খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজধানীর যানজটে এবার ‘১৫ দিনের’ সমাধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজধানীর যানজটে এবার  ‘১৫ দিনের’ সমাধান

রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সব উন্নয়ন সংস্থাকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীতব্য মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও অংশীজনকে নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মকর্তা পর্যায়ে একটি সাব-কমিটির মাধ্যমেও নিয়মিত যোগাযোগ ও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে-রাজধানীর যানজট শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সংকট নয়। এটি অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, একাধিক সংস্থার অসমন্বিত উন্নয়নকাজ, গণপরিবহনের চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ছোট যানবাহনের সম্মিলিত ফলও এর পেছনে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগটির বড় তাৎপর্য হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনাকে আলাদা না রেখে একটি অভিন্ন সমন্বয় কাঠামোয় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি ১৫ দিনের সভা এই ধারাবাহিকতার কার্যকর এক পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে সমন্বয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সব উন্নয়নমূলক কাজ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থা কাজ শেষ করার পর একই স্থানে আরেক সংস্থা যাতে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় রাস্তা খোঁড়ার প্রবণতা বাড়ায় একই সময়ে ইউটিলিটি শিফটিং ও অন্যান্য নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলমান এমআরটি, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকল্প তদারকিতে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, উন্নয়নকাজ থামানো নয়; বরং কাজের মধ্যে সমন্বয় এনে নগরবাসীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমানো।

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা ও রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকল্পনার কাজ চলছে।

অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে যানজটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে নীতিমালার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলায় আনা হচ্ছে। কাউকে আকস্মিকভাবে কর্মহীন না করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং বহু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলায়ও সতর্ক বার্তা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ও আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মতামতের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই সম্ভাব্য সূচিকে এখনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী শক্তির দুষ্কৃতকারীরা এসব ঘটনার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। গুলশান ও হাইকোর্ট এলাকায় সংঘটিত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিহত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

কালের আলো/এম/এএইচ

শুটিংয়ে একসঙ্গে বিস্ফোরিত আটটি বোমা, ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন আমিন খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
শুটিংয়ে একসঙ্গে বিস্ফোরিত আটটি বোমা, ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন আমিন খান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খানের জীবনে অভিনয় করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা আজও দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আছে। ‘জ্যান্ত কবর’ সিনেমার শুটিংয়ে পেট্রোল বোমার আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন—হয়তো আর বাঁচবেন না এই অভিনেতা।

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে সেই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন আমিন খান। তিনি জানান, সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল গাজীপুরের একটি শুটিং হাউসে। ছবির শেষ দৃশ্য ধারণের সময়ই ঘটে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা।

একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয় আটটি বোমা

আমিন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যটির পরিকল্পনা ছিল—তিনি দৌড়ে সামনে এগিয়ে যাবেন, আর তাঁর পেছনে একের পর এক পেট্রোল বোমা বিস্ফোরিত হবে। শুটিংয়ের জন্য মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা হয়েছিল। প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল ছিল বলে জানান তিনি।

দৃশ্য ধারণের সময় ক্যামেরা ও অ্যাকশনের নির্দেশ পাওয়ার পর দৌড় শুরু করেন অভিনেতা। প্রথমে তাঁর পেছনের বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর হঠাৎ সামনে ও চারপাশে প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।

আমিন খান বলেন, ‘একটি সিকোয়েন্স ছিল এমন—মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা ছিল। প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল দেওয়া ছিল। আমি সেগুলোর মাঝখান দিয়ে দৌড়ে আসব, আর আমার পেছনে একের পর এক বোমা বিস্ফোরিত হবে। প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে আমাকে দৌড়াতে হতো। ক্যামেরা, অ্যাকশন বলার পর দৌড় শুরু করলাম। প্রথমে আমার পেছনের বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর হঠাৎ আমার সামনে ও চারপাশের প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে যায়।’

আগুনে পুড়ে যায় শরীরের বিভিন্ন অংশ

বিস্ফোরণের পর আগুন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান আমিন খান। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি চুল ও মুখমণ্ডলও পুড়ে যায়। গলার নিচে, পিঠে ও হাতে এখনো সেই পোড়ার দাগ রয়েছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়ে পুরো আগুন আমার শরীরের ওপর পড়ে। আমার সারা শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। চুলসহ শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গিয়েছিল। চেহারার সামনের অংশের চামড়া পুড়ে গোলাকার হয়ে গিয়েছিল। গলার নিচে, পিঠে ও হাতেও এখনো সেই পোড়ার দাগ রয়েছে।’

শরীরে আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায়ও ক্যামেরার নির্ধারিত জায়গা পার হয়ে দৌড়াতে থাকেন তিনি। পরে একটি কক্ষে ঢুকে মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এরপর নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেন, পুরো মুখ পুড়ে কালো হয়ে গেছে।

আড়াই মাস ছিলেন আলাদা কক্ষে

দুর্ঘটনার পর ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হন আমিন খান। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে বাংলাদেশের তৎকালীন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং মুখে নতুন করে দাগ পড়া এড়াতে তাঁকে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা।

সেই সময়ের পরিস্থিতি স্মরণ করে আমিন খান জানান, দুর্ঘটনার পর উপস্থিত অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘জ্যান্ত কবর’-এর শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আমিন খানের জীবনের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। শরীরে রয়ে যাওয়া পোড়ার দাগ আজও সেই দুঃসহ দিনের স্মৃতি বহন করছে।

কালের আলো/জেএন

প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রয়াত নাসিমা খান, অবসান ষাটের দশকের এক চলচ্চিত্র অধ্যায়ের

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করা নাসিমা খান বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশপর্বে যেসব শিল্পী নিজেদের অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তিনি খান আতা নামেও পরিচিত ছিলেন। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন আনিস এবং নাসিমার বাবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার সম্মতি পাওয়ার পর অভিনয়জগতে পা রাখেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে।

একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন নাসিমা।

চলচ্চিত্র থেকে নাটকে

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে নাসিমা খানের নাম। দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করার পর জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে তাকে নাটকে বেশি দেখা গেছে।

সময় ও বয়সের পরিবর্তনে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদেরই একজন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিবাহী এক শিল্পীর জীবনাবসান ঘটল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি