‘এআই প্রশিক্ষণে তথ্য সংগ্রহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ইন্টারনেট থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন মাইক্রোসফটের এক কর্মকর্তা। আদালতের নথিতে তাঁর এমন মন্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পর কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইক্রোসফটের অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ট হেখটের মন্তব্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের করা কপিরাইট মামলার আদালতের নথিতে উঠে এসেছে।
অনলাইনের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের বিষয়ে হেখট লিখেছেন, বিশ্বের লাখো মানুষ তাদের তৈরি করা কাজ বড় এআই মডেল এভাবে সংগ্রহ করাকে নজিরবিহীন চুরি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর মতে, অধিকাংশ মানুষ তাদের তৈরি কনটেন্ট এভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিকও পাননি।
তবে এ বিষয়ে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের অবস্থান ভিন্ন। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, এআই মডেল প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত উপাদান ব্যবহার ‘ফেয়ার ইউজ’ নীতির আওতায় পড়ে। তাদের যুক্তি, এআই সিস্টেম কনটেন্ট হুবহু পুনঃপ্রকাশ না করে তা ব্যবহার করে নতুন ও রূপান্তরিত আউটপুট তৈরি করে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসসহ সংবাদমাধ্যমগুলো এই যুক্তির বিরোধিতা করছে। তাদের অভিযোগ, এআই পণ্যগুলো অনেক ক্ষেত্রে মূল সংবাদমাধ্যমের কনটেন্টের বিকল্প হয়ে উঠছে। ফলে একদিকে এআই মডেলগুলো সংবাদমাধ্যমের তৈরি কনটেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের মূল ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজনও কমে যাচ্ছে।
আদালতের নথিতে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলার বক্তব্যও উঠে এসেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, চ্যাটবটের মাধ্যমে সরাসরি এআই প্ল্যাটফর্মে তথ্য পাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর মূল ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
মাইক্রোসফটের তথ্যের বরাতে নথিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিং সার্চের তুলনায় কোপাইলটের ‘অ্যানসার ইঞ্জিনে’ নিউইয়র্ক টাইমস ও ডেইলি নিউজের ওয়েবসাইটে ক্লিকের হার ৮৩ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কম ছিল।
এদিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির প্রধান নিক টার্লি আদালতের জবানবন্দিতে এআই পণ্যগুলোকে সংবাদমাধ্যমের কনটেন্টের ক্ষেত্রে ‘অনেকটাই বিকল্পধর্মী’ বলে উল্লেখ করেছেন। ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানও সংবাদভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে এআই মডেলগুলোর কার্যকারিতার কথা বলেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস ২০২৩ সালে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, দ্য ইন্টারসেপ্ট ও সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও মামলায় যুক্ত হয়।
কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআই এখনো ‘ফেয়ার ইউজ’ যুক্তি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের মাধ্যমে তাদের কপিরাইট দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে এআই মডেল প্রশিক্ষণ, কনটেন্টের মালিকানা এবং সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array