খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনযুগ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনযুগ

১১ বছরের ব্যবধানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো জারি করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় একদিকে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট বেতন ভাতাসহ ৩৩ হাজার টাকার বেশি হবে, অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মতো বিশেষ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোট বেতন দাঁড়াবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। শুধু বেতন নয়, উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ, পেনশন বৃদ্ধি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্ন বিশেষ ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।

  • সর্বনিম্ন মোট বেতন ৩৩ হাজারের বেশি
  • সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা
  • মূল বেতন, পেনশন ও ভাতায় বড় স্বস্তি
  • পদোন্নতি ছাড়াও উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

তবে নতুন কাঠামোর পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে মিলছে না। মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। অধিকাংশ নতুন ভাতা কার্যকর হবে আরও প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ফলে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ার নতুন দিগন্ত খুলছে, অন্যদিকে এই বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগান দেওয়া সরকারের জন্য বড় আর্থিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার, ঢাকায় আরও বেশি
নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে কর্মস্থলভেদে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও মুঠোফোন ভাতা যুক্ত হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বনিম্ন মোট বেতন দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় একই গ্রেডে মোট বেতন হবে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা।

অন্যদিকে বিসিএসসহ নবম গ্রেডে যোগ দেওয়া তরুণ কর্মকর্তাদের মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। ভাতাসহ তাঁদের মোট আয় ৬০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি চাকরির প্রবেশপর্যায়ের বেতনেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে।

সর্বোচ্চ বেতন প্রায় আড়াই লাখ
নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। তবে এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ গ্রেড রাখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ঢাকায় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, আপ্যায়ন, মুঠোফোন ও ধোলাই ভাতা মিলিয়ে তাঁদের মোট বেতন দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক গাড়িসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় বেতন ব্যবস্থার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্তর—দুই প্রান্তেই পরিবর্তন এসেছে।

তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
নতুন আদেশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও কর্মচারীরা সেদিন থেকেই পুরো বর্ধিত মূল বেতন পাচ্ছেন না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে পূর্ণ বেতন কার্যকর হবে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ৭০ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, পরের ধাপে ৭৫ শতাংশ এবং শেষ পর্যায়ে শতভাগ কার্যকর হবে। ধাপে বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় অঙ্কের ব্যয়ের চাপ কিছুটা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পদোন্নতি ছাড়াও বাড়বে বেতন
নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো পদোন্নতি না পেলেও নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ। একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে এবং রেকর্ড সন্তোষজনক থাকলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পরবর্তী পর্যায়েও নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে পদোন্নতির সুযোগ সীমিত এমন পদে দীর্ঘদিন কাজ করা কর্মচারীদের জন্য এটি আর্থিক অগ্রগতির বিকল্প পথ তৈরি করবে। ফলে শুধু পদোন্নতির ওপর নির্ভর না করেও চাকরির মেয়াদ ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে।

পেনশনে বড় স্বস্তি
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও নতুন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কমে ৫৫ শতাংশে নামবে। তবে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন পেনশনভোগীদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন আসছে।

ভাতায়ও নতুন চিত্র
নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়ার হার কর্মস্থল ও গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, শিক্ষা সহায়তা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে অধিকাংশ নতুন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বাড়তি ব্যয়ের টাকা আসবে কোথা থেকে?
নতুন বেতনকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি বেতন নিয়ে নয়, অর্থায়ন নিয়ে। মূল বেতন ও ভাতা বাড়ার ফলে সরকারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। চলতি অর্থবছরেই বর্ধিত মূল বেতনের দুই ধাপ বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, আগামী দেড়-দুই বছরে রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে। ঋণনির্ভর অর্থায়ন বা ব্যয় সংকোচনের পথ নিতে হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে সরকারও রাজস্ব আয় বাড়ানো, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় সময় পাচ্ছে। ফলে নতুন কাঠামোর সাফল্য শুধু বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজস্ব সংগ্রহ ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর সক্ষমতাও।আয় বাড়ার সঙ্গে বাড়ুক সেবার মাননতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রণোদনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রবেশপর্যায়ের বেতন বৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ এবং পেনশন বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরি আরও কাঠামোবদ্ধ আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছে।

এখন চ্যালেঞ্জ হবে এই বাড়তি সুবিধার সঙ্গে সরকারি সেবার মান ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশিত উন্নতি নিশ্চিত করা। কারণ একটি আধুনিক বেতনব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য শুধু কর্মচারীর বেতন কত বাড়ল, তা দিয়ে নয়; সেই বিনিয়োগের বিনিময়ে রাষ্ট্র কতটা দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব সেবা দিতে পারল—শেষ পর্যন্ত তার ওপরই নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর পূর্ণ সার্থকতা।

এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বহুজাতিক লজিস্টিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি ‘কনসেশন চুক্তি’ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান।

জবাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের ব্যাপক আগ্রহের কথা জানায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
আবরার হত্যা: রায় কার্যকরে পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আবরারের বাবা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায় পরিবার।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে আবরারের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। তার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ। এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
মেধার মুকুটে ওসমানী স্বর্ণপদক; উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

আকাশের সীমানা যেখানে শেষ, দায়িত্বের সীমানা সেখানে শেষ নয় যেন! একটি বিমানকে আকাশে তুলে নেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন নিখুঁত দক্ষতা, তেমনি একটি বাহিনীকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের ভিত গড়ে ওঠে একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্য দিয়েই। আর সেই উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে যশোরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে (বাফা) উঠল ওসমানী স্বর্ণপদকের দীপ্তি।

বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ বাফা কোর্সের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

স্বর্ণপদকের আড়ালে যে বড় প্রত্যাশা
এটি কেবলমাত্র পুরস্কার বিতরণের আয়োজন নয়। সামরিক পেশায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দায়িত্বের জন্য সক্ষমতার স্বীকৃতিও। কারণ একজন কর্মকর্তার জ্ঞান যত গভীর হয়, পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষমতা তত শাণিত হয়; আর সেই বিশ্লেষণই সংকটমুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একাডেমিক উৎকর্ষতা একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।’

  • একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি পেলেন ছয় কোর্সের কর্মকর্তারা
  • বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স ও বিবিএতে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি
  • অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের তাগিদ; ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ার বার্তা

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি একাডেমিক সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি পেরিয়ে পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বিমান বাহিনীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে আধুনিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই’ 
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই।’ অর্জিত জ্ঞান সময়ের সঙ্গে প্রজ্ঞায় রূপ নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একজন কর্মকর্তার পেশাগত বিকাশের দীর্ঘ পথের নির্দেশনা। একাডেমির পাঠ শেষ হলেও শেখার পর্ব শেষ হয় না। বরং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, নতুন প্রযুক্তি, পরিবর্তিত কৌশল ও বাস্তব পরিস্থিতি একজন কর্মকর্তার জ্ঞানের পরিধিকে ক্রমাগত বিস্তৃত করে। সামরিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এক বিষয় নয়। জ্ঞান মানুষকে জানায়; প্রজ্ঞা তাকে বোঝায় কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে হবে। সামরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় সীমিত সময়ের মধ্যে, যেখানে ভুলের মূল্য হতে পারে অনেক বড়।

অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান 
তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান বিমান বাহিনী প্রধান। মূলত এখানেই একাডেমিক সাফল্যের পরবর্তী অধ্যায়। শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান যখন অপারেশনাল সিদ্ধান্তে, সমস্যা সমাধানে কিংবা নেতৃত্বের প্রয়োগে দৃশ্যমান হয়, তখনই তার পূর্ণ সার্থকতা আসে। সততার ওপর তাঁর গুরুত্বারোপও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সামরিক নেতৃত্বে দক্ষতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা। একজন কর্মকর্তার পেশাগত সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকর হয়, যখন তাঁর অধীনস্থ ও সহকর্মীরা তাঁর সক্ষমতা এবং নৈতিক অবস্থান—দুটির ওপরই আস্থা রাখতে পারেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দায়িত্বের পরিধি এখন আকাশের চেয়েও বিস্তৃত
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিমান বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আকাশসীমা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও এর দায়িত্বের অংশ। তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

ভবিষ্যতের লড়াই শুরু হয় প্রশিক্ষণকক্ষেই
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, এসব দায়িত্ব পালনে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তিনি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার ক্রমাগত রূপান্তর সামরিক বাহিনীর

সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্ত্র ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। আর সেই মানবসম্পদ তৈরির প্রথম কারখানা হলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। এই বাস্তবতায় বাফার একাডেমিক অনুষ্ঠানকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের পথ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পদক হাতে, সামনে বড় পরীক্ষাও
সমানী স্বর্ণপদক মেধার স্বীকৃতি। কিন্তু সামরিক জীবনে এটি একই সঙ্গে একটি নতুন প্রত্যাশার সূচনা। কারণ একাডেমিক উৎকর্ষের প্রমাণ দেওয়ার পর এবার সেই জ্ঞানকে বাস্তব দায়িত্বে প্রমাণ করার পালা। বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যের সারকথা তাই এক জায়গায় এসে মেলে—শিখতে হবে অবিরাম, অর্জিত জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে হবে এবং সেই প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাতে হবে সঠিক সিদ্ধান্তে। সততা, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বকে ধারণ করে গড়ে তুলতে হবে এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব সংকটে পথ দেখাবে এবং দায়িত্বের মুহূর্তে আস্থা তৈরি করবে। বাফার মঞ্চে এদিন যে স্বর্ণপদক ঝলমল করেছে, তার আসল মূল্য তাই ধাতুর দীপ্তিতে নয়—আগামী দিনের দায়িত্বে সেই মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্ব কতটা আলো ছড়ায়, তার ওপর।

অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দ্বীন আসাদ, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ খাইরুল আফসার, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এএইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মুস্তাফিজুর রহমান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম শামীমুল ইসলাম, এয়ার ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট এয়ার ভাইস মার্শাল আসাদুল করিম, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে