খুঁজুন
                               
, ,
           

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২২ বছর বয়সী কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২২ বছর বয়সী কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে বসবাসরত ২২ বছর বয়সী কবি রো হেফজুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৪৮ পৃষ্ঠার বইটির নাম ‘স্টিল আই ব্রিদ: ভয়েসেস দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট হিয়ার’ (Still I Breathe: Voices the World Must Hear)।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বইটি প্রকাশিত হলেও সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ এক সাহিত্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল ও তাদের ইয়াং রাইটার্স কমিটির সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি।

রো হেফজুরের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহরের কিয়াং তং গ্রামে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছেন। ক্যাম্পে তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তার পাশাপাশি তরুণদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত।

হেফজুরের কবিতায় উঠে এসেছে ঘরহারা মানুষের বেদনা, নির্বাসনের যন্ত্রণা ও নিপীড়নের স্মৃতি। পাশাপাশি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় উৎসবের মতো বিষয়ও স্থান পেয়েছে তাঁর লেখায়। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার আকুতিও তাঁর কবিতায় বারবার প্রকাশ পেয়েছে।

রোহিঙ্গা লেখকদের কণ্ঠ

‘রোহিঙ্গা ফিউচার্স’ প্রকল্পের আওতায় গবেষক ড. রোনান লির সহযোগিতায় বইটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা লেখকদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশ ও তাঁদের লেখালেখিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করছে।

এর আগে উদীয়মান তরুণ লেখকদের জন্য পেন ইন্টারন্যাশনালের সহযোগী উদ্যোগ ‘টুমরো ক্লাব’-এর সঙ্গে যুক্ত হন হেফজুর। সেখানে তাঁর কবিতা ও একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়।

অনলাইনে বই প্রকাশের পর হেফজুর পেন ইন্টারন্যাশনালকে জানান, অর্থের অভাবে ক্যাম্পে থাকা বন্ধু ও স্বজনদের হাতে বইটির মুদ্রিত কপি তুলে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পেন ইন্টারন্যাশনাল।

রোহিঙ্গা লেখক মায়ু আলীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের হাতে বইটির মুদ্রিত কপি তুলে দেওয়া হয়।

কালের আলো/এসএ

ভোরে শীতের ছোঁয়া, দুপুরে গরম দুমকিতে

পটুয়াখালী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ভোরে শীতের ছোঁয়া, দুপুরে গরম দুমকিতে

এলাকায় ভোরের কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদের তাপে গরমের অনুভূতি থাকলেও শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আবহাওয়ায় মিলছে হালকা শীতের ছোঁয়া।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশা দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ, ফসলের মাঠ, নদীর তীর ও খোলা জায়গায় কুয়াশার উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে গেলেও ভোরের শীতল আবহাওয়া ঋতু পরিবর্তনের জানান দিচ্ছে।

উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, শ্রীরামপুর, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে তৈরি হয়েছে শীতের আগমনী আমেজ। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর নদীর ওপর হালকা কুয়াশা প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন সৌন্দর্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে শেষ রাত ও ভোরের দিকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে শীতলতা বাড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও খোলা এলাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।

ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও পথচারীরা হালকা শীত অনুভব করছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তাপে আবারও গরম অনুভূত হচ্ছে। ফলে একই দিনে সকাল ও দুপুরে আবহাওয়ার ভিন্ন রূপের মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয়রা।

দুমকি ছাড়াও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, গলাচিপা ও রাঙাবালী উপজেলার গ্রামীণ জনপদে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠঘেরা দক্ষিণাঞ্চলে হেমন্তের এ সময়ে ভোরের কুয়াশা ও শিশির প্রকৃতিতে স্বতন্ত্র আবহ তৈরি করে।

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, এখন হেমন্তকাল। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ভোরে কুয়াশা ও শিশিরের সৃষ্টি হয়।

তবে এখনো পুরোদমে শীত নামেনি। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় গরমের অনুভূতিও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নভেম্বরের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

শীতের তীব্রতা এখনো অনুভূত না হলেও ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস ও হিমেল বাতাসে দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শীতের আগমনী বার্তা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

জাপানের পক্ষে নৈশভোজে অংশ নেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া ও সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি