খুঁজুন
                               
, ,
           

মেসির ১৪ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইয়ামাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
মেসির ১৪ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইয়ামাল

লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লামিনে ইয়ামাল এবার স্পর্শ করলেন লিওনেল মেসির ১৪ বছর আগের এক রেকর্ড। লেভান্তের বিপক্ষে জোড়া গোল করে টানা তৃতীয় লিগ ম্যাচে দুই গোল করার কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। রায়ো ভায়েকানো ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এবার লেভান্তের বিপক্ষেও দুই গোল করে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে অন্তত দুই গোল করার কীর্তি গড়লেন।

লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচে জোড়া গোল করা সর্বশেষ খেলোয়াড় ছিলেন মেসি। ২০১২ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে এই কীর্তি গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। ১৪ বছর পর মেসির সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইয়ামাল—তাও আবার বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে।

পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল

লেভান্তের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জাভি এসপার্ট। ১৯ মিনিটে রাফিনিয়ার পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়ামাল।

বিরতির পর পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বার্সেলোনার ১০ নম্বর। বক্সের মধ্যে ইয়ামালকে ফাউল করেছিলেন আইসা মান্দি। স্পটকিক থেকে গোল করে টানা তৃতীয় লিগ ম্যাচে জোড়া গোলের কীর্তি গড়েন তিনি।

শেষদিকে জমে উঠেছিল ম্যাচ

৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ম্যাচের শেষ দিকে চাপে পড়ে বার্সেলোনা। ৭৯ মিনিটে ইভান রোমেরো লেভান্তের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।

যোগ করা সময়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন করিম আদেয়েমি। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।

এই জয়ে লা লিগায় পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

শুরুতেই একের পর এক মাইলফলক

মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইয়ামাল একের পর এক রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়ে চলেছেন। তাঁর পারফরম্যান্সে বার্সেলোনাও পেয়েছে নিখুঁত শুরু।

মেসির ২০১২ সালের রেকর্ড স্পর্শ করার কয়েক ঘণ্টা আগেই আরেকটি দীর্ঘদিনের রেকর্ডে ভাগ বসানোর ঘটনা ঘটে। ২০০৯ সালের জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের একটি রেকর্ডে নাম লেখান পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং। অর্থাৎ একই দিনে এক দশকের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা দুটি রেকর্ডে নতুন খেলোয়াড়ের নাম যুক্ত হলো।

কালের আলো/এসএ

বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও ওপরের দিকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১৭৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তালিকার শীর্ষে লাহোর, দ্বিতীয় কুচিং
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ২০৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৭৬। এ ছাড়া ১৭৩ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে এবং ১৫৮ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের করাচি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তালিকার এই অবস্থান নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। বায়ুদূষণের মাত্রা আবহাওয়া, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণের কারণে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

কোন স্কোরে বায়ুর মান কেমন
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সে হিসাবে ঢাকার ১৭৬ স্কোরের বাতাস সবার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের জন্য।

দূষিত বাতাসে সতর্কতা জরুরি
বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান ও ভারী শারীরিক পরিশ্রম কমানো ভালো। বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বায়ুদূষণ বেশি থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ ও বায়ুমান পরিস্থিতি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বিজ্ঞাপনের চকচকে ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপনের চকচকে ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

চকোলেট, চিপস, আইসক্রিম কিংবা ফাস্টফুডের প্রতি শিশুদের বাড়তি আগ্রহকে অনেক অভিভাবক স্বাভাবিক আবদার হিসেবে দেখেন। কিন্তু টেলিভিশন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন যখন বারবার এসব পণ্যের প্রতি শিশুদের মনোযোগ টেনে নেয়, তখন বিষয়টি আর নিছক পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভোগের এই সংস্কৃতি প্রভাব ফেলতে পারে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস, মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও পারিবারিক সম্পর্কেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন তাদের চাহিদা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রচার শিশুদের পুষ্টিকর খাবার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে দামি খেলনা, পোশাক ও ডিজিটাল গ্যাজেটের বিজ্ঞাপন তাদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও প্রত্যাশার জন্ম দিতে পারে।

  • চিপস-চকোলেট থেকে দামি গ্যাজেট, শিশুদের মনস্তত্ত্বকে পুঁজি করে বাড়ছে পণ্যের চাহিদা
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ঠেকাতে কঠোর নীতিমালার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
  • সুরক্ষায় পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

বিজ্ঞাপনের আকর্ষণ, চাহিদার নতুন চক্র
শিশুরা বিজ্ঞাপনে দেখানো রং, সংগীত, চরিত্র ও আনন্দময় দৃশ্যের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়। কোনো পণ্যকে আনন্দ, জনপ্রিয়তা কিংবা বন্ধুদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটি পাওয়ার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। বিপণনকারীরা এই মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে পণ্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেন।

কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেলে কিছু শিশু কান্নাকাটি, রাগ কিংবা জেদের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এসব আচরণকে শুধু বিজ্ঞাপনের ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শিশুর বয়স, পারিবারিক পরিবেশ, আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়াও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা তৈরি হয় যখন শিশুর কাছে আনন্দ ও তৃপ্তির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে নতুন পণ্য কেনা। এতে প্রয়োজন আর ইচ্ছার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা এবং হতাশা সামলানোর অভ্যাস গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জাঙ্ক ফুডের প্রচার, পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা
খাবারের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় পরিবেশনা শিশুদের খাদ্যপছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। চিপস, মিষ্টিজাতীয় খাবার, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুডের প্রতি আগ্রহ বাড়লে ঘরে তৈরি সুষম খাবারের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র পুষ্টিবিদ শারমিন আকতার বলেন, চিপস, চকোলেট, আইসক্রিম ও ফাস্টফুডজাতীয় খাবারে ক্ষতিকর চর্বি থাকতে পারে। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফাস্টফুড ও মিষ্টি পানীয়ের অতিরিক্ত গ্রহণ শিশুদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি মনে করেন, প্যাকেটের আকর্ষণীয় নকশা এবং দোকানে শিশুদের চোখে পড়ে এমন স্থানে পণ্য সাজিয়ে রাখাও তাদের আগ্রহ বাড়ায়। তাই পরিবারের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পণ্যের বিজ্ঞাপন ও বিপণনে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে শৈশবের স্থূলতা, দাঁতের ক্ষয় ও ভবিষ্যতে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে এসব পণ্য বেশি খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।

তুলনার চাপ থেকে আত্মবিশ্বাসের সংকট
বিজ্ঞাপনে দামি পোশাক, অত্যাধুনিক খেলনা কিংবা নির্দিষ্ট শারীরিক গঠনকে আকর্ষণীয় জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। শিশুরা এসব দৃশ্যের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করতে শুরু করলে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৈশোরে শরীর ও চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার মনে করেন, শিশুদের আকৃষ্ট করার মতো উপস্থাপনায় ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন তাদের আগ্রহ বাড়ায়। এসব খাবারের প্রতি অভ্যাস গড়ে উঠলে না পেলে রাগ ও জেদের মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, বিজ্ঞাপনে নৈতিকতা বজায় রাখা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অভিভাবকেরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পণ্য কিনে দিতে না পারলে শিশুর সঙ্গে বিরোধও তৈরি হতে পারে। তাই শুধু নিষেধ না করে কেন সব পণ্য প্রয়োজনীয় নয়, তা বয়স অনুযায়ী বুঝিয়ে বলা দরকার।

পর্দার সময় বাড়লে কমে খেলাধুলা
ডিজিটাল গেম ও গ্যাজেটের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ শিশুদের মাঠে খেলাধুলা, ঘুম এবং সরাসরি সামাজিক যোগাযোগের সময় কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও শারীরিক সক্রিয়তার অভাব ওজন বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব ডিজিটাল ব্যবহারই ক্ষতিকর নয়। বয়সোপযোগী কনটেন্ট, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পড়াশোনা, বিশ্রাম ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন পরিবার ও দায়িত্বশীল বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির মহাসচিব ডা. শাহজাদা সেলিমের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে নীতিমালা প্রয়োজন। শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহও শিশুদের বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন।

সমাধানের জন্য বিজ্ঞাপনে পণ্যের স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য, শিশুদের লক্ষ্য করে বিপণনে উপযুক্ত বিধিনিষেধ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টিশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিভাবকদেরও শিশুদের সামনে নিজেরা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় সীমা নির্ধারণ এবং বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।

শিশুদের পণ্য কেনার আকাঙ্ক্ষাকে অপরাধ হিসেবে না দেখে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও বাস্তবতা বোঝার দক্ষতা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মুনাফার প্রতিযোগিতায় শিশুদের মনস্তত্ত্ব যেন অসহায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনদাতা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

সৌদির জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চিঠিতে ছয় প্রশ্ন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদির জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চিঠিতে ছয় প্রশ্ন

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে দেশটির সরকারের কাছে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে। তবে এখনো সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রেক্ষাপটে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, আদালতের রায়, দণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, মরদেহের অবস্থান এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সৌদি কর্মকর্তার কাছে কূটনৈতিক পত্র হস্তান্তর
সূত্র জানায়, গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকে তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে ছয়টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত এসব তথ্য সরবরাহ করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যে ছয় বিষয়ে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পাঠানো কূটনৈতিক পত্রে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে, দুই বাংলাদেশি কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন, ঘটনাগুলো কবে ও কোথায় ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ ও বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় প্রশ্নে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। দণ্ড প্রকাশ্যে তলোয়ার দিয়ে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে—চিঠিতে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। চতুর্থত, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম প্রশ্নে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ষষ্ঠত, তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তাঁরা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

২২ বাংলাদেশির শাস্তির তথ্য জানতে চিঠি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা বাংলাদেশকে পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন বাংলাদেশির দণ্ডিত হওয়ার তথ্য ছিল। তবে তালিকায় তাঁদের শাস্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তালিকায় থাকা বাকি ২০ বাংলাদেশির শাস্তির ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতেও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের জবাব না আসায় বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

১৪ অক্টোবর কার্যকর হয় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির আওতায় এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, বিচারপ্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং দণ্ড কার্যকরের পর মরদেহের কী ব্যবস্থা করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি