খুঁজুন
                               
, ,
           

জ্বালানির আগুনে পুড়বে কি জনজীবন?

ইয়াহিয়া নয়ন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
জ্বালানির আগুনে পুড়বে কি জনজীবন?

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, শিল্প, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ জ্বালানির সাথে সব রকমের উৎপাদন ও পরিবহন জড়িত। রাজধানীতে যত নিত্যপন্য বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসে তার পথের খরচ বেড়ে যাবে বিশ শতাংশ। উৎপাদিত প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের দুর্গোতির কারণ হবে। অনেকে বলছেন, সরকারি চাকুরেদের বেতন বেড়েছে। কিন্তু তাদের সংখ্যাতো মাত্র কয়েক লাখ। কিন্তু কোটি কোটি মানুষেরতো আয় বাড়েনি।

টেলিভিশনের খবরে দেখলাম তাদের প্রতিনিধি উত্তরবঙের কৃষকদের সাথে কথা বলছেন। কৃষকরা সব হিসেব দিয়ে জানালা, কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়বে পঞ্চাশ ভাগ। সেই পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে মোট খরচ পড়বে কত। জ্বালানি তেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্য। এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খাত নয়, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব প্রায় সব খাতেই পড়বে।

সাধারণ মানুষ এমনিতেই উচ্চমূল্যের যাতাকলে রয়েছে তার ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সইবে কেমনে। সব শেষে একথাই কি সত্য যে সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবেনা। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দায়িত্বশীল সরকারকে আগে গণমানুষের কথা ভাবতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়, বিপিসির লোকসান কমানো এবং জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতেই এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে গত পাঁচ মাস দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

এখন নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি জ্বালানি পণ্যের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি। ভারতে (কলকাতা) প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা ২২ পয়সা এবং ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা।

এ ছাড়া মালদ্বীপে ১৪০ টাকা ৭১ পয়সা, ফিলিপাইনে ১৬৮ টাকা ৫৩ পয়সা, পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এ হিসাবে শুধু ডিজেলেই দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। একই হারে লোকসান অব্যাহত থাকলে বছরে ডিজেলে বিপিসির প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

সরকার বলছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি করছে সরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম কমানোর নজির নেই। বরং দাম বাড়ার সময় দ্রুত সমন্বয় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশে আসতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে হঠাৎ করে রাতারাতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তও একটি কারণ হতে পারে। আইএমএফের ঋণ পেতে সরকারকে যেসব শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এভাবে শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কতটা পড়বে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সাধারণ মানুষ এমনিতেই উচ্চমূল্যের যাতাকলে রয়েছে তার ওপর জ্বালানির আরো মূল্যবৃদ্ধি সইবে কেমনে। সব শেষে একথাই কি সত্য যে সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবেনা। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দায়িত্বশীল সরকারকে আগে গণমানুষের কথা ভাবতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক।

মাঠ থেকে বাজার—স্টেভিয়ায় নতুন সম্ভাবনা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
মাঠ থেকে বাজার—স্টেভিয়ায়  নতুন সম্ভাবনা

চিনির বিকল্প খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে স্টেভিয়াকে ঘিরে। চিনির তুলনায় বহুগুণ মিষ্টি অথচ ক্যালরিমুক্ত এই উদ্ভিদের ব্যবহার দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে। একই সঙ্গে লাভের সম্ভাবনা দেখে কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন চাষে। এখন প্রয়োজন উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারব্যবস্থাকে যুক্ত করা। সেটি সম্ভব হলে স্টেভিয়া শুধু বিকল্প মিষ্টিকারক নয়, হয়ে উঠতে পারে মূল্যসংযোজিত একটি নতুন কৃষিপণ্যের ভিত্তি।

  • চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে চাষও
  • টিস্যুকালচারে চারা উৎপাদন
  • তৈরি হচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো

মাঠে বাড়ছে আগ্রহ
তুলসীর মতো দেখতে স্টেভিয়ার উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিল অঞ্চলে। বাংলাদেশে এর চাষের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। পরে থাইল্যান্ড থেকে উন্নত চারা এনে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন ও বাজারজাতের পথ তৈরি হয়।

এখন রাজশাহী, পাবনা ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে স্টেভিয়া চাষ হচ্ছে। বিএসআরআই ও বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার টিস্যুকালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছে। মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারও সম্প্রতি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের হাতে মানসম্মত চারা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ছে।

বিএসআরআইর কর্মকর্তাদের হিসাবে, স্টেভিয়া চাষে ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। একবার রোপণের পর কয়েক বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়—এটিও কৃষকের কাছে ফসলটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।

চিনির বিকল্পে নতুন বাজার
স্টেভিয়ার মূল শক্তি এর মিষ্টতার ঘনত্ব। এর পাতা চিনির চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ গুণ এবং নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টিকারক কয়েক শ গুণ বেশি মিষ্টি হতে পারে। ফলে অল্প পরিমাণেই কাঙ্ক্ষিত মিষ্টতা পাওয়া যায়।

চা, কফি ও শরবতের মতো দৈনন্দিন পানীয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও বিকল্প মিষ্টিকারক তৈরিতে স্টেভিয়া ব্যবহার করা যায়। বাজারে ইতিমধ্যে স্টেভিয়াভিত্তিক বিকল্প চিনির পণ্যও রয়েছে। প্রাকৃতিক উৎসের মিষ্টিকারক হিসেবে এসব পণ্যের প্রতি ভোক্তার আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।

কৃষক থেকে শিল্পে যাওয়ার সুযোগ
স্টেভিয়ার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা শুধু পাতায় নয়, পাতার পরবর্তী মূল্য সংযোজনের জায়গায়। বর্তমানে অনেক কৃষক পাতা শুকিয়ে সরাসরি বিক্রি করছেন। এতে বাজার থাকলেও উৎপাদনের পুরো অর্থনৈতিক মূল্য কৃষকের হাতে আসে না।

পাতা থেকে নির্যাস, গুঁড়া, ট্যাবলেট বা খাদ্যশিল্পে ব্যবহারের উপযোগী উপাদান তৈরি করা গেলে একই জমি থেকে পাওয়া কাঁচামালের মূল্য অনেক বাড়তে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বিপণনের নতুন কর্মসংস্থান।

এই জায়গাটিতেই এগিয়ে আসছে সরকারি গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানগুলো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএসআরআই ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্টেভিয়া নিয়ে কাজ করছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি নিষ্কাশন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে কাঁচা পাতার বাজার থেকে শিল্পভিত্তিক বাণিজ্যের দিকে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।

চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, জাপান, চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতে স্টেভিয়ার ব্যবহার রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চিনি কমানোর প্রবণতা এবং ডায়াবেটিসের উচ্চ হার বিকল্প মিষ্টিকারকের বাজারকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব বাজারে রূপ দিতে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য চাহিদা-তথ্য, মাননিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি পাতা ব্যবহারের বদলে পরীক্ষিত ও মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

নতুন কৃষিপণ্যের পথে স্টেভিয়া
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চাষি মো. আব্দুল আলিম তিন বছর ধরে স্টেভিয়া চাষ করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, বাজারে চাহিদা থাকলেও এখনো মূলত শুকনো পাতা হিসেবেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতের সুযোগ তৈরি হলে কৃষকের আয় আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বিএসআরআই মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদও চাষিদের বাড়তে থাকা আগ্রহকে সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, গবেষণায় নতুন অগ্রগতি এলে স্টেভিয়ার বাজার দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে।

ফলে স্টেভিয়াকে ঘিরে সম্ভাবনাটি কেবল চিনির বিকল্প তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষকের জমি, গবেষণাগারের প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও ভোক্তার চাহিদা—এই চারটি স্তরকে একসূত্রে আনা গেলে স্টেভিয়া হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন মূল্যসংযোজনের গল্প। এখন চ্যালেঞ্জ একটাই—সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত শিল্পে রূপ দেওয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

পুলিশে বড় রদবদল, বদলি ২২ এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
পুলিশে বড় রদবদল, বদলি ২২ এসপি

নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী ও মেহেরপুর জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসপি পদমর্যাদার আরও ১৮ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

চার জেলায় নতুন পুলিশ সুপার

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে র‍্যাবের (এসআরবি) মো. বদরুদ্দোজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার হিসেবে র‍্যাবের মীর মনির হোসেন এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার বর্তমান পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে সিআইডিতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফকে এসবিতে, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদকে হাইওয়ে পুলিশে এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।

বিভিন্ন ইউনিটে আরও বদলি

লিয়েন শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করা মো. নূরুল আমীন হাওলাদারকে পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিআইডির ফাতিহা ইয়াসমিনকে এপিবিএনে, মোনালিসা বেগমকে রংপুর পিটিসিতে, মো. জাহিদুল ইসলামকে রাজশাহী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের মো. আবু হাসানকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ টেলিকমের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহকে ঢাকার পুলিশ টেলিকমে, মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকীকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এবং এসবির আমীনুল ইসলামকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া পিএসটিএসে বদলি করা হয়েছে।

রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের মো. নাছির উদ্দিন যুবায়ের ও শাহরিয়ার বিন সালেহকে যথাক্রমে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেলকে বরিশালের বিএমপিতে এবং খুলনা কেএমপির মেরিনা আক্তারকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাজীপুর জিএমপির মোহাম্মদ মহিউল ইসলামকে সিআইডিতে এবং মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি ও দুই অতিরিক্ত এসপিও বদলি

একই আদেশে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহম্মেদকে বরিশালের বিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন আক্তারকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং সিআইডির আসমা আখতারকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকে বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকে বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দেশটির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট প্রকল্পেও চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীন আগ্রহী।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ সময় চীনা দূতাবাস ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি