খুঁজুন
                               
, ,
           

দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন, এশিয়ায় কেন এত পিছিয়ে বাংলাদেশ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন, এশিয়ায় কেন এত পিছিয়ে বাংলাদেশ?

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফল্যের গল্প বেশ সমৃদ্ধ। সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুইবার, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় একাধিকবার নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা পেরিয়ে এশিয়ার বড় দলগুলোর সামনে দাঁড়ালেই বাস্তবতাটা যেন বদলে যায়।

এশিয়ান গেমসের এবারের আসরেও সেই বাস্তবতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায়নি, গোলও করতে পারেনি। বিপরীতে হজম করেছে ১৬ গোল। সবচেয়ে বড় বিষয়, তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

তবু শেষ ম্যাচে এসে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে দল। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে পিটার বাটলারের দল। র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে হার এড়ানো তাই পুরোপুরি নেতিবাচক ফলও নয়।

রুপনার সেভে বড় হার এড়ানো

উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমার ওপর দিয়ে গেছে বড় চাপ। দুই ম্যাচে তিনি আটটি সেভ করেছেন। তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ না থাকলে বাংলাদেশের গোল হজমের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

তবে গোলরক্ষকের এমন পারফরম্যান্সও দলের মূল সমস্যাটা আড়াল করতে পারেনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ নিজেদের আক্রমণেও খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান বিশাল

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের শক্তির ব্যবধান ছিল সবচেয়ে বেশি। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭ নম্বরে। ৯৬ ধাপের এই ব্যবধান শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠেও স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্বকাপ, এশিয়ান কাপ, অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমস—প্রায় প্রতিটি বড় মঞ্চেই উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়াও একইভাবে এগিয়ে। র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৯তম। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান ৮৮ ধাপ। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান গেমসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য আক্রমণ গড়ে তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার সাফল্য কেন কাজে আসছে না?

পরিসংখ্যানেই এর একটি ছবি পাওয়া যায়। সাফে ৩১ ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ৭৯ গোল, হজম করেছে ৪৫টি। সাউথ এশিয়ান গেমসের দুই আসরে আট ম্যাচে গোল করেছে আটটি।

অর্থাৎ আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে গেলে গতি, শারীরিক সক্ষমতা, বল দখল, আক্রমণ সংগঠন ও ম্যাচের চাপ সামলানোর জায়গায় পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত মার্চে এশিয়ান কাপেও বাংলাদেশ তিন ম্যাচে ১১ গোল হজম করেছিল, কিন্তু কোনো গোল করতে পারেনি। এবার এশিয়ান গেমসেও প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেল।

বাটলারের চোখে ‘কঠিন শিক্ষা’

এশিয়ান গেমস শেষে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো বাংলাদেশের জন্য কঠিন শিক্ষা। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে দলকে নিয়ে সন্তুষ্ট বাটলার। তাঁর মতে, আগের দুই ম্যাচের তুলনায় শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছে এবং রক্ষণভাগও ভালো করেছে।

মিয়ানমারকে হারাতে না পারলেও ড্রয়ে অন্তত পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পেরেছে বাংলাদেশ।

সামনে এগোনোর পথটা এখানেই

এশিয়ান গেমসে তিন ম্যাচে গোল নেই, জয় নেই। ১৬ গোল হজমের বিপরীতে লক্ষ্যে নেই একটি শটও। তাই ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না।

তবে এই কঠিন ম্যাচগুলো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সামনে বাস্তব চিত্রটাও পরিষ্কার করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখন লক্ষ্য যদি এশিয়ার বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়, তাহলে সেই ব্যবধান কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিটি বিভাগে আরও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।

এশিয়ান গেমস তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু ফলাফলের টুর্নামেন্ট নয়—নিজেদের বর্তমান অবস্থান বোঝারও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে থাকল।

কালের আলো/এসএ

পে-স্কেলে বাড়ি ভাতার হিসাবেই যত গরমিল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলে বাড়ি ভাতার হিসাবেই যত গরমিল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রেডভেদে বাড়ি ভাতার শতাংশে বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে মূল বেতন বাড়লেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক প্রাপ্য বেতন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি উচ্চতর গ্রেডে থাকা কর্মচারীর চেয়ে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মোট বেতন বেশি হওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেটের তথ্য বিশ্লেষণে এমন অসংগতি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ১৫, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের বেতন ও বাড়ি ভাতা তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

বাড়ি ভাতার হারেই বদলে যাচ্ছে বেতনের হিসাব
নতুন স্কেলে ১৫ গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। এ গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৯৮০ টাকা। অন্যদিকে ১৬ গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা—১৫ গ্রেডের চেয়ে ৯০০ টাকা কম। কিন্তু এ গ্রেডে বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫ শতাংশ হওয়ায় ভাতা দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। ফলে মূল বেতন কম হলেও বাড়ি ভাতার কারণে ১৬ গ্রেডের মোট প্রাপ্য ১৫ গ্রেডের তুলনায় ৯৭৫ টাকা বেশি।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ১৫ ও ১৭ গ্রেডের ক্ষেত্রেও। ১৭ গ্রেডের মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ টাকা, যা ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা কম। কিন্তু ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পাওয়ায় মোট প্রাপ্য ১৫ গ্রেডের চেয়ে ২৫০ টাকা বেশি হচ্ছে। আবার ১৪ গ্রেডের মূল বেতন ২৩ হাজার ৭০০ টাকা হলেও ১৬ গ্রেডের মোট প্রাপ্যের সঙ্গে ব্যবধান থাকছে মাত্র ১৭০ টাকা।

  • উচ্চতর গ্রেডে গিয়েও কমতে পারে মোট বেতন
  • অসন্তোষ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে

পদোন্নতির সুফল নিয়ে প্রশ্ন
এমন পরিস্থিতিতে পদোন্নতির পর সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, উচ্চতর গ্রেডে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার শতাংশ কমে গেলে সেই বৃদ্ধির একটি বড় অংশ কার্যত সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হারে পার্থক্য এবং ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ না থাকাই এই অসংগতির অন্যতম কারণ। ফলে নতুন পে-স্কেলে পদোন্নতি পাওয়ার পর একজন কর্মচারীর মোট মাসিক প্রাপ্য কতটা বাড়বে, সেটি শুধু মূল বেতন দিয়ে বোঝার সুযোগ থাকছে না।

পুরোনো ব্যবস্থায় ছিল ন্যূনতম বাড়ি ভাড়ার সুবিধা
বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে নতুন কাঠামোর পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। তবে ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া ৫ হাজার ৬০০ টাকা। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে বাড়ি ভাড়া ৬০ শতাংশ, ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা। ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে ৫৫ শতাংশ, ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা। আর ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি মূল বেতনে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, যার ন্যূনতম পরিমাণ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে বাড়ি ভাতার হার পরিবর্তনের কারণে সেই ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক, সংশোধনের দাবি
গেজেট প্রকাশের পর বাড়ি ভাতাসহ নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জুলাই থেকে কার্যকর, বকেয়া মিলবে পরে
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। এ জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস এ তথ্য দেওয়ার পর নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে। পরে ডিডিও এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদন শেষে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। এরপর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া সুবিধার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের দাবি, পদোন্নতিতে মূল বেতন বাড়ার সুফল যেন বাড়ি ভাতার হার কমে যাওয়ায় নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রেড বাড়ার সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধাও যেন যৌক্তিকভাবে বাড়ে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাতার বিশ্বকাপ থেকে স্পেন বিদায় নেওয়ার পর লুইস এনরিকের জায়গায় জাতীয় দলের দায়িত্ব পান লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, স্পেনের ডাগআউটে তাঁর অধ্যায় এত দীর্ঘ হবে।

কাতার বিশ্বকাপের পর দে লা ফুয়েন্তেকে স্পেনের কোচ করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কারণ, তার আগে প্রায় এক দশক কোনো সিনিয়র জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। তবে স্পেনের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

এনরিকের বিদায়ের পর অনেক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, স্পেনের দরকার এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সোনালি প্রজন্মের মতো আরেকটি সফল দল তৈরি করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তেই আস্থা অর্জন করেছেন।

ট্রফিই দিয়েছে চুক্তির পুরস্কার

দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তের সাফল্যের তালিকা দ্রুতই বড় হয়েছে। তাঁর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০২৪ ইউরো পর্যন্ত। এর মধ্যেই স্পেনকে ২০২৩ নেশনস লিগ ও ২০২৪ ইউরোর শিরোপা এনে দেন তিনি।

সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত করা হয়। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর আবারও তাঁকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নতুন চুক্তিতে আরও ছয় বছর স্পেনের কোচ থাকবেন দে লা ফুয়েন্তে। অর্থাৎ ২০৩২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।

মাদ্রিদে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ চুক্তি

নতুন এই চুক্তি স্পেনের কোনো প্রধান কোচের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রেকর্ড তৈরি করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে আগামী তিনটি বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ডাগআউটে থাকবেন। ২০২৮ ইউরো, ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং তুরস্ক ও ২০৩২ ইউরো—এই তিন আসরেও তাঁর হাতেই থাকবে স্পেনের দায়িত্ব।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে ৬৫ বছর বয়সী কোচের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

শুধু একটি ট্রফিই অধরা

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন পর্যন্ত তিনটি বড় ট্রফি জিতেছে—নেশনস লিগ, ইউরো ও বিশ্বকাপ। তবে ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপাটি জেতা হয়নি।

সেই আসরের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় স্পেন। ফলে দে লা ফুয়েন্তের কোচিং অধ্যায়ে আপাতত সেটিই একমাত্র বড় ট্রফি, যা তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।

৫০ ম্যাচে ৩৮ জয়

স্পেনের কোচ হিসেবে দে লা ফুয়েন্তের পরিসংখ্যানও তাঁর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে স্পেনকে ৩৮টি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ড্র করেছেন ১০ ম্যাচে, হার মাত্র ২টি।

এই দুই হারের একটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে—প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দে লা ফুয়েন্তের একমাত্র হার। অন্য পরাজয়টি এসেছে লন্ডনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।

তাঁর অধীনে দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রাও গড়েছে স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন স্পেনের।

২০২২ সালে যাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দে লা ফুয়েন্তেই এখন স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পাওয়া কোচ। একের পর এক শিরোপা ও ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের ডাগআউটে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। ভর্তির সংখ্যায় এটি এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৯৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে গত ২২ দিনে ৯৮ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৬০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৭৮১ জন, খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন, বরিশালে ১৯০, চট্টগ্রামে ২৮৫ জন, ময়মনসিংহে ১০৫, রংপুরে ৬৭ জন, রাজশাহী ১৬২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ