খুঁজুন
                               
, ,
           

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঠেকাতে তিন দিনে একদিন জমা পানি অপসারণের আহ্বান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এ অভ্যাস নগরবাসীর প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নগরের চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় চসিকের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও চালানো হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের একক কার্যক্রমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসব্যাপী পরিকল্পনার আওতায় নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মেয়র নগরবাসীকে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে বলেন।

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিষয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহারের পাশাপাশি লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।

প্রতিটি ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ চলছে জানিয়ে মেয়র বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারক করছেন। এ কার্যক্রমে বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ১৫ স্থানে ভাঙন, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ১৫ স্থানে ভাঙন, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের কয়েকটি অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দেয়। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। এতে সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলতি বছর শেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি ব্রিজের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের প্রায় ১৫টি স্থানে কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কোথাও সড়কের পোল উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের পরপরই ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ধসের প্রকৃত কারণ বা নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছেন অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আফগান কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি পৃথক স্থানেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভূখণ্ডে আন্তসীমান্ত হামলা চালাচ্ছে।

তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে নতুন করে হামলার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর আবারও চাপ তৈরি করতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর উদ্যোগ

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রোমে জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান মেলোনি। আগামী ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলো ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হবে।

রোমে আয়োজিত ‘জিওভেন্তু নাজিওনালে’ জাতীয় উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি বলেন, যারা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে।

প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো অনুমোদন করলেও সেগুলো আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার। তবে ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) নামে আরও ডানপন্থি একটি দল স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ে দলটি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বোরকা-নিকাব নিয়ে ইতালির বর্তমান আইন

বোরকা এমন একটি পোশাক, যাতে নারীর পুরো শরীর ও মুখ ঢাকা থাকে। সাধারণত চোখের সামনে জালের মতো কাপড় থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকলেও চোখ দেখা যায়।

ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের একটি আইনি সিদ্ধান্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়। সেখানে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরার সুযোগ রাখা হলেও পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এদিকে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের অংশ লিগ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে মুখ ঢাকা পোশাক নিয়ে আরও কঠোর বিধিনিষেধের একটি বিল জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাধুলার অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন হেলমেট বা পোশাক নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়েও নতুন প্রস্তাব

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।

তবে ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। একটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী। ফলে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও একীভূতকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংসদে এগুলো কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ