাঞ্চলের নাজুক অবস্থারই জানান দিচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাঠজুড়ে গর্ত-জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির সংকটে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে এ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠ সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ এখনো অসম্পূর্ণ। প্রাচীরের পাশে বৃষ্টির পানির প্রবাহে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে পুকুরের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাঠে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল সরকার বলেন, ভবনের বড় কোনো সংকট না থাকলেও বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে সীমানাপ্রাচীরের পাশে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগারটিও ভগ্নদশায় রয়েছে। এর পাশাপাশি একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইটালুকান্দা গ্রামের সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত মাঠ ভরাট এবং গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাঠের গর্ত ভরাট, সীমানাপ্রাচীরের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নষ্ট নলকূপ মেরামত এবং শৌচাগার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বকেয়া বিল ও পুনর্বাসন জটিলতায় আটকে ছিল প্রকল্প, দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ

জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বকেয়া বিল ও পুনর্বাসন জটিলতায় আটকে ছিল প্রকল্প, দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ

দীর্ঘদিনের ধীরগতি ও নানা জটিলতা কাটিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে গতি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে।

পরিদর্শনকালে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন, ঠিকাদারের বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ ও উপসচিব আহসান সাদী পরিদর্শনে অংশ নেন। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, কারিগরি সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখনো ১৪ থেকে ১৫টি পরিবার পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত সচিব আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব জটিলতা নিরসনের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেন।

সভায় প্রকল্পের নকশা ও কার্যপরিধি পরিবর্তনের বিষয়টিও উঠে আসে। ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অমরা রাজা ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর একতরফাভাবে বেশ কিছু কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্ট্যাটিক ভিএআর জেনারেটর (এসভিজি) এবং দুই বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও বাদ দেওয়া হয়েছে। এসভিজি না থাকলে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরের ঘাটাইল উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া আরপিসিএলের বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সভায় জানানো হয়।

বিষয়গুলো শুনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছে, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় নেওয়া ঋণের অব্যবহৃত অর্থের ওপর প্রতি ছয় মাসে দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি এড়াতে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরপিসিএল ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর অনুমতিও দিয়েছে।

পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে তারা পরিদর্শনে এসেছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের নিবিড় তদারকিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগোবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি