খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের পর দুই পক্ষের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে তা কিছুটা প্রশমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ১০ পৃষ্ঠার চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণের নারসারসুয়াক ও পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে এসব ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক ঘাঁটিও থাকবে।

চুক্তিতে আবারও ‘ডেনমার্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি ও চমৎকার একটি সম্পর্কের সূচনা করবে। তাঁর ভাষায়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তায় কৌশলগত গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অনুত্তোলিত বিরল খনিজ রয়েছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত খাতগুলোতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান তৈরির সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আরও শান্তি ফিরবে’

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তির পর তাঁর দেশ আগের দিনের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে আরও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরে আরও কাজ করতে হবে এবং সেটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে।

চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা এটিকে আটলান্টিক পারের সহযোগিতা ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও চুক্তিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বা ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে।

১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে ওই চুক্তি হালনাগাদ করা হয়।

কালের আলো/এসএ

৬৯১ কোটি টাকার প্রকল্প, দূষণ কমার নিশ্চয়তা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
৬৯১ কোটি টাকার প্রকল্প, দূষণ কমার নিশ্চয়তা নেই

দূষণ মাপতে ৬৯১ কোটি টাকার প্রকল্প, কিন্তু দূষণ কমানোর লক্ষ্যই নেই! বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়াতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ৩৪টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ১৩টি পরীক্ষাগার ও ১৫টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার স্থাপনের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার নির্গমন নজরদারি জোরদার করা হবে। কিন্তু এত আয়োজনের পর বায়ু ও পানিদূষণ কতটা কমবে, তার পরিমাপযোগ্য কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই প্রকল্প প্রস্তাবে।

অর্থাৎ দূষণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা বাড়বে, নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়বে, নজরদারিও বিস্তৃত হবে; কিন্তু প্রকল্প শেষে পরিবেশের কতটা উন্নতি হবে, তার হিসাব নেই। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে শেষ পর্যন্ত দূষণ মাপার অবকাঠামোতেই সাফল্য সীমিত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • ৩৪টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ১৩টি পরীক্ষাগার ও ১৫টি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা
  • বায়ু-পানিদূষণ হ্রাসের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেই
  • ব্যয়ের ৯৯.২০ শতাংশ প্রকল্প সহায়তা

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা না গেলে শুধু যন্ত্রপাতি বসিয়ে দূষণ কমানো সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পটির বড় প্রশ্ন অর্থের পরিমাণ নয়, বরং এই বিনিয়োগে বাস্তবে কতটা দূষণ কমবে।

‘ইন্টিগ্রেটেড পলিউশন ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট আন্ডার দ্য বিসিএপি’ নামের প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন পাঁচ কোটি ৫১ লাখ টাকা, আর প্রকল্প সহায়তা ৬৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা—মোট ব্যয়ের প্রায় ৯৯.২০ শতাংশ। তবে সরবরাহ করা নথির অংশে এই সহায়তা ঋণ, নাকি অনুদান, তা উল্লেখ নেই।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১১ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

৩৪ কেন্দ্রে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ
প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ৩১টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (সিএএমএস) উন্নয়ন এবং নতুন তিনটি কৌশলগত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে ২৮টি শহুরে, তিনটি গ্রামীণ ও তিনটি আঞ্চলিক স্থানে ৩৪টি কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দূষণের উৎস শনাক্ত এবং বায়ুর মানের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

শিল্প-কারখানার চিমনি ও যানবাহনের নির্গমন পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নির্গমন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। বায়ুর মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দিতে বসানো হবে ২০টি এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ডিসপ্লে বোর্ড। তীব্র বায়ুদূষণের সময় করণীয় নির্ধারণে জরুরি পরিকল্পনা, পোড়ানো ইটের বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কৌশল এবং জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার পর্যালোচনাও করা হবে। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পরিকল্পনা তৈরির কাজও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।

পরীক্ষাগার, আইন সংশোধন ও প্রশিক্ষণ
প্রকল্পের আওতায় তিনটি বিভাগীয় ও ১০টি জেলা পর্যায়ে পরীক্ষাগারসহ প্রশাসনিক কার্যালয় নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সম্প্রসারণ করে পরীক্ষাগারের ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা বিভাগীয় বা কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগার সংস্কারের পাশাপাশি সিলেট, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কার্যালয়ে পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া ১৫টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার চালু এবং দুটি রেফারেন্স পরীক্ষাগারের আন্তর্জাতিক আইএসও/আইইসি ১৭০২৫ স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে পরীক্ষাগার ও পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ব্যাহত হয় এবং নমুনা পরীক্ষায় বিলম্ব ঘটে। এতে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন পরীক্ষাগার ও সরঞ্জামের মাধ্যমে পরীক্ষার সময় কমিয়ে আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া পরিবেশসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বিভিন্ন শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট নির্গমন মান তৈরি, পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইনে পানির মান পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা প্রণয়ন করা হবে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধনাগার পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম তৈরির পাশাপাশি বস্ত্র খাতে পুনর্ব্যবহার, প্লাস্টিক উৎপাদকের সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের নির্দেশনাও থাকবে। পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও বিধি প্রতিপালন বিষয়ে ৪০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ এবং দেশজুড়ে ৫০০টি সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দূষণের ভয়াবহতা জানা, কমানোর হিসাব নেই
ডিপিপি অনুযায়ী, বাংলাদেশে বার্ষিক গড় পিএম২.৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৬০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম; ঢাকায় ৯০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম। নথিতে উদ্ধৃত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশক মান পাঁচ মাইক্রোগ্রাম। সে হিসাবে দেশের গড় মাত্রা নির্দেশক মানের ১২ থেকে ২০ গুণ এবং ঢাকার মাত্রা ১৮ থেকে ২০ গুণ বেশি।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালিসিস উদ্ধৃত করে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের সঙ্গে বছরে প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার অকালমৃত্যু এবং অসুস্থ অবস্থায় কাটানো ২৫০ কোটি দিনের সম্পর্ক রয়েছে। দূষণের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য ২০১৯ সালের জিডিপির প্রায় ৮.৩ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। দূষণের এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলেও প্রকল্পে বায়ুর মান কতটা উন্নত করা হবে, পানিদূষণ কতটা কমবে কিংবা দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে কী ফল পাওয়া যাবে—এসবের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য রাখা হয়নি। ফলে প্রকল্প শেষে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল যাচাই করা কঠিন হতে পারে।

‘দূষণ মাপা আর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এক নয়’
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী ও প্রাকৃতিক অধিকারকেন্দ্রিক সুশাসনের (এনআরএলজি) প্রণেতা এম জাকির হোসেন খান বলেন, ‘দূষণ পরিমাপ করা আর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়। বায়ু ও পানিদূষণ হ্রাসের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা না থাকলে প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন কঠিন হবে।’

তিনি বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন করে দূষণ কমানো সম্ভব নয়। দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, শিল্প-কারখানার নির্গমন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং পরিবেশ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের সফলতা যাচাইয়ে দূষণ হ্রাসের পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ, তথ্য উন্মুক্তকরণ এবং স্বাধীন পরিবেশগত ও আর্থিক নিরীক্ষাও জরুরি।

এম জাকির হোসেন খানের মতে, ৬৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে কতটি যন্ত্র বসানো হলো, শুধু তা দিয়ে প্রকল্পের সাফল্য বিচার করা যাবে না। বরং কতটা দূষণ কমল, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা হ্রাস পেল এবং প্রকৃতির কতটা পুনরুদ্ধার হলো, তা পরিমাপ করতে হবে। তা না হলে বিপুল বিনিয়োগ দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ব্যয়বহুল পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে। যদিও ৬৯১ কোটি টাকার এই প্রকল্প পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু দূষণ কমানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং স্বাধীন জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে মূল প্রশ্ন থেকেই যাবে—এত টাকা খরচ করে দূষণ কমবে, নাকি শুধু দূষণের পরিমাপ আরও উন্নত হবে?

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

পুরোনো কার্টনেই বড় উদ্যোগ, বন্ধুদের নিয়ে সমাজ বদলাতে চায় মুগ্ধ

কুড়িগ্রাম,সংবাদদাতা কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
পুরোনো কার্টনেই বড় উদ্যোগ, বন্ধুদের নিয়ে সমাজ বদলাতে চায় মুগ্ধ

বয়স মাত্র ১০ বছর। এই বয়সেই পরিবেশ রক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিশু মেসবাহুল ইসলাম মুগ্ধ। পুরোনো কার্টন ও খাতার পাতা দিয়ে নিজ হাতে প্ল্যাকার্ড তৈরি করে রাস্তার পাশের গাছে গাছে টাঙিয়ে দিচ্ছে সে। এ কাজে সহযোগিতা করছে তার বন্ধুরাও।

ফুলবাড়ী উপজেলার শাহবাজার থেকে হাজীর বাজারগামী সড়কের দুই পাশের গাছগুলোতে এখন চোখে পড়ছে মুগ্ধের তৈরি নানা সচেতনতামূলক বার্তা। কোথাও লেখা ‘অকারণে গাছ কাটব না’, কোথাও ‘পাখি আমাদের বন্ধু’ কিংবা ‘পাখিদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ি’। আবার কোনো প্ল্যাকার্ডে রয়েছে ‘মোড়ে গতি কমান, জীবন বাঁচান’, ‘অযথা হর্ন বাজাবেন না’ ও ‘পানিতে ময়লা ফেলবেন না’—এমন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

মাত্র ১০ বছরের একটি শিশুর এমন উদ্যোগ পথচারীদের নজর কাড়ছে। প্রশংসা পাচ্ছে তার বন্ধুমহল ও স্থানীয় মানুষের কাছ থেকেও।

পুরোনো কার্টন-খাতার পাতায় সচেতনতার বার্তা
মুগ্ধ ফুলবাড়ী উপজেলার ঘোগারকুটি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা সুজাউদ্দৌলা শাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে মুগ্ধ দ্বিতীয়। সে উত্তর ঘোগারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো কার্টন ও খাতার পাতা দিয়েই প্ল্যাকার্ড তৈরি করে মুগ্ধ। এরপর নিজের হাতে সেগুলোতে লেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও নৈতিকতার কথা। বিকেল হলেই বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। রাস্তার পাশের গাছগুলোতে সুতা দিয়ে টাঙিয়ে দেয় নিজের তৈরি প্ল্যাকার্ড।

তার উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টাও রয়েছে। গাছ কাটা থেকে বিরত থাকা, পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা, সড়কে সতর্ক থাকা কিংবা পানিতে ময়লা না ফেলার মতো বিষয়গুলো সে তুলে ধরছে সহজ ভাষায়।

বন্ধুরাও পাশে দাঁড়িয়েছে মুগ্ধের
মুগ্ধের এই উদ্যোগে একা নয়, পাশে রয়েছে তার সহপাঠীরাও। বন্ধুরা জানায়, মুগ্ধ বাড়িতে প্ল্যাকার্ড তৈরি করে বিকেলে তাদের ডেকে নেয়। কেউ মই নিয়ে আসে, কেউ নিয়ে আসে সুতা। এরপর সবাই মিলে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে প্ল্যাকার্ড টাঙায়।

পথচারীরা প্ল্যাকার্ড দেখে প্রশংসা করলে আনন্দ পায় তারাও। ছোট্ট এই দলটির কাছে কাজটি শুধু সময় কাটানোর বিষয় নয়; বরং নিজেদের এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

‘একজন মানুষও সচেতন হলে নিজেকে সার্থক মনে করব
মুগ্ধ জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্ল্যাকার্ড তৈরি ও এর ব্যবহার সম্পর্কে শিখিয়েছেন। শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া সেই শিক্ষা থেকেই তার এ উদ্যোগের শুরু। নিজের এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ইচ্ছা থেকেই এমন কাজ করছে সে। মুগ্ধের ভাষায়, তার এলাকায় অনেকেই মাদক সেবন করেন। আবার অনেক মানুষ পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন নন।

মুগ্ধ বলে, “আমার লেখা প্ল্যাকার্ড দেখে যদি একজন মানুষও মাদক ছেড়ে দেয়, একজন মানুষও যদি পরিবেশের কথা ভাবে, তাহলেই আমি নিজেকে সার্থক মনে করব। ভবিষ্যতেও আমি এ ধরনের কাজ করে যেতে চাই।” একটি শিশুর এই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সমাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধ এবং ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা।

পথচারীদের চোখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
শাহবাজার থেকে হাজীর বাজারগামী সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, প্রথমে রাস্তার মোড় ও গাছের পাশে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড দেখে তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানতে পারেন, মাত্র ১০ বছরের একটি শিশু এগুলো তৈরি করেছে। ওবায়দুল হকের ভাষায়, বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো। শিশুটির উদ্দেশ্যও অত্যন্ত মহৎ।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা ও আচরণে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির ক্ষেত্রে মুগ্ধের উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।

ছেলের উদ্যোগে অবাক বাবা
মুগ্ধের বাবা সুজাউদ্দৌলা জানান, ছেলে যে এমন উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রথমে তিনি জানতেন না। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে প্ল্যাকার্ড দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, সেগুলো তাঁর ছেলে তৈরি করেছে। ছেলের কাজ দেখে অবাক ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। ভবিষ্যতে এ কাজে ছেলের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।

শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রশংসা
উত্তর ঘোগারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোবেদ আলী বলেন, মুগ্ধের এ উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পরিবেশ ও সংস্কৃতিকর্মী অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ মিয়া মনে করেন, শিশুদের এমন সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর প্রত্যাশা, মুগ্ধের মতো নতুন প্রজন্ম জ্ঞান, মেধা ও মানবিক চেতনা দিয়ে সমাজ ও দেশকে বদলে দিতে ভূমিকা রাখবে। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে পরিবেশ, মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে মুগ্ধ। পুরোনো কাগজ-কার্টনে লেখা তার ছোট ছোট বাক্য হয়তো একদিনে সমাজ বদলে দেবে না, তবে কাউকে ভাবতে শেখাতে পারে, কাউকে সচেতন করতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাকেই সঙ্গী করে বন্ধুদের নিয়ে এগিয়ে চলেছে ১০ বছরের এই খুদে সচেতনতাকর্মী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

লেবু চাষে সাফল্যের গল্প, মানিকগঞ্জের বৈলতলা এখন ‘লেবুর গ্রাম’

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
লেবু চাষে সাফল্যের গল্প, মানিকগঞ্জের বৈলতলা এখন ‘লেবুর গ্রাম’

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রাম। একসময় এ এলাকায় আখের চাষ হতো। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর ধরে ধীরে ধীরে বদলে গেছে গ্রামের কৃষিচিত্র। এখন যেদিকে চোখ যায়, দেখা মেলে সারি সারি লেবুর বাগান। কাগজি, এলাচি ও কলম্বোসহ বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন এখানকার কৃষকেরা। ব্যাপকভাবে লেবুর আবাদ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গ্রামটি এখন পরিচিত ‘লেবুর গ্রাম’ নামে। গ্রামের কৃষকদের কাছে লেবু চাষ এখন অন্যতম প্রধান পছন্দ। সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে থাকা লেবুতে ভরে আছে বাগানগুলো। সামনে রমজান মাসকে ঘিরে বাগান পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, লেবু সংগ্রহ ও বাজারজাত করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

৯০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ
সরেজমিনে বৈলতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে লেবুর বাগান। কোথাও শ্রমিকেরা গাছ থেকে লেবু তুলছেন, কোথাও ঝুড়িতে করে বাগান থেকে লেবু এনে রাস্তার পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। আবার কেউ ছোট-বড় ও পাকা লেবু বাছাই করছেন। বিক্রির জন্য খাঁচিতে ভরে গাড়িতে তোলা হচ্ছে লেবু।

সাটুরিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মৌসুমে সাটুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বৈলতলা গ্রামেই রয়েছে ৯০ হেক্টর জমির লেবুর বাগান। তিনি বলেন, বৈলতলা লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার কৃষকেরা সারা বছরই বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ অঞ্চলের লেবুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।

বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু, এখন বিস্তীর্ণ বাগান
বৈলতলা গ্রামের লেবুচাষি আবদুল মালেকের বয়স ৭৬ বছর। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে লেবু চাষ করছেন। বর্তমানে তাঁর পৌনে দুই বিঘা জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। আবদুল মালেক বলেন, একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা থেকেই লেবু চাষের সূচনা হয়েছিল। ধীরে ধীরে চাষের পরিধি বাড়তে থাকে। প্রায় ৩০ বছরের ব্যবধানে বৈলতলা পুরোপুরি লেবুর গ্রামে পরিণত হয়েছে। গ্রামের আরেক চাষি শাহ আলম (৫০) জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে লেবু চাষ করছেন। তাঁর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একবার লেবুর চারা রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা করলে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বছরে চারবার ব্যাপকভাবে লেবু সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও বাগান থেকে কমবেশি লেবু তুলে বিক্রি করা যায়।

লেবু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে
বৈলতলার লেবু শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। এখানকার উৎপাদিত লেবু কুমিল্লার নিমসার ও রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়। প্রতিদিন লেবুভর্তি গাড়ি গ্রামের বিভিন্ন বাগান থেকে দেশের নানা গন্তব্যে রওনা হয়। গ্রামে প্রথম দিকে লেবু চাষ শুরু করা কৃষকদের একজন খোরশেদ আলম (৬৮)। তিনি জানান, একসময় তাঁদের এলাকায় আখের চাষ হতো। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা লেবু চাষ শুরু করেন। অন্য ফসলের তুলনায় লেবু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় পরে গ্রামের অন্য কৃষকেরাও এ চাষে আগ্রহী হন। এভাবেই বৈলতলার পরিচিতি হয়ে ওঠে ‘লেবুর গ্রাম’।

বাগান কিনেও লাভের আশা
বৈলতলার লেবুর পাইকার আজাহারের (৫৬) মতে, লেবু চাষ ও ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা থাকলেও তা অনেকটাই বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। এ বছর তিনি এক বছরের জন্য ছয় বিঘা জমির লেবুর বাগান দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন।

আজাহার জানান, শ্রমিকের মজুরি, সার ও সেচের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রতিবছরই তিনি লেবুর বাগান কিনে পরিচর্যা করেন এবং উৎপাদিত লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। বাজারে লেবুর দাম বেশি থাকলে লাভ বাড়ে, আর দাম কমে গেলে লাভও কমে যায়।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জড়িত লেবু চাষে
সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টুর বাড়িও বৈলতলা গ্রামে। তিনি নিজেও নয় বিঘা জমিতে লেবুর আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, বৈলতলা গ্রামের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে লেবু চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রায় ৩০ বছর আগে নিজাম উদ্দিন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী প্রথম এ গ্রামে লেবু চাষ শুরু করেন। পরে চাষটি লাভজনক হওয়ায় অন্যরাও ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হন। এখন প্রতিদিন গ্রাম থেকে লেবুভর্তি গাড়ি দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়।

বিভিন্ন জাতের লেবু চাষে বাড়ছে আগ্রহ
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, উপজেলার মধ্যে বৈলতলা গ্রামেই সবচেয়ে বেশি লেবুর বাগান রয়েছে। এ গ্রামের উৎপাদিত লেবুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন এলাকায়। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে লেবু চাষের প্রসার ঘটছে।

তিনি জানান, বৈলতলার কৃষকেরা এলাচি, সিডলেস, কলম্বো, কাগজি ও স্থানীয় জাতের লেবু চাষ করেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং বাজারে চাহিদার কারণে লেবু চাষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গ্রামের কৃষি অর্থনীতি। একসময় আখের ক্ষেত আর বাড়ির আঙিনায় সীমিত থাকা লেবু চাষ এখন বৈলতলার বিস্তীর্ণ জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের পরিশ্রম ও লাভের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চাষই গ্রামটির নতুন পরিচয় তৈরি করেছে—‘লেবুর গ্রাম’ বৈলতলা

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি