হরমুজের আকাশে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ‘প্রিডেটর’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সোমবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়।
আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি এমকিউ-১ ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া ড্রোনটি এমকিউ-১ প্রিডেটর মডেলের। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ড্রোনটি সত্যিই ভূপাতিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুরনো ড্রোন আবার ব্যবহারের দাবি
আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী অনেক আগেই এমকিউ-১ প্রিডেটরের ব্যবহার বন্ধ করে আরও আধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ব্যবহারে যায়।
তবে ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর সক্রিয় এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের একটি বড় অংশ ধ্বংস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পুরনো এমকিউ-১ প্ল্যাটফর্ম আবারও ব্যবহারে ফিরিয়েছে।
এই দাবির পক্ষেও তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে এমকিউ-১ ড্রোন ব্যবহার করছে কি না, সে বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরানের সর্বশেষ এই দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের সামুদ্রিক বাণিজ্য এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও কমেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পণ্যের পরিবহন এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
ইরানের দাবি করা এই ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনাকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি ও ড্রোনের পরিচয় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের দাবিকে দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array