খুঁজুন
                               
, ,
           

উদ্বোধনের দুই মাসেই ধসে পড়ল ৬ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক

বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
উদ্বোধনের দুই মাসেই ধসে পড়ল ৬ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টাঙ্গন নদীর ওপর সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় ২০০ মিটার সড়কজুড়ে ধস ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরী ইউনিয়নের ধরধরা এলাকায় গিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কের এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, চার বছরের বেশি সময় ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ চলার পর প্রায় দুই মাস আগে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেন তারা।

নদীর বালু দিয়ে সড়ক ভরাটের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় সেতুর পাশের টাঙ্গন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে সংযোগ সড়ক ভরাট করা হয়েছিল। নদী থেকে উত্তোলন করা নরম বালুর ওপর পর্যাপ্ত মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার না করেই দ্রুত হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণ করা হয় বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয় নাথসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদী থেকে বালু তুলে সড়ক ভরাটের সময় তাদের বলা হয়েছিল এতে রাস্তা আরও শক্ত ও টেকসই হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশ্বাসের কারণে তখন তারা কাজে বাধা দেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর মাত্র দুই মাস আগে সড়কটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে এত দ্রুত সড়ক ধসে পড়া নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এলজিইডির তদারকি যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

উদ্বোধনের আগেই উঠেছিল অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় তা আর করা হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তখন এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে কাজের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

তদন্তের আশ্বাস এলজিইডির

সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এলজিইডির কর্মকর্তারা। বোদা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বলেন, সেতুর দুই পাশের প্রায় ২০০ মিটার এইচবিবি সড়ক বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি এভাবে ধসে পড়বে, তা তারা ভাবেননি। নিম্নমানের কাজের পেছনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আকরাম হোসেন জানান, বোদার ধরধরা ও আটোয়ারীর ভাটিয়াপাড়া অংশের সংযোগ সড়কটি এইচবিবির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে কার্পেটিং করার জন্য নতুন বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। তদন্তে ঠিকাদারের গাফিলতি বা কাজের নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা

প্রায় ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়কটি বোদার ধরধরা এবং আটোয়ারীর ভাটিয়াপাড়া এলাকার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নির্মাণ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে সড়ক সংস্কার না করে নির্মাণকাজের মান যাচাই করতে হবে। ত্রুটি থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংযোগ সড়কের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

জন্মদিন মানেই কেক কাটা, শুভেচ্ছা আর আনুষ্ঠানিকতা—প্রচলিত এই ছবির বাইরে গিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে জন্মদিন উদ্‌যাপনে যুক্ত হলো মানবিকতার ভিন্ন এক গল্প। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাযাত্রা সহজ করা, পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে প্রাধান্য পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের কল্যাণ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোলাপি রঙের বাইসাইকেল। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পেয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ। অন্যদিকে, শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত হয় চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। আয়োজকদের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

  • মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ৫৪৮ মেধাবী ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার
  • দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষের চক্ষুসেবায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

জন্মদিনের আনন্দকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও অসহায় মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত করার এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে নারীশিক্ষায় উৎসাহ জোগানো এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা কর্মসূচিটিকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। শুধু তাই নয়—শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েও বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তোলা যায় এই বিষয়টিকে মোটা দাগে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গোলাপি সাইকেলে শিক্ষার পথে নতুন গতি
একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। গ্রামীণ এলাকার অনেক ছাত্রীর জন্য এটি হতে পারে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সহজ উপায়, সময় বাঁচানোর মাধ্যম এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বাড়তি অনুপ্রেরণা। বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব কমানো সম্ভব না হলেও যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়া হয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

উপহারের আনন্দে যুক্ত হলো দেড় হাজার শিক্ষার্থী
সাইকেলের পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনন্দে যুক্ত করা হয়েছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে। উপহারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটির স্মারক হয়ে থাকার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উৎসাহ ও সম্পৃক্ততার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এমন উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রকাশ পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি হতে পারে।

চক্ষুসেবায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের পাশে
জন্মদিনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। রোববার দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো এ সেবা পরিচালিত হয়।

আয়োজকরা জানায়, প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়। দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবার আওতায় আনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি বিস্তৃত হয়েছে। চোখের সমস্যা শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছানি অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মোকামতলা ও শিবগঞ্জের যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

জন্মদিনের আয়োজন ঘিরে মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগের বছরগুলোতেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি
চক্ষুচিকিৎসা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তবে দিনের মূল আয়োজনের অন্যতম দিক ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সাইকেল বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রজ্ঞার স্তরে থাকবে না কোনো প্রতীক
এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে থাকা জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তরের নাম আগের মতোই থাকবে। তবে প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো বাদ দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রজ্ঞার স্তরে থাকা দাঁড়িপাল্লার ছবিটি আর রাখা হচ্ছে না।

এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

ছাপানো বইয়ে যুক্ত হবে সংশোধিত পৃষ্ঠা
ইতিমধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের বড় একটি অংশ ছাপানো হয়ে গেছে। ফলে পুরো বই নতুন করে ছাপানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিড থাকা পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে। এতে পুরো বই পরিবর্তন না করেই বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো বই পুনরায় ছাপাতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হতো। তাই আপাতত শুধু সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগেই বন্ধ করা হয়েছিল ছাপার কাজ
দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে তখন দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন প্রেস মালিকও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।

জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তর
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে রয়েছে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর।

আগের নকশায় উপাত্তের স্তরে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। নতুন সিদ্ধান্তে এসব প্রতীকের কোনোটিই আর থাকবে না।

আগের বইয়েও ছিল দাঁড়িপাল্লা
প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি বুঝতে আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি বই
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর কার্যক্রমের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় সংশোধনী যুক্ত করে বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা আরও পরিমার্জনের কথাও জানিয়েছে এনসিটিবি।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

 

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুইডেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সুইডেনের সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট এবং দেশটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্পিকারের মতে, দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা গেলে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও পিছপা হননি। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস দেশটির সংসদীয় কাঠামো সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সংসদ ও সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ এবং ককাস গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি