খুঁজুন
                               
, ,
           

পদ্মায় ইলিশের সংকট, বিপাকে হাজারো জেলে পরিবার

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
পদ্মায় ইলিশের সংকট, বিপাকে হাজারো জেলে পরিবার

মানিকগঞ্জের পদ্মায় জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। মাছের সংকটে নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে গিয়ে খরচও উঠছে না অনেকের। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন, আবার কেউ নৌকা-জাল বিক্রি করে রিকশা চালানোসহ বিকল্প পেশা বেছে নিচ্ছেন।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ পদ্মা ও যমুনার ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকার জেলেদের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল পদ্মার ইলিশ। তবে কয়েক বছর ধরে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন তারা।

মৎস্য অধিদপ্তরের ‘ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে লোয়ার পদ্মায় ইলিশ আহরণ হয়েছিল ১ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে হয় ১ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ১ হাজার ১২২ মেট্রিক টন হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১ হাজার ৯০ মেট্রিক টনে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আহরণ আরও কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬২২ মেট্রিক টনে।

অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে লোয়ার পদ্মায় ইলিশ আহরণ কমেছে ৫৩৭ মেট্রিক টন বা প্রায় ৪৬ শতাংশ। শুধু ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যেই আহরণ কমেছে ৪৬৮ মেট্রিক টন।

হরিরামপুরের বাহিরচর গ্রামের জেলে ফারুক হোসেন ব্যাপারী বলেন, শুধু মাছ ধরে এখন আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষিকাজ করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, নদীর আগের গভীরতা না থাকায় মাছও কমে গেছে।

ভেলাবাদ গ্রামের জেলে লালন মোল্লার ভাষ্য, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি যান্ত্রিক নৌযান ও জাহাজের শব্দের কারণেও ইলিশের বিচরণ কমেছে। আর জীবিকার সংকটে দড়িকান্দি গ্রামের নিবন্ধিত জেলে লিটন নৌকা-জাল বিক্রি করে রিকশা চালানো শুরু করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন ইলিশের বিচরণে প্রভাব ফেলছে। পলি জমে ডুবোচর ও চর সৃষ্টি হওয়া, পানির লবণাক্ততা ও প্রবাহের পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, বর্জ্যে পানিদূষণ এবং নদীর খাদ্যচক্র নষ্ট হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া কারেন্ট জাল ও ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে জাটকা ও মা ইলিশ নিধনও ইলিশের প্রজননচক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইলিশ সুরক্ষায় মানিকগঞ্জে ২৬২টি অভিযান ও ৭৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ মেট্রিক টন ইলিশ ও ২ লাখ ২৯ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০৯টি মামলা, ৭০ জনকে কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নূরুল ইকরাম বলেন, নদীতে চর জেগে ওঠা, জলযান চলাচল, দূষণ ও অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের বিচরণে বাধা সৃষ্টি করছে। অবৈধভাবে ইলিশ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, নাব্যতা সংকট, দূষণ ও অসচেতনতার কারণে পদ্মা-যমুনায় ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ সুরক্ষায় সরকারি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সুই-সুতায় ৩৫ বছরের জীবন, স্বপনের সংসারে এখনো অভাব

বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সুই-সুতায় ৩৫ বছরের জীবন, স্বপনের সংসারে এখনো অভাব

সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বয়সের ভারও থামাতে পারেনি স্বপন সরদারকে। জীবনের প্রায় ৩৫ বছর ধরে মানুষের ছেঁড়া জুতা সেলাই করে জীবিকা চালিয়ে আসছেন তিনি। বয়স বেড়ে যাওয়ায় শরীর আর আগের মতো সায় দেয় না। তবুও সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিন পুরোনো জায়গায় বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তিনি।

বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছোট্ট পরিসরে বসে কাজ করেন স্বপন। সামনে থাকে জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম, হাতে সুই-সুতা। কেউ ছেঁড়া জুতা নিয়ে এলে যত্ন করে তা মেরামত করেন। বিনিময়ে কখনো কয়েক দশক, কখনো বা কয়েকশ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই চলে তার সংসার।

স্বপনের পরিবার জানায়, বয়সের কারণে এখন তার পক্ষে ভারী কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। অথচ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে তাকে কাজ করতেই হচ্ছে। পরিবারের একজন সন্তান বেকার থাকায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

দোকানদার সজিব সাহা বলেন, বাসস্ট্যান্ডে এ ধরনের ছোট কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের আয় খুবই কম। স্বপনের মতো একজন বয়স্ক মানুষ এত বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন—বিষয়টি সত্যিই কষ্টের।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বপনকে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা অন্য কোনো সহায়তার আওতায় আনা গেলে তাদের কষ্ট কিছুটা কমতে পারে।

প্রতিদিনের মতো আজও হয়তো স্বপন বসবেন তার পুরোনো জায়গায়। সামনে থাকবে জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম, হাতে থাকবে সুই-সুতা। কারও ছেঁড়া জুতা জোড়া লাগাতে লাগাতে হয়তো আবারও আয় হবে সামান্য কিছু টাকা।

এভাবেই ৩৫ বছর ধরে মানুষের পায়ের জুতা ঠিক করতে করতে নিজের সংসারের ভাঙাচোরা অবস্থাও সামলানোর চেষ্টা করছেন স্বপন সরদার। বয়সের ভার, কমে যাওয়া আয় আর বেকার সন্তানের চাপ—সব মিলিয়ে তার প্রতিটি দিনই যেন নতুন এক সংগ্রামের গল্প।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি

বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর রোববার রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

সত্তরের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন মিঠু মুখার্জি। অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন ও পর্দায় তাঁর উপস্থিতি সে সময় দর্শকের মধ্যে আলাদা সাড়া ফেলেছিল। তবে ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র ও জনসম্মুখ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী।

‘শেষ পর্ব’ দিয়ে অভিষেক

১৯৭২ সালে চিত্ত বসু পরিচালিত ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মিঠু মুখার্জির। এরপর দীনেন গুপ্ত পরিচালিত ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

‘মর্জিনা আবদুল্লা’র সাফল্যের পর বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন মিঠু। সত্তরের দশকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন সে সময়ের পরিচিত অভিনেত্রীদের একজন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বাংলা সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘নিশিকন্যা’, ‘মৌচাক’ ও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’। এসব সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা পেয়েছিল।

হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয়

বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও কাজ করেছেন মিঠু মুখার্জি। দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়। পরে বাসু চ্যাটার্জির ‘সফেদ ঝুট’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

এ ছাড়া তাঁর অভিনীত হিন্দি সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফেরা

একসময় অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু মুখার্জি। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে চন্দ্রা বারোট পরিচালিত ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে আবার বড় পর্দায় ফেরেন তিনি। তবে এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যায়নি তাঁকে।

দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে মিঠু মুখার্জির নাম জড়িয়ে আছে। তাঁর অভিনীত চরিত্র ও সিনেমাগুলো এখনো দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা করে আছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কালের আলো/এসএ

চট্টগ্রামে শেষ হলো অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে শেষ হলো অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর

ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসর।

১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামে। নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, তাঁদের কাজের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নির্মাতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ফিল্ম ফর আস ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাব যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে।

এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিকশন, ডকুমেন্টারি ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং—এই তিন বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন দেশের নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছিল নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ আয়োজন।

প্রথমবার যুক্ত হলো ডিজিটাল স্টোরিটেলিং

এবারের আসরে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় ডিজিটাল স্টোরিটেলিং কম্পিটিশন বিভাগ। চলচ্চিত্রের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে ছবি, ভিডিও, লেখা, শব্দ, অ্যানিমেশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গল্প বলার কাজগুলোকে এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আয়োজকদের মতে, নতুন এই বিভাগ তরুণ নির্মাতা ও ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলায় আগ্রহীদের জন্য ভিন্ন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

ইরানি নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন

উৎসবের অন্যতম বিশেষ আয়োজন ছিল ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ইরানের নারী নির্মাতাদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের দর্শকদের তাঁদের কাজ, ভাবনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষ করে তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন ছিল ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। উৎসবের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শক, শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ ছিল।

তিন বিভাগে পুরস্কার

১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা রায়মাঝি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিজয়ী নির্মাতাদের হাতে উৎসবের ক্রেস্ট তুলে দেন।

এবারের উৎসবে তিন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন—

  • বেস্ট ফিকশন: তাবাসসুম তানহা — What If
  • বেস্ট ডকুমেন্টারি: সুরাইয়া তাসনিন সাথী — Reshma
  • বেস্ট ডিজিটাল স্টোরিটেলিং: ফাতিমা তকাওয়ি

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর উৎসবের প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. গুরুপদ চক্রবর্তী।

নির্মাতা ও দর্শকের যোগাযোগকে গুরুত্ব

উৎসবের পরিচালক ও ফিল্ম ফর আস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, নারী নির্মাতাদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য, যেখানে তাঁরা নিজেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

তিনি বলেন, দুই বছর পর এসে তাঁরা মনে করছেন, ধীরে ধীরে সেই জায়গা তৈরি হচ্ছে। এ বছর ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে এবং নতুন করে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং বিভাগ যুক্ত হয়েছে।

তাঁর মতে, উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্মাতা, শিক্ষার্থী ও দর্শকদের একসঙ্গে এসে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়া।

অধ্যাপক মাসুদুর রহমান আরও বলেন, চলচ্চিত্র উৎসবকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। একজন নির্মাতা তাঁর দর্শক খুঁজে পাওয়া, কোনো চলচ্চিত্র দেখে একজন শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হওয়া কিংবা উৎসবে পরিচিত হওয়া দুই নির্মাতার ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করা—এসবকেও তাঁরা উৎসবের সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখেন।

সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

এবারের আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে ‘কানেক্ট হার’। উৎসবের কো-অর্গানাইজার ছিল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাব। এছাড়া লিখালিখি ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রাম উৎসবটির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজও এবারের আয়োজনকে সমর্থন করেছে।

আয়োজনে যুক্ত ছিলেন ফিল্ম ফর আস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া আফরিন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি তাসনিম তাবাস্সুম সুবাহ এবং লিখালিখির প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদা ফারজানা জামান রুপা।

সমাপনীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উৎসবে অংশ নেওয়া সব চলচ্চিত্র নির্মাতা, জুরি সদস্য, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, দর্শক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

কালের আলো/এসএ