খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ চান ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের প্রতি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প বিশ্বের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকরের আহ্বান জানান। তার এ বক্তব্যের পর অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত নেতাদের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত করতালিও শোনা যায়।

ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, একসময় দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করত। তবে এখন সেই অবস্থান আর নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারের বিরোধী কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের হাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা ইরানে স্বৈরশাসনেরও নিন্দা জানান।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই বিরোধের পাশাপাশি ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত দুই মাস ধরে ওই যুবকের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই।

ভুক্তভোগী সাইদুলের পরিবারের অভিযোগ, ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির উদ্দেশে সাইদুলকে নেওয়া হলেও তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে পরিবারের দাবি।

লিবিয়ায় জিম্মির অভিযোগ

স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে স্থানীয় একটি চক্রের কাছে জিম্মি করা হয়। তাকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলায় দালাল আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।’

অভিযুক্ত আনোয়ারের স্ত্রী শিল্পী আক্তারও পরিবারের দাবি করা টাকার পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।’

আদালতের নির্দেশনা পেলে মামলা হবে

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার আদালতে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জে ২০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আটতলা ভবন। তবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নিজস্ব ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম।

শহরের হাসনগর ময়নার পয়েন্টসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে প্রায় তিন বছর ধরে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী, চেয়ার-টেবিল ও নথিপত্র। একটি কক্ষে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কক্ষে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

একটি ছোট কক্ষে দুটি শয্যা বসিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে লেবার রুম হিসেবে। ভবনের সিঁড়ির নিচে করা হয়েছে ডিসপেনসারি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গাও নেই।

কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা, শিশু ও কিশোরীদের জন্য ২০ শয্যার চিকিৎসাসুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কক্ষ, পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটার (ওটি), কেবিন ও অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের ডিএস রোড এলাকায় কেন্দ্রটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেটের অধীনে আটতলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবনটির সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ শেষ হলেও অষ্টম তলার ছাদ ও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় পড়ে আছে বাঁশ, কাঠের তক্তাসহ নির্মাণসামগ্রী।

রোগীর স্বজন নুরুল আমিন বলেন, গুরুতর রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় যেতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো উপকৃত হতো।

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. প্রিয়াঙ্কা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমান ভবনে আরও কয়েকটি কক্ষ থাকলে আলাদা ওটি, পোস্ট-অপারেটিভ সেবা ও রোগীদের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা করা যেত।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। ২০২৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ অসমাপ্ত থাকে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ করা হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাবারের সংকটে পড়েছে বানর। বনের ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় লোকালয়ে গিয়ে খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে এসব প্রাণীকে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে অপছন্দের টক ফল আনারকলিও খেতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

লাউয়াছড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিরহরিৎ বনাঞ্চল। প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এখানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।

উল্লুকের জন্য বিখ্যাত লাউয়াছড়ায় চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছো বিড়াল, রাম কুকুর ও মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। তবে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বানরের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

কমেছে বনের প্রাকৃতিক খাদ্য

বানর মূলত ফলভোজী প্রাণী। কলাসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও নরম ফল তাদের পছন্দ। পাশাপাশি তারা পাতা, বীজ, ফুল ও পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে বনের অনেক ফলদ গাছ কমে যাওয়ায় তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যের জোগানও কমেছে।

বন উজাড় ও বনাঞ্চলের পরিবর্তনের ফলে বানরের খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় বানরের দল লোকালয়ে চলে আসে। লাউয়াছড়ার প্রধান প্রবেশপথেও পর্যটকদের আশপাশে নিয়মিত দেখা যায় তাদের।

পর্যটকদের খাবারের ওপর নির্ভরতা

লাউয়াছড়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে কলা, বাদাম, মুড়ি ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবার পেয়ে থাকে বানরগুলো। অনেক সময় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া খাবারও তারা সংগ্রহ করে খায়।

তবে ক্ষুধার তাড়নায় এখন তাদের টক জাতীয় পাহাড়ি ফল ট্যাং ফল বা আনারকলি খেতেও দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে টক ফল বানরের খুব একটা পছন্দ নয়। তারপরও খাদ্যসংকটের কারণে এসব ফল খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল গেটের সামনে একটি বানরকে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আনারকলি খেতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।

কালের আলো/এমএসআইপি