খুঁজুন
                               
, ,
           

২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাতার বিশ্বকাপ থেকে স্পেন বিদায় নেওয়ার পর লুইস এনরিকের জায়গায় জাতীয় দলের দায়িত্ব পান লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, স্পেনের ডাগআউটে তাঁর অধ্যায় এত দীর্ঘ হবে।

কাতার বিশ্বকাপের পর দে লা ফুয়েন্তেকে স্পেনের কোচ করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কারণ, তার আগে প্রায় এক দশক কোনো সিনিয়র জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। তবে স্পেনের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

এনরিকের বিদায়ের পর অনেক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, স্পেনের দরকার এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সোনালি প্রজন্মের মতো আরেকটি সফল দল তৈরি করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তেই আস্থা অর্জন করেছেন।

ট্রফিই দিয়েছে চুক্তির পুরস্কার

দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তের সাফল্যের তালিকা দ্রুতই বড় হয়েছে। তাঁর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০২৪ ইউরো পর্যন্ত। এর মধ্যেই স্পেনকে ২০২৩ নেশনস লিগ ও ২০২৪ ইউরোর শিরোপা এনে দেন তিনি।

সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত করা হয়। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর আবারও তাঁকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নতুন চুক্তিতে আরও ছয় বছর স্পেনের কোচ থাকবেন দে লা ফুয়েন্তে। অর্থাৎ ২০৩২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।

মাদ্রিদে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ চুক্তি

নতুন এই চুক্তি স্পেনের কোনো প্রধান কোচের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রেকর্ড তৈরি করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে আগামী তিনটি বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ডাগআউটে থাকবেন। ২০২৮ ইউরো, ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং তুরস্ক ও ২০৩২ ইউরো—এই তিন আসরেও তাঁর হাতেই থাকবে স্পেনের দায়িত্ব।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে ৬৫ বছর বয়সী কোচের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

শুধু একটি ট্রফিই অধরা

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন পর্যন্ত তিনটি বড় ট্রফি জিতেছে—নেশনস লিগ, ইউরো ও বিশ্বকাপ। তবে ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপাটি জেতা হয়নি।

সেই আসরের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় স্পেন। ফলে দে লা ফুয়েন্তের কোচিং অধ্যায়ে আপাতত সেটিই একমাত্র বড় ট্রফি, যা তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।

৫০ ম্যাচে ৩৮ জয়

স্পেনের কোচ হিসেবে দে লা ফুয়েন্তের পরিসংখ্যানও তাঁর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে স্পেনকে ৩৮টি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ড্র করেছেন ১০ ম্যাচে, হার মাত্র ২টি।

এই দুই হারের একটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে—প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দে লা ফুয়েন্তের একমাত্র হার। অন্য পরাজয়টি এসেছে লন্ডনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।

তাঁর অধীনে দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রাও গড়েছে স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন স্পেনের।

২০২২ সালে যাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দে লা ফুয়েন্তেই এখন স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পাওয়া কোচ। একের পর এক শিরোপা ও ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের ডাগআউটে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে একটি নতুন ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ

ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।

এর ফলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বদলে যাচ্ছে এএফএমসি, উন্নত চিকিৎসক তৈরিতে নতুন ছক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে এএফএমসি, উন্নত চিকিৎসক তৈরিতে নতুন ছক

চিকিৎসা শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি)। শুধু পাঠ্যবই আর শ্রেণিকক্ষনির্ভর শিক্ষা নয়—হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, আধুনিক সিমুলেশন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং বাস্তবভিত্তিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব ডেডিকেটেড ট্রেনিং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ক্লিনিক্যাল স্কিলস অ্যান্ড সিমুলেশন ল্যাবরেটরিকে আরও আধুনিক ও বড় পরিসরে নেওয়া, ক্যাডেট সংখ্যা বাড়ানো, একাডেমিক ভবন ও মহিলা ডরমেটরি সম্প্রসারণ—একসঙ্গে একাধিক উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে এএফএমসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

  • ১৯তম কাউন্সিল সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
  • ডেডিকেটেড ট্রেনিং হাসপাতাল, আধুনিক সিমুলেশন ল্যাব ও ক্যাডেট সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ
  • শিক্ষা-গবেষণা-প্রশিক্ষণে একসঙ্গে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনী প্রধান ও কাউন্সিল অব দ্য কলেজের চেয়ারম্যান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এএফএমসির ১৯তম কাউন্সিল অব দ্য কলেজ সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্রেণিকক্ষ থেকে বাস্তব চিকিৎসায়
চিকিৎসা শিক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়। সেই জায়গাটিতেই জোর দিচ্ছে এএফএমসি। সভায় নিজস্ব ডেডিকেটেড ট্রেনিং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ আরও কাঠামোবদ্ধ ও বাস্তবভিত্তিক করার সুযোগ তৈরি হবে। রোগী ব্যবস্থাপনা, ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের পরিসরও বাড়বে। অর্থাৎ চিকিৎসক তৈরির প্রক্রিয়ায় শুধু ‘জানা’ নয়, বাস্তবে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বদলে যাচ্ছে সিমুলেশন ল্যাব
প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি রয়েছে। বিদ্যমান ক্লিনিক্যাল স্কিলস অ্যান্ড সিমুলেশন ল্যাবরেটরিকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত পরিসরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাউন্সিল সভা শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদ্যমান ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। পরে নতুন স্থানে আধুনিক সিমুলেশন ল্যাবরেটরি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

চিকিৎসা শিক্ষায় সিমুলেশন প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের বাস্তব রোগীর ওপর কাজ করার আগে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি অনুশীলনের সুযোগ দেয়। ফলে নতুন ল্যাবরেটরি এএফএমসির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাড়ছে ক্যাডেট ও পরিসর
শিক্ষার্থী বাড়ানোর পরিকল্পনাও এসেছে নতুন রূপরেখায়। ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্যাডেট সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ২৯তম ব্যাচের ক্যাডেট ভর্তি কার্যক্রম নিয়েও সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ক্যাডেট সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে একাডেমিক ভবন এবং মহিলা ডরমেটরির বর্ধিতাংশ নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থী বাড়ানো নয়, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও আবাসন অবকাঠামো তৈরির দিকটিও একই সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষে নতুন নজর
এএফএমসির শিক্ষার মান আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়টি সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। সাম্প্রতিক পেশাগত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে গবেষণার সংযোগ আরও জোরালো করার বিষয়টিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবর্তিত চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি জ্ঞান ও গবেষণার পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

হাসপাতাল-ল্যাবের পাশাপাশি সবুজ জ্বালানি
এএফএমসির উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাকে যুক্ত করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

৫৬ ক্যাডেট থেকে এএফএমসি
১৯৯৯ সালের ২০ জুন মাত্র ৫৬ জন মেডিকেল ক্যাডেট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির মাধ্যমে এএফএমসির একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই ছোট পরিসরের প্রতিষ্ঠান এখন চিকিৎসা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার আরও বিস্তৃত পরিসরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৯তম কাউন্সিল অব দ্য কলেজ সভার সিদ্ধান্তগুলো সেই পরিবর্তনেরই একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সভায় ডিজিএমএস মেজর জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হোসাইন আল মোরশেদ, এএফএমসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. মাসুদুল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা, অর্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাউন্সিলের সদস্য এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

সামনে লক্ষ্য—আরও দক্ষ চিকিৎসক
এএফএমসির সামনের পরিকল্পনায় তাই কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট—আধুনিক একাডেমিক শিক্ষা, বাস্তবভিত্তিক ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর সিমুলেশন, গবেষণা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বাড়তি ক্যাডেটের জন্য সক্ষমতা তৈরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এএফএমসির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনি ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের দক্ষতা তৈরির পরিসরও বাড়বে। আর সেই লক্ষ্যেই ৫৬ ক্যাডেট দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রবেশ করছে চিকিৎসা শিক্ষার আরও আধুনিক এক অধ্যায়ে।

এম/এএইচ