খুঁজুন
                               
, ,
           

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকে বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠকে বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দেশটির উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট প্রকল্পেও চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীন আগ্রহী।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ সময় চীনা দূতাবাস ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চীন-পাকিস্তান সীমান্ত কমিশন, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
চীন-পাকিস্তান সীমান্ত কমিশন, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তি

হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চল ঘিরে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে ভারত, পাকিস্তান ও চীন। পাকিস্তান ও চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে চুক্তি করেছে। দুই দেশের ভাষ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ।

তবে বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকাসহ সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ দাবি করে এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান ওই ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের চুক্তি করার আইনগত অধিকার রাখে না।

‘পাকিস্তান-চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি। এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

ভারতের দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং চীনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ওই ভূখণ্ড ভারতের। ফলে সেখানে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত চূড়ান্ত করার উদ্যোগ ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

এদিকে পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলছে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। ফলে ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে করা সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারতের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

শাকসগাম উপত্যকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন যৌথ কমিশনের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল চীনের কাছে হস্তান্তর করে।

ভারত ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। নয়াদিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ ছিল এবং পাকিস্তান সেটি দখলে নেওয়ার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের ভাষায় ‘অবৈধভাবে ও জোর করে দখল করে রাখা’ ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো চুক্তি করার আইনগত এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই।

পুরোনো ব্যবস্থাই কি নতুন করে সক্রিয়?

দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকবের মতে, যৌথ সীমান্ত কমিশনের ধারণাটি পুরোপুরি নতুন নয়। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিতেই এমন কমিশনের কথা বলা হয়েছিল।

তবে এখন কেন সেটিকে সক্রিয় করা হলো, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, চীনের সীমান্তগুলোকে আরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ও চলাচল ব্যবস্থাকে কাঠামোবদ্ধ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হতে পারে এটি।

জ্যাকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি উদ্বেগের হলেও এর অর্থ এই নয় যে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পরিবর্তন ঘটছে।

চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের কৌশলগত দিক

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধ সীমান্ত পারাপার ঠেকানো এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় এতে রয়েছে।

হাক্কানির মতে, এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিও একটি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে—কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বের পাশাপাশি সিপিইসি চীনের বৃহত্তর বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কাঠামোবদ্ধ হতে পারে।

ভারত-চীন সম্পর্কেও চলছে সমীকরণ

চীন-পাকিস্তান উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারত ও চীন নিজেদের সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আগস্টে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর দুই দেশ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

তবে ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। দুই দেশের মধ্যে হিমালয়জুড়ে দীর্ঘ ও বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশনের উদ্যোগকে শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তাদের মতে, এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণও প্রতিফলিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাবের চেয়ে এর কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বই বেশি। ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত সহযোগিতাকে কীভাবে এগিয়ে নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রার্থনা থেকে প্রাঙ্গণ—উন্নয়নের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা

একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু সড়ক, সেতু কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর হিসাবেই মাপা যায় না। মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত স্থানগুলোও স্থানীয় জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বিবেচনায় দেশের ৬৪ জেলার সব উপজেলায় সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, কবরস্থান ও ঈদগাহে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় সরকারি উদ্যোগ
  • ৬৪ জেলার উপজেলা পর্যায়ে ছড়াবে উন্নয়নের পরিধি
  • উপজেলা পর্যায়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ২,৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রস্তাবিত ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এর আওতায় কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা ও ঈদগাহসহ ৫৩ হাজার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা প্রকল্পটির পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার কথা।

উন্নয়নের পরিধি যাবে প্রান্তিক জনপদেও
প্রকল্পটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ভৌগোলিক বিস্তৃতি। দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার সব উপজেলা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিটি করপোরেশন এলাকা এর বাইরে রাখা হলেও উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পটির বিস্তৃতি স্থানীয় জনপদে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সীমিত অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম চালায়। কোথাও সীমানাপ্রাচীর প্রয়োজন, কোথাও সংস্কার, আবার কোথাও মানুষের সমাগমের উপযোগী জায়গার ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব প্রয়োজন চিহ্নিত করা গেলে প্রকল্পের অর্থ স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অবকাঠামোর সঙ্গে সম্প্রীতির লক্ষ্য
প্রকল্প প্রস্তাবে শুধু স্থাপনা নির্মাণ বা সংস্কারকে লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কল্যাণ, ধর্মীয় চেতনা ও সম্প্রীতি সুসংহত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় আচার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নত হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিক থেকে প্রকল্পটির গুরুত্ব কেবল অবকাঠামোগত নয়। স্থানীয় সামাজিক পরিসরকে আরও সক্রিয় করার সম্ভাবনাও এতে রয়েছে।

৫৩ হাজার স্থাপনায় বড় কর্মযজ্ঞ
প্রকল্পের আওতায় ৫৩ হাজার স্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিঃসন্দেহে বড় পরিসরের কর্মযজ্ঞ। এর মাধ্যমে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উন্নত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়াতে পারে।

তবে এত বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় আনতে হলে অগ্রাধিকার নির্ধারণ হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত ঘাটতি বেশি, কোথায় মানুষের ব্যবহার বেশি এবং কোথায় সরকারি সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে জরুরি—এসব সূচক অনুসরণ করে নির্বাচন করা হলে বিনিয়োগের সুফলও বেশি বিস্তৃত হতে পারে।

বাছাইয়ে স্বচ্ছতার ওপর জোর
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনস্বার্থ ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আগে সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বরাদ্দ না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বদলে প্রয়োজনভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারলে প্রকল্পটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ডিপিপিতে যুক্ত করার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পের আওতা ও বরাদ্দ সম্পর্কে স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে।

সৌন্দর্য নয়, প্রয়োজনই হোক অগ্রাধিকার
পরিকল্পনা কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, প্রকল্পের অর্থ সীমানাপ্রাচীরে টাইলস বসানো, বাইরের দেয়াল সাজানো কিংবা ফটক দৃষ্টিনন্দন করার মতো সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ সীমিত সরকারি সম্পদকে দৃশ্যমান সাজসজ্জার বদলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সফটওয়্যার, যানবাহন, প্রচার, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতের ব্যয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন—আরও স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পুরোনোর অভিজ্ঞতা, নতুন প্রকল্পে শিক্ষা
নতুন প্রকল্পটির সঙ্গে চলমান ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের মিল রয়েছে। তাই পুরোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা নতুন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। চলমান প্রকল্পটির জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ০৪ শতাংশ হওয়ায় এর ধীরগতির কারণ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নতুন প্রকল্পের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে প্রয়োজনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, স্বচ্ছ বরাদ্দ, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ের কঠোর নজরদারির ওপর। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ শুধু হাজার হাজার সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনার অবকাঠামো বদলাবে না; স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মিলন, সামাজিক অংশগ্রহণ ও সম্প্রীতির পরিসরও আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।

এম/এএইচ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে পরামর্শ দেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি