খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদেশে বাংলাদেশের মেধার জয়, অনাগ্রহ দেশে ফেরায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
বিদেশে বাংলাদেশের মেধার জয়, অনাগ্রহ দেশে ফেরায়

বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা বিশ্বজুড়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখছেন। কেউ গবেষণাগারে নতুন আবিষ্কারে যুক্ত, কেউ চিকিৎসাসেবায়, কেউ আবার গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা কিংবা অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে তাদের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে তৈরি হচ্ছে একটি অপ্রিয় ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন-দেশের মেধা কি শেষ পর্যন্ত দেশের কোন কাজে আসছে?

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পড়াশোনা শেষে বিদেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতাও। উন্নত কর্মপরিবেশ, গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ, উচ্চ বেতন, পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা তাদের বড় একটি অংশকে বিদেশেই ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করছে। বিপরীতে দেশে গবেষণার সীমিত সুযোগ, দক্ষ কর্মসংস্থানের ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের অভাব ফেরার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলছে।

বিদেশযাত্রা দ্বিগুণ, ব্যয়েও রেকর্ড
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫২ হাজারে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদেশে শিক্ষার পেছনে দেশের অর্থপ্রবাহও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের ব্যয় হয়েছে ৬৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা-যা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ। অর্থাৎ পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিনিয়োগে বিপুলসংখ্যক তরুণ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করছেন।

কিন্তু এই বিনিয়োগের কতটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি, গবেষণা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিরে আসে-তার কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব নেই। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে কতজন দেশে ফিরছেন, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান না থাকায় ব্রেন ড্রেনের প্রকৃত মাত্রা নিরূপণও কঠিন।

সুযোগ থাকলেই থেকে যান সবাই
সরকারি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিদেশে উচ্চশিক্ষার চিত্র তুলনামূলক ভিন্ন। শিক্ষা ছুটির নির্দিষ্ট শর্ত এবং চাকরিতে ফেরার বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের বড় অংশ দেশে ফিরে আসেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ শ্রেণির প্রায় ২০ শতাংশ বিদেশে থেকে যেতে পারেন। সাম্প্রতিক একটি উদাহরণও আলোচনায় এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পিএইচডির জন্য বিদেশে যাওয়া ১৩২ শিক্ষকের মধ্যে ২৮ জন দেশে ফেরেননি।

সংখ্যাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের চিত্র; তবে এটি বৃহত্তর বাস্তবতার একটি ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, নিজ উদ্যোগে স্কলারশিপ, ব্যক্তিগত অর্থায়ন কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে যারা পড়তে যান, তাদের ফেরার ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই শ্রেণির ৬০ শতাংশেরও বেশি পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরেন না। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে তাদের কাছে অধিক যৌক্তিক।

ঘাটতি মেধাকে ধরে রাখার পরিবেশে
বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের তালিকাটি দীর্ঘ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন অ্যামাজনে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রিচিতা খন্দকার রিফাত গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আনামিকা আহমেদ মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজী মোহাইমিন ইকবাল মেটা এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিহাব রশিদ অ্যাপলে কাজ করছেন। তাদের সাফল্য দেখিয়ে দেয়, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সক্ষমতার ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে সেই মেধাকে দেশে ধরে রাখার মতো পরিবেশে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যে দক্ষতাকে মূল্য দিচ্ছে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো একই মেধার জন্য সমপর্যায়ের সুযোগ তৈরি করতে পারছে কি না-সেখানেই মূল প্রশ্ন।

ব্রেন ড্রেনের আসল মূল্য ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল লস’
ব্রেন ড্রেনের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের হিসাবে ধরা পড়ে না। এর প্রভাব পড়ে দীর্ঘমেয়াদে। একজন শিক্ষার্থী যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সামাজিক বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়ে বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে অন্য দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হন, তখন তার অর্জিত দক্ষতার বড় অংশের সুফল গন্তব্য দেশ পায়। ফলে গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষায় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। অর্থনীতির পরিভাষায় এটি ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল লস’—মানবসম্পদ তৈরিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন অন্য অর্থনীতি ভোগ করছে।

তরুণদের না ফিরতে চাওয়ার কারণ
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং সঠিক পরিবেশ থাকলে এটি জাতীয় সম্পদে পরিণত হতে পারে। এজন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন, গবেষণার স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে। কারণ একজন মেধাবী তরুণ শুধু ভালো বেতনের জন্য বিদেশে থাকেন না; তিনি দেখেন তার কাজের মূল্য কতটা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কতটা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কোথায় বেশি।

মেধার জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো বিশ্বের দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত জনশক্তিকে আকৃষ্ট করতে পরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের কাছে বিদেশি মেধাবীরা কেবল শিক্ষার্থী নন, ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও করদাতা। বাংলাদেশের তরুণরা যখন এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে প্রবেশ করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ধরে রাখতে গন্তব্য দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুযোগ বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে শুধু দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে এই প্রবণতা ঠেকানো কঠিন।

শুধু প্রয়োজন ‘ব্রেন সার্কুলেশন’
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে রিভার্স ব্রেন ড্রেন নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু বাংলাদেশির দেশে ফেরার আগ্রহ সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি কোনো দৃশ্যমান জাতীয় প্রবণতায় রূপ নেয়নি।

সরকার অবশ্য ‘ব্রেন ড্রেন’ বন্ধ করে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এর দিকে যেতে চায়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের দেশে ফিরে কাজ করার পরিবেশ তৈরির কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও একাডেমিকদের যৌথ গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দেশের গবেষণাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই নীতি বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ওপর-বিদেশ থেকে মেধা ফেরানোর চেয়ে দেশে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মেধাবীরা নিজেরাই ফিরতে চাইবেন।

কালের আলো/এম/এএই

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি