রাতের আঁধারে পদ্মায় বিলীন মসজিদ, ফজরে এসে হতবাক মুসল্লিরা
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রাকিরকান্দি এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে এশার নামাজ আদায় করে মাদ্রাসায় ঘুমাতে যান মুসল্লিরা। সকালে ফজরের নামাজ পড়তে এসে তাঁরা দেখেন, মসজিদটি আর নেই। এখন মাদ্রাসার মাঠে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় নদীভাঙন চলছে। গত দুই দিনে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার মসজিদ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির জমি ও মাহফিলের মাঠের বড় অংশ পদ্মায় বিলীন হয়েছে। আশপাশের অনেক বাড়িঘরও ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার শিক্ষক খালেক সাইফুল জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে ভাঙন চলছে। মাদ্রাসার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে পানি নামায় পদ্মায় স্রোত বেড়েছে। সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখীসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও ভাঙন চলছে।
ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তীব্র স্রোতে আগের প্রতিরোধব্যবস্থা ধসে পড়েছে।
রোববার ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় ভাঙনরোধে ৪০০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, ভাঙনরোধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পদ্মায় পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সাধ্যমতো কাজ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদীগুলোতে পানির উচ্চতা ও স্রোত বাড়লেও পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে

আপনার মতামত লিখুন
Array