খুঁজুন
                               
, ,
           

এআই ব্যবহারে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের পানির চাপ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
এআই ব্যবহারে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের পানির চাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। ছবি তৈরি, লেখা, তথ্য খোঁজা কিংবা নানা ধরনের কাজ এখন কয়েকটি নির্দেশ বা প্রম্পটের মাধ্যমেই করা সম্ভব। তবে এআই ব্যবহারের এই সুবিধার আড়ালে রয়েছে পরিবেশের ওপর বাড়তে থাকা চাপ। বিশেষ করে এআই সেবা চালাতে ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারগুলোর যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হচ্ছে।

ডেটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী প্রসেসরগুলো দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে। অতিরিক্ত কাজের সময় এসব প্রসেসরের তাপমাত্রা ১৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক ডেটা সেন্টারে পানিনির্ভর কুলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি তাপ শোষণ করে এবং সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।

একেকটি এআই ব্যবহারে পানির পরিমাণ কত?

এআই ব্যবহারে ঠিক কতটা পানি খরচ হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ছোট একটি ই-মেইল লেখা বা একটি প্রম্পটের উত্তর তৈরি করতে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে।

তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে পানির ব্যবহার কমেছে বলে জানিয়েছে কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের জেমিনাই চ্যাটবটের একটি মাঝারি দৈর্ঘ্যের প্রম্পট প্রক্রিয়াকরণে প্রায় পাঁচ ফোঁটা পানি লাগে।

একটি প্রম্পটে পানির ব্যবহার সামান্য মনে হলেও বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারের বিপুল পরিমাণের কারণে মোট পানির চাহিদা বড় হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি ব্যবস্থাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফেংকি ইউ ও তাঁর দলের গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারগুলো বছরে ৭৩১ বিলিয়ন থেকে ১ লাখ ১২৫ বিলিয়ন লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহার করতে পারে। গবেষণায় উল্লেখ করা সর্বোচ্চ পরিমাণটি নিউইয়র্ক শহরের এক বছরের পানীয় জলের সরবরাহের কাছাকাছি।

শুধু এআই ছবি নয়, পুরো অবকাঠামোর প্রভাব

এআই দিয়ে ছবি তৈরি করতেও সরাসরি পানি ব্যবহার করা হয় না। এর পেছনে কাজ করে বিশাল ডেটা সেন্টার, শক্তিশালী প্রসেসর ও গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট। এসব যন্ত্র চালাতে বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং কাজের সময় উৎপন্ন তাপ নিয়ন্ত্রণেও বাড়তি শক্তি ও পানি লাগে।

তবে একটি ছবি তৈরির জন্য ব্যবহৃত পানি বা শক্তির পরিমাণকে আলাদাভাবে বিশাল পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করেন। সম্মিলিতভাবে তখন এআই অবকাঠামোর ওপর বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এআই ব্যবস্থার পরিবেশগত প্রভাব শুধু পানি ও বিদ্যুতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্র তৈরিতে খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ প্রয়োজন। খনিজ উত্তোলন, যন্ত্র উৎপাদন, পরিবহন এবং ব্যবহারের পর সেগুলো ফেলে দেওয়ার প্রতিটি ধাপেই পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ে।

বিকল্প কুলিং পদ্ধতির দিকে নজর

ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান তরল শীতলীকরণ বা লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এতে পাইপের মাধ্যমে পানি বা বিশেষ তরল সরাসরি প্রসেসরের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

আবহাওয়া বেশি গরম বা আর্দ্র হলে কিছু ক্ষেত্রে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে অতিরিক্ত শীতলীকরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রসেসরের প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের প্রসেসর তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় কাজ করতে পারায় প্রচলিত কুলিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে।

এনভিডিয়ার কর্মকর্তা জোশ পার্কারের মতে, নতুন প্রসেসরগুলো আগের তুলনায় বেশি তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ফ্যানের বাতাস দিয়েই ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ সরাসরি বিশেষ তরলে ডুবিয়ে রাখার ‘ইমারশন কুলিং’ পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পানির ব্যবহার হয়। কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে টারবাইন চালানোর পর বাষ্প ঠান্ডা করতে বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হতে পারে। তাই এআই অবকাঠামোর পরিবেশগত চাপ কমাতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, এর অবকাঠামোগত চাহিদাও তত বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে এআইয়ের সুবিধার পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এর প্রভাব কমানোও প্রযুক্তি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: নোবেল ম্যাগাজিন

কালের আলো/এসএ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি