খুঁজুন
                               
, ,
           

নেত্রকোনা-দুর্গাপুর সড়ক

কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেএকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ডেউটুকোন এলাকায় কংস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৫০ বছরের। কিন্তু নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।

নেত্রকোনা-ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কের মাঝখানে কংস নদী অবস্থিত। নদীর দুই পাশে সড়ক যোগাযোগ সচল থাকলেও সেতু না থাকায় নৌকায় নদী পার হতে হয়। নেত্রকোনা সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। অথচ রাজুর বাজার হয়ে ডেউটুকোন সেতু নির্মাণ করা গেলে দুর্গাপুরের সঙ্গে দূরত্ব কমে প্রায় ২৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই কংস নদী পারাপারে দুর্ভোগ চলছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে নদী পারাপারের জন্য একটি ফেরি চালু করা হলেও সেটিও অল্পদিনের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে নৌকাই পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে ডেউটুকোন ঘাটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে মাপজোখ ও টেন্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছেন।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খারুল ইসলাম বলেন, ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। কংস নদীর ওপর সেতুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফিজিবিলিটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ড্রয়িং ও ডিজাইন শেষ হলে ডিপিপি তৈরি করে প্রকল্প জমা দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডেউটুকোন সেতুর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেউটুকোন, সোমেশ্বরী ও বরুয়াকোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেউটুকোন সেতুটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতুটি নির্মিত হলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নেত্রকোনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে যাতায়াতের দূরত্ব, সময় ও খরচ।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মিলনায়তন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ট্রেজারি চালান ছাড়াই প্রতিদিন ৩ হাজার ৭৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোরশার আরটিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এমনকি কেন্দ্রটির উদ্বোধনের ঘোষণাও আসেনি। এর মধ্যেই মিলনায়তনটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রটির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তিনি চারঘাটে নিজ কর্মস্থলে থেকেই পোরশার কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রটির দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমানকে। এ ছাড়া সরকারি খরচে কেন্দ্রটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন আনসার সদস্য।

নগদ টাকা, পরে বিকাশে পাঠানোর দাবি

মিলনায়তন দেখভালের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছে মিলনায়তন ভাড়া দেন। ভাড়া বাবদ নগদে নেওয়া টাকা পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঊর্ধ্বতনদের সম্মতির দাবি

মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতেই মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

তবে ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানে না স্থানীয় প্রশাসন

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই কীভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। সরকারি কোনো স্থাপনা বা মিলনায়তন বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে।

তিনি বলেন, মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি। ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।

উদ্বোধনের আগেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ঘটনা এবং আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান নদীতে ইলিশের আশায় দিন-রাত জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না তাদের। এর মধ্যে মাথায় রয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা। সামনে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, দেউরি, বাদুরতলা ও চল্লিশকাউনিয়া এবং নলছিটি উপজেলার মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুমকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই নৌকা ও জাল মেরামত, নতুন জাল কেনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিতে টাকা খরচ করেন তারা। নিজেদের সঞ্চয় না থাকায় অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ কিংবা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন। মৌসুমে ভালো ইলিশ পেলে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় সেই হিসাব ভেস্তে যাচ্ছে।

দেউরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে নুরু মিয়া বলেন, জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশ পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি—এসব তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না। সারাদিন নদীতে থাকার পর অনেক সময় নৌকার তেলের খরচও ওঠে না।

তিনি বলেন, সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তখন মাছ ধরতে পারবেন না। কিন্তু সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি চলতেই থাকবে। তাই কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই অবস্থা আকাব্বর মৃধার। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন তিনি। মৌসুমের আগে নৌকা ও জাল কেনা-মেরামতের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাছ বিক্রির আয় থেকে নৌকার তেল, জাল, বরফ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে হাতে খুব কম টাকাই থাকছে বলে জানান তিনি।

বাদুরতলা এলাকার জেলে কাদের মাঝিও একই সমস্যার কথা জানান। তার ভাষ্য, সারাদিন নদীতে থাকার পর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নৌকার তেল ও অন্যান্য খরচই ঠিকমতো ওঠে না। এর সঙ্গে রয়েছে সংসারের ব্যয় ও ঋণের কিস্তি। নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কাঁঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, এ অঞ্চলের জেলেরা সারা বছর ইলিশের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। বছরের কয়েক মাস ইলিশ ধরে পাওয়া আয় দিয়েই অনেক পরিবার বাকি সময়ের খরচ মেটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এবার ইলিশ কম থাকায় প্রত্যাশিত আয় হয়নি। একদিকে এনজিওর কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা—সব মিলিয়ে জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে।

জেলেরা জানান, নদীতে মাছ কম থাকলেও নদীতে নামার খরচ কমে না। জ্বালানি, বরফ, খাবার এবং নৌকা-জালের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিনই টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ না উঠলে এসব খরচও অনেক সময় উঠে আসে না। ফলে মাছ কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধার-দেনাও বাড়ছে।

প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ইলিশ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে এ সময় কয়েকশ জেলে ইলিশ ধরেন। এই কয়েক মাসের আয়ের ওপর অনেক পরিবারের সারা বছরের জীবনযাত্রা নির্ভর করে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নৌকা-জালের খরচ মেটান তারা।

তবে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় সেই আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদীতে ইলিশের ঝাঁক পাওয়াকেই এখন শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার নদ-নদীতে এ বছর তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। নদীর পানিদূষণ ও পলি জমার কারণে এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মাছ ধরার আয় না থাকলেও ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে। তাই নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন ঝালকাঠির জেলেরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত দুই মাস ধরে ওই যুবকের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই।

ভুক্তভোগী সাইদুলের পরিবারের অভিযোগ, ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির উদ্দেশে সাইদুলকে নেওয়া হলেও তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে পরিবারের দাবি।

লিবিয়ায় জিম্মির অভিযোগ

স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে স্থানীয় একটি চক্রের কাছে জিম্মি করা হয়। তাকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলায় দালাল আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।’

অভিযুক্ত আনোয়ারের স্ত্রী শিল্পী আক্তারও পরিবারের দাবি করা টাকার পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।’

আদালতের নির্দেশনা পেলে মামলা হবে

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার আদালতে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি