খুঁজুন
                               
, ,
           

মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান নদীতে ইলিশের আশায় দিন-রাত জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না তাদের। এর মধ্যে মাথায় রয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা। সামনে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, দেউরি, বাদুরতলা ও চল্লিশকাউনিয়া এবং নলছিটি উপজেলার মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুমকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই নৌকা ও জাল মেরামত, নতুন জাল কেনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিতে টাকা খরচ করেন তারা। নিজেদের সঞ্চয় না থাকায় অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ কিংবা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন। মৌসুমে ভালো ইলিশ পেলে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় সেই হিসাব ভেস্তে যাচ্ছে।

দেউরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে নুরু মিয়া বলেন, জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশ পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি—এসব তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না। সারাদিন নদীতে থাকার পর অনেক সময় নৌকার তেলের খরচও ওঠে না।

তিনি বলেন, সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তখন মাছ ধরতে পারবেন না। কিন্তু সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি চলতেই থাকবে। তাই কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই অবস্থা আকাব্বর মৃধার। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন তিনি। মৌসুমের আগে নৌকা ও জাল কেনা-মেরামতের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাছ বিক্রির আয় থেকে নৌকার তেল, জাল, বরফ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে হাতে খুব কম টাকাই থাকছে বলে জানান তিনি।

বাদুরতলা এলাকার জেলে কাদের মাঝিও একই সমস্যার কথা জানান। তার ভাষ্য, সারাদিন নদীতে থাকার পর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নৌকার তেল ও অন্যান্য খরচই ঠিকমতো ওঠে না। এর সঙ্গে রয়েছে সংসারের ব্যয় ও ঋণের কিস্তি। নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কাঁঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, এ অঞ্চলের জেলেরা সারা বছর ইলিশের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। বছরের কয়েক মাস ইলিশ ধরে পাওয়া আয় দিয়েই অনেক পরিবার বাকি সময়ের খরচ মেটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এবার ইলিশ কম থাকায় প্রত্যাশিত আয় হয়নি। একদিকে এনজিওর কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা—সব মিলিয়ে জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে।

জেলেরা জানান, নদীতে মাছ কম থাকলেও নদীতে নামার খরচ কমে না। জ্বালানি, বরফ, খাবার এবং নৌকা-জালের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিনই টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ না উঠলে এসব খরচও অনেক সময় উঠে আসে না। ফলে মাছ কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধার-দেনাও বাড়ছে।

প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ইলিশ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে এ সময় কয়েকশ জেলে ইলিশ ধরেন। এই কয়েক মাসের আয়ের ওপর অনেক পরিবারের সারা বছরের জীবনযাত্রা নির্ভর করে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নৌকা-জালের খরচ মেটান তারা।

তবে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় সেই আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদীতে ইলিশের ঝাঁক পাওয়াকেই এখন শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার নদ-নদীতে এ বছর তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। নদীর পানিদূষণ ও পলি জমার কারণে এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মাছ ধরার আয় না থাকলেও ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে। তাই নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন ঝালকাঠির জেলেরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপক স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

এ সময় তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগও করেছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তর করার জন্য বহু বছর ধরেই জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোগান।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এটি মেনে নেওয়া উচিত, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র ৫টি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।

এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি সেই মিশন বা উদ্দেশ্য পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সংস্থাটিকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব, সমবেদনা ও দয়া রয়েছে এবং যাদের সামান্যতম ন্যায়বিচার ও বিবেকের বোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পর পর দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের ওপর চালানো এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে।

যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেগুলোকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এরদোগান।

একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েলের অন্যতম সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল।

দেশটি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে। যদিও গণহত্যার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে বর্বর  ইসরায়েল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৮ জন, লালবাগে ৩৮, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৮৩, তেজগাঁওয়ে ৮০, মিরপুরে ৯০, গুলশানে ৩৩, উত্তরা বিভাগে ৩৪ এবং গোয়েন্দা বিভাগে পাঁচজন রয়েছেন।

অভিযানকালে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি শটগানের কার্তুজ, দুটি ছুরি, ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯টি ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি পিকআপ, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্টাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, কিছু ফুয়েল পেপার ও নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মিলনায়তন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ট্রেজারি চালান ছাড়াই প্রতিদিন ৩ হাজার ৭৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোরশার আরটিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এমনকি কেন্দ্রটির উদ্বোধনের ঘোষণাও আসেনি। এর মধ্যেই মিলনায়তনটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রটির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তিনি চারঘাটে নিজ কর্মস্থলে থেকেই পোরশার কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রটির দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমানকে। এ ছাড়া সরকারি খরচে কেন্দ্রটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন আনসার সদস্য।

নগদ টাকা, পরে বিকাশে পাঠানোর দাবি

মিলনায়তন দেখভালের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছে মিলনায়তন ভাড়া দেন। ভাড়া বাবদ নগদে নেওয়া টাকা পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঊর্ধ্বতনদের সম্মতির দাবি

মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতেই মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

তবে ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানে না স্থানীয় প্রশাসন

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই কীভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। সরকারি কোনো স্থাপনা বা মিলনায়তন বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে।

তিনি বলেন, মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি। ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।

উদ্বোধনের আগেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ঘটনা এবং আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএসআইপি