খুঁজুন
                               
, ,
           

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিরছে শিল্পের গ্যাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফিরছে শিল্পের গ্যাস

শিল্প-কারখানায় চলমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে কাটিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ এক-দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সমাজ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, শিল্পে গ্যাসের প্রভাব, ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • সাময়িক সংকট কাটানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল
  • ২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

বৈঠকের শুরুতে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহে ধাক্কা
বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রভাব শিল্প-কারখানাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ে।

তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে দ্রুতই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

এই বক্তব্য শিল্প খাতের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি যুক্ত।

‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের জটিল সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এখানে সরকারের অবস্থান হলো, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটকে কেবল একটি তাৎক্ষণিক সরবরাহ সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। উৎপাদন সক্ষমতা, আমদানি নির্ভরতা, অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে হবে।

২০২৭ সালের মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্রুত কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে একটি টার্মিনালে দুর্ঘটনা বা কারিগরি সমস্যার মতো ঘটনায় পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ পড়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি আমদানি পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি
ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকট রয়েছে-কিন্তু সেই সংকট মোকাবিলায় কাজও চলছে। তাই হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

গণমাধ্যমের কাছেও সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে কার্যকর একটি দল প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারও সেভাবেই কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

একই সঙ্গে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজেএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাপা সভাপতি মাহবুব আনাম অংশ নেন।

এছাড়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন আলোচনায় অংশ নেন।

স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি, সামনে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা শিল্প খাতের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে এই স্বস্তি কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একটি টার্মিনালের দুর্ঘটনা যে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সাম্প্রতিক সংকট সেটিই আবার সামনে এনেছে।

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম প্রধান শর্ত। ফলে মঙ্গলবার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রতিশ্রুতির পর সরকারের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে এই সরবরাহকে স্থায়ী, নির্ভরযোগ্য ও শিল্পবান্ধব ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন, কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশিরা। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশিকে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এপির প্রতিবেদনে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা তিন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের একজন লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমান। মাকসুদুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা একদল বাংলাদেশি শ্রমিককে কিছু নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, নথিগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাঁদের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান মাকসুদুর।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে সামরিক কাজে যোগ দিতে রাজি হননি। তখন এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে তাঁদের বলেন, ‘তোমাদের এজেন্টই এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি।’ মাকসুদুর রহমানের অভিযোগ, সামরিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এবং তাঁর দলের অন্য কর্মীদের মারধর ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, রুশ সেনারা তাঁদের কাজ করতে চাপ দিতেন। কাজ করতে না চাইলে গালাগাল ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। প্রায় সাত মাস পর তিনি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা অন্য দুই বাংলাদেশিও তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের রুশ বাহিনীর সম্মুখসারিতে এগিয়ে যেতে বলা হতো বলে অভিযোগ করেছেন সাক্ষাৎকারদাতারা। এ ছাড়া রসদ পরিবহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও তাঁদের করতে হতো বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল বলে বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে, নিখোঁজ আরও তিন বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশিকে এভাবে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাক্ষাৎকার দেওয়া তিন বাংলাদেশি এপিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁরা শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও একইভাবে যুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের কতজনকে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

এপি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য তারা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশ প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি সংগ্রহ করেছে। এসব উপাদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কীভাবে সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থাটি।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এপি। চাকরির আশায় বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের সামরিক কাজে যুক্ত করার এমন অভিযোগ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগদাতা, কাজের ধরন, চুক্তিপত্র এবং ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই দলের এই লড়াই। ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। দলে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তাঁদের জায়গা করে দিতে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও পেসার এবাদত হোসেনকে।

একাদশে হৃদয় ও শরিফুল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে সমন্বয় রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং বিভাগে নতুন সংযোজন হয়েছে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণে বিকল্প যোগ করেছে।দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ভালো শুরু করতে চাইবে স্বাগতিকরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের একাদশ
বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্রেন্ডন কিং, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটরক্ষক), জাস্টিন গ্রিভস, রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), সামার জোসেফ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি