খুঁজুন
                               
, ,
           

দুদক দিয়ে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
দুদক দিয়ে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারকে সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।

বাংলাদেশে এখনো মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে।

মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বিগত সাত মাসে কোনো গুম হয়নি। মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী জানে।

মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে তিনি বলেন, পরিবারটি প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের নামে কটূক্তি করে গাজী সালাহউদ্দিন ভুল করেছিলেন এবং দল হিসেবে এনসিপি তা সমর্থন করেনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া বা মিম করা সন্ত্রাস নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানাই।

হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি বাহিনী তদন্ত করবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব গুম হয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আর এখন তারা সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দিচ্ছে না।

মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারি মানবাধিকার কমিশনে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। গুমের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জাতিসংঘে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।

পুলিশ সংস্কার কমিশন না করে পুলিশকে বিরোধীদল দমনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে; সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা বলেন, অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন। সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সেসব আইন সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

লঞ্চ আছে, তবু কেবিন সংকট বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
লঞ্চ আছে, তবু কেবিন সংকট বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলের প্রচলিত ‘রোটেশন পদ্ধতি’ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকা সত্ত্বেও সব লঞ্চ প্রতিদিন চলাচল না করায় কেবিন ও ডেকে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দাবি, জনস্বার্থে নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু রোটেশন পদ্ধতির কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী লঞ্চ না চলায় বিশেষ করে ছুটির দিন ও জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

চরফ্যাশন থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বেতুয়া-ঢাকা নৌপথ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ পথে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকলেও রোটেশন পদ্ধতির কারণে প্রতিদিন সব লঞ্চ চলাচল করে না। লঞ্চমালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন এক থেকে দুটি লঞ্চ পরিচালিত হওয়ায় যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় আসন ও কেবিনের সংকট দেখা দেয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি জরুরি কাজে ঢাকায় যাতায়াতকারীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে টিকিট ও কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, টিকিট ও কেবিনের সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লঞ্চমালিক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়া বলেন, এ এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। কিন্তু লঞ্চে কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে রোগীদের ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়। এতে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ভুক্তভোগীদের মতে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, যাত্রীদের প্রয়োজন ও সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোটেশন পদ্ধতি বন্ধ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিগ্যাল নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে মাঝেমধ্যে এ পদ্ধতি বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবার চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, সাময়িকভাবে পদ্ধতি বন্ধ রাখার পরিবর্তে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে ভোগান্তি কমাতে রুট পারমিটধারী লঞ্চগুলোর নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে কেবিন বুকিংয়ে স্বচ্ছতা আনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

যাত্রীদের মতে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিজিটাল বা অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে টিকিটের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা চরফ্যাশনের স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ইরানের বাণিজ্যপথ বন্ধ করছে প্রতিবেশী দুই দেশ ইরাক ও পাকিস্তান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
ইরানের বাণিজ্যপথ বন্ধ করছে প্রতিবেশী দুই দেশ ইরাক ও পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের চাপে আগে থেকেই সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি এবার নতুন বাধার মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী ইরাক ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির স্থলবাণিজ্যেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় ইরান বিকল্প হিসেবে স্থলপথের ওপর বেশি নির্ভর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সেই পথও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং পরিবহনসংক্রান্ত বাধা মিলিয়ে ইরানের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

ইরাক ও পাকিস্তানের সীমান্ত বন্ধে নতুন সংকট
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে শাফাক নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) চোরাচালান ঠেকানো ও নজরদারি জোরদারের কথা উল্লেখ করে ইরানের সঙ্গে আল-শিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইরাক। অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সপ্তাহান্তে ইরান থেকে আসা ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। দেশটি গাবদ ও তাফতান সীমান্তপথে এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এই সীমান্তপথগুলো ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পথে চলাচল সীমিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় স্থলসীমান্ত বন্ধ হওয়ার প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। আমদানি করা পণ্য দেশের বাজারে পৌঁছাতে দেরি হলে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে।

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করতে ওয়াশিংটনও চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ইরানের স্থলপথে বাণিজ্য সীমিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেসেন্ট এই উদ্যোগকে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। এর লক্ষ্য ইরানের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও পণ্য পরিবহনে ইরান আগে থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে নৌ অবরোধ এবং স্থলসীমান্তে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় দেশটির বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

সীমান্তে আটকে হাজার হাজার ট্রাক
ইরানের স্থলবাণিজ্যে বাধার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তুরস্ক, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক আটকে ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন কর্মকর্তারা।

কিছু সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাককে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্য নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন পরিবহনকারীরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে কোনো কোনো চালক পচে যাওয়া ফলসহ কৃষিপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন না, বরং খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনাও চাপে পড়ছে।

পাকিস্তান সীমান্তে আটকে এলপিজি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্তের ইরানি অংশে চার হাজার ৫০০ টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি আটকে রচতবে এলপিজি আটকে থাকার ঘটনা দেশটির পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধাগুলোর একটি উদাহরণ। সীমান্তে পণ্য আটকে থাকলে রপ্তানিকারকদের সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত হয় এবং ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসায়িক চুক্তি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে সীমান্তপথে জট তৈরি হওয়ায় বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রয়োজন বাড়ছে। তবে বিকল্প পথে পরিবহন চালু করতে অতিরিক্ত ব্যয় ও সময় লাগলে রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

স্থল ও সমুদ্রপথে বাধায় বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
ইরানের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একাধিক বাণিজ্যপথ একই সময়ে বাধার মুখে পড়ছে। সমুদ্রপথে অবরোধ ও বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি স্থলসীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের সময় বাড়লে আমদানি করা কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের দামেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সীমান্ত বন্ধের কারণে ঠিক কতটা বাণিজ্য কমেছে বা বাজারে কী পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরাক ও পাকিস্তানের সীমান্তপথে বিধিনিষেধ ইরানের বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্তে আটকে থাকা পণ্য দ্রুত পরিবহন করা এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ সচল রাখা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, শাফাক নিউজ ,আইআরআইবি।

কালের আলো/এসএ/এমএস

তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের ‘স্নাইপার’ মন্তব্যের পেছনে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্য পতিত অপশক্তিকে এমন মন্তব্য করার সাহস জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

স্নাইপার’ মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক লিখেছেন, ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল।’ তাঁর দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য, আগ্রাসী আচরণ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার সুযোগ নিচ্ছে পতিত অপশক্তি। তবে ওই যুবকের পরিচয়, মন্তব্যের প্রেক্ষাপট কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য, জনসভা ও টকশোতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুন এবং দলটির বিচার নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া জামায়াত ও এনসিপি এমন বয়ান তৈরি করছে, যেন বিএনপির আট মাসের সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এসব বক্তব্য ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার, মামলায় জর্জরিত কিংবা নির্বাসিত জীবনে থাকা নেতারাও এ পরিস্থিতির বাইরে নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ৫ আগস্টের পরও দায়িত্বে থাকা কিংবা তার আগে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় না থাকা কিছু ব্যক্তির বক্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে, যেন গত ১৬ বছর শুধু তাঁরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানের তুলনায় বিরোধী দলের অনেক নেতার ভূমিকা ছিল নগণ্য। অথচ এখন বিএনপিকে তাঁদের কাছ থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস শুনতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছ থেকে জানার সঙ্গে তুলনা টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, একইভাবে বিরোধী দলের অনেক নতুন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে বিএনপিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে করা রাজনৈতিক অভিযোগ। পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি