খুঁজুন
                               
, ,
           

দুদক দিয়ে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
দুদক দিয়ে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারকে সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।

বাংলাদেশে এখনো মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে।

মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বিগত সাত মাসে কোনো গুম হয়নি। মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী জানে।

মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে তিনি বলেন, পরিবারটি প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের নামে কটূক্তি করে গাজী সালাহউদ্দিন ভুল করেছিলেন এবং দল হিসেবে এনসিপি তা সমর্থন করেনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া বা মিম করা সন্ত্রাস নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানাই।

হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি বাহিনী তদন্ত করবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব গুম হয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আর এখন তারা সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দিচ্ছে না।

মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারি মানবাধিকার কমিশনে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। গুমের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জাতিসংঘে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।

পুলিশ সংস্কার কমিশন না করে পুলিশকে বিরোধীদল দমনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে; সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা বলেন, অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন। সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সেসব আইন সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি ‘কনসেশন চুক্তি’ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান।

জবাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের ব্যাপক আগ্রহের কথা জানায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আবরারের বাবা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায় পরিবার।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে আবরারের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। তার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ। এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

আকাশের সীমানা যেখানে শেষ, দায়িত্বের সীমানা সেখানে শেষ নয় যেন! একটি বিমানকে আকাশে তুলে নেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন নিখুঁত দক্ষতা, তেমনি একটি বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের ভিত গড়ে ওঠে একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্য দিয়েই। আর সেই উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে যশোরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে (বাফা) উঠল ওসমানী স্বর্ণপদকের দীপ্তি।

বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ বাফা কোর্সের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

স্বর্ণপদকের আড়ালে যে বড় প্রত্যাশা
এটি কেবলমাত্র পুরস্কার বিতরণের আয়োজন নয়। সামরিক পেশায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দায়িত্বের জন্য সক্ষমতার স্বীকৃতিও। কারণ একজন কর্মকর্তার জ্ঞান যত গভীর হয়, পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষমতা তত শাণিত হয়; আর সেই বিশ্লেষণই সংকটমুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একাডেমিক উৎকর্ষতা একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।’

  • একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি পেলেন ছয় কোর্সের কর্মকর্তারা
  • বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএতে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি
  • অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের তাগিদ; ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ার বার্তা

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একাডেমিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি পেরিয়ে পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বিমান বাহিনীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে আধুনিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই’ 
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই।’ অর্জিত জ্ঞান সময়ের সঙ্গে প্রজ্ঞায় রূপ নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একজন কর্মকর্তার পেশাগত বিকাশের দীর্ঘ পথের নির্দেশনা। একাডেমির পাঠ শেষ হলেও শেখার পর্ব শেষ হয় না। বরং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, নতুন প্রযুক্তি, পরিবর্তিত কৌশল ও বাস্তব পরিস্থিতি একজন কর্মকর্তার জ্ঞানের পরিধিকে ক্রমাগত বিস্তৃত করে। সামরিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এক বিষয় নয়। জ্ঞান মানুষকে জানায়; প্রজ্ঞা তাকে বোঝায় কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে। সামরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় সীমিত সময়ের মধ্যে, যেখানে ভুলের মূল্য হতে পারে অনেক বড়।

অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান 
তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান বিমান বাহিনী প্রধান। মূলত এখানেই একাডেমিক সাফল্যের পরবর্তী অধ্যায়। শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান যখন অপারেশনাল সিদ্ধান্তে, সমস্যা সমাধানে কিংবা নেতৃত্বের প্রয়োগে দৃশ্যমান হয়, তখনই তার পূর্ণ সার্থকতা আসে। সততার ওপর তাঁর গুরুত্বারোপও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সামরিক নেতৃত্বে দক্ষতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা। একজন কর্মকর্তার পেশাগত সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হয়, যখন তাঁর অধীনস্থ ও সহকর্মীরা তাঁর সক্ষমতা এবং নৈতিক অবস্থান—দুটির ওপরই আস্থা রাখতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দায়িত্বের পরিধি এখন আকাশের চেয়েও বিস্তৃত
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিমান বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আকাশসীমা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর দায়িত্বের অংশ। তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

ভবিষ্যতের লড়াই শুরু হয় প্রশিক্ষণকক্ষেই
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, এসব দায়িত্ব পালনে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তিনি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার ক্রমাগত রূপান্তর সামরিক বাহিনীর

সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্ত্র ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদ তৈরির প্রথম কারখানা হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। এই বাস্তবতায় বাফার একাডেমিক অনুষ্ঠানকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের পথ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পদক হাতে, সামনে বড় পরীক্ষাও
সমানী স্বর্ণপদক মেধার স্বীকৃতি। কিন্তু সামরিক জীবনে এটি একই সঙ্গে একটি নতুন প্রত্যাশার সূচনা। কারণ একাডেমিক উৎকর্ষের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার সেই জ্ঞানকে বাস্তব দায়িত্বে প্রমাণ করার পালা। বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যের সারকথা তাই এক জায়গায় এসে মেলে—শিখতে হবে অবিরাম, অর্জিত জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে হবে এবং সেই প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে হবে সঠিক সিদ্ধান্তে। সততা, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করে গড়ে তুলতে হবে এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব সংকটে পথ দেখাবে এবং দায়িত্বের মুহূর্তে আস্থা তৈরি করবে। বাফার মঞ্চে এদিন যে স্বর্ণপদক ঝলমল করেছে, তার আসল মূল্য তাই ধাতুর দীপ্তিতে নয়—আগামী দিনের দায়িত্বে সেই মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্ব কতটা আলো ছড়ায়, তার ওপর।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দ্বীন আসাদ, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাইরুল আফসার, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এএইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলাম, এয়ার ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট এয়ার ভাইস মার্শাল আসাদুল করিম, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে