মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া কারাদণ্ডের ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তিনটি অভিযোগে ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে উসকানি, নির্দেশনা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন।
এ ছাড়া ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারির মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনের অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ জুলাই ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই সময় কুষ্টিয়ায় গুলিতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ ছাড়া রাইসুল হকসহ আরও অনেকে আহত ও আটক-নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমনের বিভিন্ন পর্যায়ে ইনু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের আটক, নির্যাতন ও অন্যান্য দমনমূলক পদক্ষেপে সহায়তা করেন।
২৭ জুলাই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকেও আন্দোলন দমনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার একমাত্র আসামি করা হয় হাসানুল হক ইনুকে। তার বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র এবং তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ছিলেন।
কালের আলো/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]