খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদেশে বাংলাদেশের মেধার জয়, অনাগ্রহ দেশে ফেরায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
বিদেশে বাংলাদেশের মেধার জয়, অনাগ্রহ দেশে ফেরায়

বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা বিশ্বজুড়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখছেন। কেউ গবেষণাগারে নতুন আবিষ্কারে যুক্ত, কেউ চিকিৎসাসেবায়, কেউ আবার গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা কিংবা অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে তাদের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে তৈরি হচ্ছে একটি অপ্রিয় ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন-দেশের মেধা কি শেষ পর্যন্ত দেশের কোন কাজে আসছে?

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পড়াশোনা শেষে বিদেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতাও। উন্নত কর্মপরিবেশ, গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ, উচ্চ বেতন, পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা তাদের বড় একটি অংশকে বিদেশেই ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করছে। বিপরীতে দেশে গবেষণার সীমিত সুযোগ, দক্ষ কর্মসংস্থানের ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের অভাব ফেরার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলছে।

বিদেশযাত্রা দ্বিগুণ, ব্যয়েও রেকর্ড
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫২ হাজারে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদেশে শিক্ষার পেছনে দেশের অর্থপ্রবাহও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের ব্যয় হয়েছে ৬৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা-যা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ। অর্থাৎ পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিনিয়োগে বিপুলসংখ্যক তরুণ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করছেন।

কিন্তু এই বিনিয়োগের কতটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি, গবেষণা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিরে আসে-তার কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব নেই। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে কতজন দেশে ফিরছেন, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান না থাকায় ব্রেন ড্রেনের প্রকৃত মাত্রা নিরূপণও কঠিন।

সুযোগ থাকলেই থেকে যান সবাই
সরকারি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিদেশে উচ্চশিক্ষার চিত্র তুলনামূলক ভিন্ন। শিক্ষা ছুটির নির্দিষ্ট শর্ত এবং চাকরিতে ফেরার বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের বড় অংশ দেশে ফিরে আসেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ শ্রেণির প্রায় ২০ শতাংশ বিদেশে থেকে যেতে পারেন। সাম্প্রতিক একটি উদাহরণও আলোচনায় এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পিএইচডির জন্য বিদেশে যাওয়া ১৩২ শিক্ষকের মধ্যে ২৮ জন দেশে ফেরেননি।

সংখ্যাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের চিত্র; তবে এটি বৃহত্তর বাস্তবতার একটি ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, নিজ উদ্যোগে স্কলারশিপ, ব্যক্তিগত অর্থায়ন কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে যারা পড়তে যান, তাদের ফেরার ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই শ্রেণির ৬০ শতাংশেরও বেশি পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরেন না। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে তাদের কাছে অধিক যৌক্তিক।

ঘাটতি মেধাকে ধরে রাখার পরিবেশে
বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের তালিকাটি দীর্ঘ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন অ্যামাজনে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রিচিতা খন্দকার রিফাত গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আনামিকা আহমেদ মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজী মোহাইমিন ইকবাল মেটা এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিহাব রশিদ অ্যাপলে কাজ করছেন। তাদের সাফল্য দেখিয়ে দেয়, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সক্ষমতার ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে সেই মেধাকে দেশে ধরে রাখার মতো পরিবেশে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যে দক্ষতাকে মূল্য দিচ্ছে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো একই মেধার জন্য সমপর্যায়ের সুযোগ তৈরি করতে পারছে কি না-সেখানেই মূল প্রশ্ন।

ব্রেন ড্রেনের আসল মূল্য ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল লস’
ব্রেন ড্রেনের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের হিসাবে ধরা পড়ে না। এর প্রভাব পড়ে দীর্ঘমেয়াদে। একজন শিক্ষার্থী যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সামাজিক বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়ে বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে অন্য দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হন, তখন তার অর্জিত দক্ষতার বড় অংশের সুফল গন্তব্য দেশ পায়। ফলে গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষায় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। অর্থনীতির পরিভাষায় এটি ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল লস’—মানবসম্পদ তৈরিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন অন্য অর্থনীতি ভোগ করছে।

তরুণদের না ফিরতে চাওয়ার কারণ
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং সঠিক পরিবেশ থাকলে এটি জাতীয় সম্পদে পরিণত হতে পারে। এজন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন, গবেষণার স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে। কারণ একজন মেধাবী তরুণ শুধু ভালো বেতনের জন্য বিদেশে থাকেন না; তিনি দেখেন তার কাজের মূল্য কতটা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কতটা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কোথায় বেশি।

মেধার জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো বিশ্বের দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত জনশক্তিকে আকৃষ্ট করতে পরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের কাছে বিদেশি মেধাবীরা কেবল শিক্ষার্থী নন, ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও করদাতা। বাংলাদেশের তরুণরা যখন এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে প্রবেশ করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ধরে রাখতে গন্তব্য দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুযোগ বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে শুধু দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে এই প্রবণতা ঠেকানো কঠিন।

শুধু প্রয়োজন ‘ব্রেন সার্কুলেশন’
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে রিভার্স ব্রেন ড্রেন নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু বাংলাদেশির দেশে ফেরার আগ্রহ সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি কোনো দৃশ্যমান জাতীয় প্রবণতায় রূপ নেয়নি।

সরকার অবশ্য ‘ব্রেন ড্রেন’ বন্ধ করে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এর দিকে যেতে চায়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া তরুণদের দেশে ফিরে কাজ করার পরিবেশ তৈরির কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও একাডেমিকদের যৌথ গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দেশের গবেষণাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই নীতি বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ওপর-বিদেশ থেকে মেধা ফেরানোর চেয়ে দেশে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মেধাবীরা নিজেরাই ফিরতে চাইবেন।

কালের আলো/এম/এএই

গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
গ্রামেই কর্মসংস্থান গড়ছে বেতাগীর মিনি কারখানা

বরগুনার বেতাগীতে স্থানীয় উদ্যোগ ও পুঁজিতে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’। গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠা এই কারখানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে নারী, যুবক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে। শহরের শিল্পাঞ্চলে না গিয়েও নিজ এলাকায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে কারখানা
বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক সড়কঘেঁষে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের কাজীর হাটের তুলতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘গ্রিন লিভ ফ্যাশন’ নামের এই ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। তবে চলতি বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে এখানে ২৫ জন পোশাকশ্রমিক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীরাও রয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা কারখানাটি এলাকার মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছে। গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় শ্রমিকদের অনেককে জীবিকার জন্য দূরের শহরে যেতে হচ্ছে না।

নিজ এলাকায় কাজ পেয়ে স্বস্তিতে শ্রমিকেরা
কারখানার শ্রমিক মনিরুল ইসলাম (৪০) বলেন, শহরে না গিয়ে নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পাওয়ায় গ্রামীণ মানুষের আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

কারখানার আরেক শ্রমিক তানিয়া বেগম (৪৬) জানান, এখানে অসহায় গ্রামীণ নারীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন। নিজের এলাকায় থেকেই উপার্জন করতে পারছেন তিনি। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। শ্রমিক রোকসানা আক্তার (৩৫) বলেন, আগে গ্রামের অনেক নারী ঢাকা, গাজীপুর কিংবা চট্টগ্রামের মতো বড় শিল্পাঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে পারতেন না। এখন বাড়ির কাছেই কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাঁদের জন্য উপার্জন করা সহজ হচ্ছে।

স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার আশা
বেতাগী বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুন কৃষ্ণ কর্মকার মনে করেন, বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজারে এই কারখানায় তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে ক্ষুদ্র এই উদ্যোগের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণ, বিদ্যুৎ ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর তাগিদ
ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের প্রসারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসীন খান। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের আধুনিক সেলাই ও পোশাক ডিজাইনের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। উৎপাদিত পোশাক বড় শহর ও বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও জরুরি। তাঁর মতে, এসব সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষুদ্র পোশাকশিল্পের বিস্তার কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজারসংযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।

সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা চান উদ্যোক্তা
গ্রিন লিভ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহায়তা পেলে উৎপাদন বাড়ানো এবং আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, গ্রামীণ জনপদে মিনি পোশাক কারখানা গড়ে ওঠা এলাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর ফলে কাজের সন্ধানে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। স্থানীয় পুঁজি, উদ্যোক্তার উদ্যোগ এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা গ্রিন লিভ ফ্যাশন এখন বেতাগীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অচল এক্স-রে ডেন্টাল চেয়ারও বন্ধ

রাজবাড়ী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
অচল এক্স-রে ডেন্টাল চেয়ারও বন্ধ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় দেখা দিয়েছে নানা সংকট। এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ এক্স-রে কক্ষ, আর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডেন্টাল চেয়ার। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলার বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

এক বছর ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার
হাসপাতালটিতে আধুনিক মানের অপারেশন থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সুযোগ না থাকায় যেসব রোগীর অপারেশন প্রয়োজন, তাঁদের বিকল্প চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াতের দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।

টেকনিশিয়ান নেই, তালাবদ্ধ এক্স-রে কক্ষ
হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে জাপানে তৈরি ‘একোমা-১০০’ মডেলের একটি পুরোনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন রয়েছে। ১৯৮৫ সালে স্থাপন করা এই মেশিনটি প্রথম দিকে কয়েক বছর সচল ছিল। পরে পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এতে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বারবার মেরামত করে মেশিনটি কোনো রকমে সচল রাখা হলেও একপর্যায়ে মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। পরে পদটি পূরণ না করায় গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের এক্স-রে করাতে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কম খরচে পরীক্ষা করানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

ডেন্টাল চেয়ার অকেজো, শূন্য চিকিৎসকের পদ
দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। হাসপাতালটিতে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে দাঁতের চিকিৎসার জন্য একটি নতুন ডেন্টাল চেয়ার স্থাপন করা হয়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকে চেয়ারটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিকে, হাসপাতালটিতে ডেন্টাল সার্জন ও মেডিক্যাল ডেন্টাল টেকনোলজিস্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কারিগরি জনবল না থাকায় দাঁতের চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে
হাসপাতালটির বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. রোমেল হাসান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে কক্ষ ও ডেন্টাল সেবা পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি