মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক প্রকৃত জেলে ‘জেলে কার্ড’ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, পেশায় জেলে না হয়েও অনেকে তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয় জেলেদের।
উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলখ্যাত চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ী ও বন্দরখোলা ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার বহু মানুষ মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর মাছ ধরলেও অনেকের জেলে কার্ড হয়নি। ফলে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তৈরি করা তালিকায় প্রকৃত জেলেদের অনেকের নাম বাদ পড়েছে। বিপরীতে পেশায় জেলে নন—এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকায় রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবচরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে শিবচর পৌরসভায় ২৯৯ জনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬ হাজারের বেশি জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। তবে মাছ ধরার নিষিদ্ধ মৌসুমে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন প্রায় আড়াই হাজার জেলে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়। এ সময় সরকার থেকে চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু জেলে কার্ড না থাকায় প্রকৃত অনেক জেলে সেই সুবিধা পান না।
চরজানাজাত ইউনিয়নের জেলে রাকিব বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। বাবার কোনো জেলে কার্ড ছিল না। এখন তিনিও মাছ ধরলেও কার্ড পাননি। অথচ জেলে নন—এমন অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরেক জেলে রহিম মাদবর বলেন, তালিকা তৈরির সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি জমা দিয়েছেন। একাধিকবার কাগজপত্র দিলেও তার কার্ড হয়নি। তার মতো আরও অনেক প্রকৃত জেলে তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
চরজানাজাত ইউনিয়নের সমাজসেবক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন বেপারী বলেন, যারা বছরের পর বছর পদ্মায় মাছ শিকার করে পরিবার চালান, সরকারি সহায়তার প্রকৃত দাবিদার তারাই। জেলে কার্ডের তালিকা পুনঃযাচাই করে অযোগ্যদের বাদ এবং বঞ্চিত প্রকৃত জেলেদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, উপজেলায় জেলে তালিকায় ছয় হাজারের বেশি নাম রয়েছে। তবে সহায়তা পাচ্ছেন প্রায় আড়াই হাজার জেলে। তালিকাটি অনেক পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে হালনাগাদের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত এবং অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হবে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত এবং জেলে নন এমন ব্যক্তিরা কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
কালের আলো/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
Array