খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জয়া আর শারমিন’ সেরা, ‘মামুন’ পেল জুরি মেনশন

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জয়া আর শারমিন’ সেরা, ‘মামুন’ পেল জুরি মেনশন

কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘জয়া আর শারমিন’। একই উৎসবে প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’।

পিপলু আর খানের পরিচালনায় নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জিতে নিয়েছে ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’। অন্যদিকে মকবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে ‘জুরি মেনশন’।

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় উৎসবটি। রোববার সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

৩৮টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা

ছয় দিনের এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয় ১৯টি সিনেমা।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্রও উৎসবে অংশ নেয়।

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগের বিচারক প্যানেলে ছিলেন অধ্যাপক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, রীতা দত্ত ও প্রদীপ কেনচানুরু।

এই বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার সিনেমা ‘রিভার টেলস’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন পঙ্কজ বরা। জুরি মেনশন পেয়েছে শ্রীলঙ্কার নাদিয়ে ওয়াসালামুদালিআরাচ্চি পরিচালিত ‘প্যানট্রাম’।

‘মামুন’ পেল বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি

প্রামাণ্যচিত্র বিভাগেও বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে। মকবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’।

এই বিভাগে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে রণজিৎ রায় পরিচালিত ‘ডলস ডোন্ট ডাই: পুতুলনামা’। দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে দীপ ভূঞার ‘রিভার স্টিল ফ্লোজ’।

স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা হয়েছে ড. ধৃতিশ্রী সরকার পরিচালিত ‘দ্য টেল অব কথা’। দ্বিতীয় সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ইরানি চলচ্চিত্র ‘সাডেনলি রাইজ’।

দুই নারীর সম্পর্কের গল্প ‘জয়া আর শারমিন’

মহামারির সময়কার লকডাউনের পটভূমিতে নির্মিত বাংলা ভাষার ৮৬ মিনিটের মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র ‘জয়া আর শারমিন’। ছবির গল্পে উঠে এসেছে অভিনেত্রী জয়া ও তাঁর গৃহকর্মী শারমিনের সম্পর্কের পরিবর্তন।

একই ছাদের নিচে আটকে থাকা দুই নারীর নিঃসঙ্গতা, পারস্পরিক মানসিক নির্ভরতা এবং তাঁদের সম্পর্কের ভেতরে থাকা শ্রেণি ও ক্ষমতার ব্যবধানকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কাহিনি।

জয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান এবং শারমিনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মঞ্চাভিনেত্রী মহসিনা আক্তার। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন আবু শাহেদ ইমন, জয়া আহসান ও পিপলু আর খান।

‘জয়া আর শারমিন’-এর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন ছবির প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন। তিনি উৎসবে চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের উষ্ণ সাড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসএ

৮০০ টাকায় আনারকলি চাষ, স্বপ্ন দেখছেন সোহেল

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
৮০০ টাকায় আনারকলি চাষ, স্বপ্ন দেখছেন সোহেল

মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি চাষ শুরু করেছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা সেই চাষে এখন গাছে গাছে ফল ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফল বিক্রি করেও পাচ্ছেন ভালো সাড়া। আর এ সাফল্যকে পুঁজি করে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষাবাদ ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে কৃষিতে উদ্যোগ
সোহেল আকন্দ ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে। বিদেশে যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে একপর্যায়ে দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। পরে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই ভাবনা থেকেই কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সোহেল। প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি প্যাশন ফ্রুটের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। শুরুর দিকে অবশ্য পথটা সহজ ছিল না। গাছে ফুল এলেও তা ঝরে পড়ত। ফলে ফল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। পরে বিভিন্ন মানুষের পরায়ে গামর্শ নিছের নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গাছগুলোতে ফল ধরতে থাকে। বর্তমানে নিজের উদ্যোগের ফল দেখতে পাচ্ছেন সোহেল।

প্রতি কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়
সোহেলের বাগানে উৎপাদিত আনারকলি ফল আকারভেদে প্রতিটি ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি ফলের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এক কেজিতে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি ফল পাওয়া যায়। ফেসবুকে ফলের ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ ফল কিনতে চাইছেন, আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন চারা সংগ্রহে। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বাইরের এলাকা থেকেও অনেকে তার বাগান দেখতে আসছেন।

বাড়ির উঠানে শুধু প্যাশন ফ্রুট চাষই নয়, ছোট কটি এনার্সারিও গড়ে তুলেছেন সোহেল। সেখানে বিভিন্ন জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা রয়েছে। ফলে ফল বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমেও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে তার সামনে।

স্বাদ থেকেই চাষের আগ্রহ
সোহেল জানান, প্রথমে কক্সবাজারে গিয়ে প্যাশন ফ্রুটের স্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। ফলটি ভালো লাগায় নিজের এলাকায় এর চাষ করার ইচ্ছা তৈরি হয়। তবে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করতে তাকে বেশ ঘুরতে হয়েছে। পরে একটি বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। তিনি বলেন, শুরুতে প্যাশন ফ্রুটের চাষাবাদ সম্পর্কে তার তেমন ধারণা ছিল না। ফুল ঝরে পড়াসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে বিভিন্নজনের পরামর্শ নিয়ে গাছের যত্ন নেওয়া শুরু করেন।

সোহেল আরও বলেন, তার উৎপাদিত ফল কিনতে ফেসবুকে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। পরিচিত বন্ধুবান্ধবেরাও ফল চাইছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান দেখতে আসছেন এবং অনেকে চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এলাকায় ফলটি নতুন হলেও এর চাহিদা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। বর্তমানে অল্প পরিসরে চাষ করলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে প্যাশন ফ্রুট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সোহেলের। পাশাপাশি চারা উৎপাদনের কাজও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি।

তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা
সোহেলের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূঞাপুরের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আমিন বলেন, তাদের এলাকায় আগে এই ফল তেমন দেখা যেত না। সোহেলের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি শুধু ফল বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চারা উৎপাদনেও উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে এলাকার অন্য তরুণেরাও এ ধরনের চাষে আগ্রহী হতে পারেন। খন্দকার আমিনের মতে, কৃষিতে নতুন ধরনের উদ্যোগ বেকার তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতার আশ্বাস
ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে সোহেলের আনারকলির বাগান পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই ফলের বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। মাত্র ৮০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া সোহেলের এই উদ্যোগ এখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ চাষকে লাভজনক করতে উৎপাদন বাড়ানো, গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, বাজার সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সোহেলের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী চাষের পরিধি বাড়াতে পারলে কৃষিই হয়ে উঠবে তার স্বাবলম্বী হওয়ার পথ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও ওপরের দিকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১৭৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তালিকার শীর্ষে লাহোর, দ্বিতীয় কুচিং
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ২০৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৭৬। এ ছাড়া ১৭৩ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে এবং ১৫৮ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের করাচি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তালিকার এই অবস্থান নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। বায়ুদূষণের মাত্রা আবহাওয়া, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণের কারণে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

কোন স্কোরে বায়ুর মান কেমন
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সে হিসাবে ঢাকার ১৭৬ স্কোরের বাতাস সবার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের জন্য।

দূষিত বাতাসে সতর্কতা জরুরি
বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান ও ভারী শারীরিক পরিশ্রম কমানো ভালো। বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বায়ুদূষণ বেশি থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ ও বায়ুমান পরিস্থিতি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বিজ্ঞাপনের চকচকে ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপনের চকচকে ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

চকোলেট, চিপস, আইসক্রিম কিংবা ফাস্টফুডের প্রতি শিশুদের বাড়তি আগ্রহকে অনেক অভিভাবক স্বাভাবিক আবদার হিসেবে দেখেন। কিন্তু টেলিভিশন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন যখন বারবার এসব পণ্যের প্রতি শিশুদের মনোযোগ টেনে নেয়, তখন বিষয়টি আর নিছক পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভোগের এই সংস্কৃতি প্রভাব ফেলতে পারে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস, মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও পারিবারিক সম্পর্কেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন তাদের চাহিদা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রচার শিশুদের পুষ্টিকর খাবার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে দামি খেলনা, পোশাক ও ডিজিটাল গ্যাজেটের বিজ্ঞাপন তাদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও প্রত্যাশার জন্ম দিতে পারে।

  • চিপস-চকোলেট থেকে দামি গ্যাজেট, শিশুদের মনস্তত্ত্বকে পুঁজি করে বাড়ছে পণ্যের চাহিদা
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ঠেকাতে কঠোর নীতিমালার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
  • সুরক্ষায় পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

বিজ্ঞাপনের আকর্ষণ, চাহিদার নতুন চক্র
শিশুরা বিজ্ঞাপনে দেখানো রং, সংগীত, চরিত্র ও আনন্দময় দৃশ্যের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়। কোনো পণ্যকে আনন্দ, জনপ্রিয়তা কিংবা বন্ধুদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটি পাওয়ার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। বিপণনকারীরা এই মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে পণ্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেন।

কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেলে কিছু শিশু কান্নাকাটি, রাগ কিংবা জেদের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এসব আচরণকে শুধু বিজ্ঞাপনের ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শিশুর বয়স, পারিবারিক পরিবেশ, আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়াও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা তৈরি হয় যখন শিশুর কাছে আনন্দ ও তৃপ্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে নতুন পণ্য কেনা। এতে প্রয়োজন আর ইচ্ছার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা এবং হতাশা সামলানোর অভ্যাস গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জাঙ্ক ফুডের প্রচার, পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা
খাবারের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় পরিবেশনা শিশুদের খাদ্যপছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। চিপস, মিষ্টিজাতীয় খাবার, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুডের প্রতি আগ্রহ বাড়লে ঘরে তৈরি সুষম খাবারের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র পুষ্টিবিদ শারমিন আকতার বলেন, চিপস, চকোলেট, আইসক্রিম ও ফাস্টফুডজাতীয় খাবারে ক্ষতিকর চর্বি থাকতে পারে। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফাস্টফুড ও মিষ্টি পানীয়ের অতিরিক্ত গ্রহণ শিশুদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি মনে করেন, প্যাকেটের আকর্ষণীয় নকশা এবং দোকানে শিশুদের চোখে পড়ে এমন স্থানে পণ্য সাজিয়ে রাখাও তাদের আগ্রহ বাড়ায়। তাই পরিবারের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পণ্যের বিজ্ঞাপন ও বিপণনে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে শৈশবের স্থূলতা, দাঁতের ক্ষয় ও ভবিষ্যতে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে এসব পণ্য বেশি খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।

তুলনার চাপ থেকে আত্মবিশ্বাসের সংকট
বিজ্ঞাপনে দামি পোশাক, অত্যাধুনিক খেলনা কিংবা নির্দিষ্ট শারীরিক গঠনকে আকর্ষণীয় জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। শিশুরা এসব দৃশ্যের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করতে শুরু করলে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৈশোরে শরীর ও চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার মনে করেন, শিশুদের আকৃষ্ট করার মতো উপস্থাপনায় ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন তাদের আগ্রহ বাড়ায়। এসব খাবারের প্রতি অভ্যাস গড়ে উঠলে না পেলে রাগ ও জেদের মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, বিজ্ঞাপনে নৈতিকতা বজায় রাখা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অভিভাবকেরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পণ্য কিনে দিতে না পারলে শিশুর সঙ্গে বিরোধও তৈরি হতে পারে। তাই শুধু নিষেধ না করে কেন সব পণ্য প্রয়োজনীয় নয়, তা বয়স অনুযায়ী বুঝিয়ে বলা দরকার।

পর্দার সময় বাড়লে কমে খেলাধুলা
ডিজিটাল গেম ও গ্যাজেটের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ শিশুদের মাঠে খেলাধুলা, ঘুম এবং সরাসরি সামাজিক যোগাযোগের সময় কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও শারীরিক সক্রিয়তার অভাব ওজন বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব ডিজিটাল ব্যবহারই ক্ষতিকর নয়। বয়সোপযোগী কনটেন্ট, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পড়াশোনা, বিশ্রাম ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন পরিবার ও দায়িত্বশীল বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহজাদা সেলিমের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে নীতিমালা প্রয়োজন। শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহও শিশুদের বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন।

সমাধানের জন্য বিজ্ঞাপনে পণ্যের স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য, শিশুদের লক্ষ্য করে বিপণনে উপযুক্ত বিধিনিষেধ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টিশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিভাবকদেরও শিশুদের সামনে নিজেরা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় সীমা নির্ধারণ এবং বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।

শিশুদের পণ্য কেনার আকাঙ্ক্ষাকে অপরাধ হিসেবে না দেখে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও বাস্তবতা বোঝার দক্ষতা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মুনাফার প্রতিযোগিতায় শিশুদের মনস্তত্ত্ব যেন অসহায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনদাতা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

কালের আলো/টিইকে/এমকে