খুঁজুন
                               
, ,
           

১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চ ভাড়া বাড়ল ২৩ পয়সা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চ ভাড়া বাড়ল ২৩ পয়সা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার নৌপথে যাত্রী পরিবহনের লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নৌপথের যাত্রীভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এর আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার সড়কপথে বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়। বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়ায় এবার নৌপথের যাত্রীভাড়াও সমন্বয় করা হলো। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর দূরপাল্লার লঞ্চযাত্রায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা, পাঁচ বছরেও অসম্পূর্ণ সেতু

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা, পাঁচ বছরেও অসম্পূর্ণ সেতু

টাঙ্গাইল মির্জাপুরে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ বারবার বন্ধ ও ধীরগতিতে চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। এখনো নদী পারাপারে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ স্থানীয়দের। কবে নাগাদ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়।

তবে সেতুর মূল কাজের অর্ধেকও শেষ হওয়ার আগে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তাগিদে মাঝেমধ্যে কাজ শুরু হলেও কিছুদিন পর আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শাহজাহান পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাড় থেকে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়েছে। তবে মাঝখানের কিছু অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। ফলে আগের মতোই খেয়াঘাট দিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচঢালাই সড়কটি কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর উত্তর পাড় থেকে খেয়া নৌকায় পার হয়ে শিক্ষার্থীরা কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাড় থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকেরা।

সেতুটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দারা কালিয়াকৈর উপজেলার আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন।

কলিমাজানি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক আশা করেছি, ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে নদীর ওপারে যাব। কাজের যে গতি, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না বলতে পারছি না।’

সাবঠিকাদার মো. পারভেজ বলেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কাজ পাওয়ায় এই সেতুর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটও ছিল বলে তিনি শুনেছেন। বর্তমানে তাঁরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত সেতুর মূল কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সেতুটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে ভালোভাবেই কাজ করেছিল। পরে হঠাৎ কাজে গাফিলতি দেখা দেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারেরা কাজ করছেন। সেতুর মূল কাজ শেষ করতে আর বেশি সময় লাগবে না বলে আশা করছেন তাঁরা।

তবে দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ কবে কমবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চলচ্চিত্র পরিচালক বি এইচ নিশান আর নেই

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র পরিচালক বি এইচ নিশান আর নেই

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালক বি এইচ নিশান আর নেই। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ইন্তেকাল করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিএফডিসিতে জানাজা, দাফন আজিমপুরে
চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) বি এইচ নিশানের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন বি এইচ নিশান। তাঁর নির্মিত সিনেমাগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সময়ে দর্শকদের সামনে এসেছে। পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

নির্মাণ করেছেন ‘বদলা নেব’, ‘রাজা রানী’
বি এইচ নিশানের পরিচালিত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বদলা নেব’, ‘রাজা রানী’ ও ‘নারীর শক্তি’। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় তাঁর পরিচালিত ‘বদলা নেব’। এর দুই বছর পর, ২০০০ সালে দর্শকদের সামনে আসে ‘রাজা রানী’। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘নারীর শক্তি’। ভিন্ন সময়ে এসব সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজের কাজের পরিচয় তুলে ধরেছেন এই পরিচালক।

‘লাল বাদশা’র কাহিনি ও সংলাপেও অবদান
শুধু চলচ্চিত্র পরিচালনাই নয়, গল্প ও সংলাপ রচনার কাজেও যুক্ত ছিলেন বি এইচ নিশান। প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না অভিনীত ‘লাল বাদশা’ সিনেমার কাহিনি ও সংলাপ রচনায়ও তাঁর অবদান ছিল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে পরিচালনা ও চিত্রনাট্য রচনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্রাঙ্গন হারাল একজন অভিজ্ঞ নির্মাতাকে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনা—বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর পঞ্চম আসরে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’ দর্শকপ্রিয়তার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সিনেমাটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন, শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং বদলে যাওয়া বিনোদনজগৎ নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পুরস্কারের বাইরেও দর্শকের ভালোবাসাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

উপস্থাপনায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না সুনেরাহ
২০২২ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রথম আসরে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুনেরাহ। তবে উপস্থাপনা তাঁর জন্য খুব সহজ কোনো কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। সুনেরাহর ভাষ্য, স্বভাবগতভাবে তিনি কিছুটা লাজুক। মানুষের সামনে কথা বলা কিংবা সাক্ষাৎকারে নিজের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন। ধীরে ধীরে সেই জড়তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, আগে তিনি এখনকার মতো এতটা কথা বলতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে মানুষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। ফলে উপস্থাপনা ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

শাস্ত্রীয় নৃত্যে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের
অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যেও প্রশিক্ষণ রয়েছে সুনেরাহর। তবে তাঁর এই দক্ষতার কথা অনেকেরই জানা ছিল না। ওটিটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ‘পাতার বাঁশরি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নিজের এই প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সুনেরাহ মনে করেন, ওই পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক দেখার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই যে তাঁর শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতেন না, সেটিও উপলব্ধি করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করাও ছিল তাঁর জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা। দুজনের ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলে জানান সুনেরাহ। মহড়ার সময় ইরফানকে নাচের ধাপ শেখাতে হয়েছে তাঁকে। বারবার অনুশীলন করার কারণে নিজের পরিবেশনাও আরও ভালো হয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সহশিল্পীকে শেখানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি মনোযোগী করেছে।

‘দাগি’ নিয়ে দর্শকের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি
সুনেরাহ অভিনীত ‘দাগি’ সিনেমাটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। সম্প্রতি ছবিটি দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কারও জিতেছে। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেকে তাঁকে প্রশ্ন করছেন, এত প্রশংসা পাওয়ার পরও তিনি কেন ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে সুনেরাহ জানিয়েছেন, ছবিটি মুক্তির পর থেকে এমন প্রশ্ন তাঁকে বারবার শুনতে হচ্ছে। দর্শকেরা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন এবং পুরস্কার জেতার পরও তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছেন।

তবে পুরস্কারকেই স্বীকৃতির একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে একটি সিনেমার সামগ্রিক সাফল্য এবং দর্শকের ভালোবাসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনেরাহর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান ছবিটি ভালো করুক। কারণ, ‘দাগি’তে তিনি একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির সাফল্য তাঁর কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যক্তিগত পুরস্কার না পেলেও দর্শকের প্রশংসা তাঁর কাজের জন্য বড় প্রাপ্তি।

ভেনিস উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন সুনেরাহ। সেখানে ছবিটি দর্শকেরা কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা জানার বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিনেত্রী জানান, প্রদর্শনীর সময় তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন লাগছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকেরা সিনেমাটি উপভোগ করেছেন এবং বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করেছেন।

ছবিতে তাঁর বিয়ের সাজও দর্শকদের নজর কেড়েছে। একজন দর্শক জানতে চেয়েছিলেন, পুরো সিনেমাজুড়ে কীভাবে একই ধরনের বিয়ের সাজ বজায় রেখেছিলেন তিনি। সুনেরাহ জানান, ভারী লেহেঙ্গা, পূর্ণাঙ্গ বিয়ের সাজ এবং হাতে-পায়ে আলতার মতো রং ব্যবহার করে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী কনের সাজে থাকতে হয়েছে। প্রতিদিন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যেত। এমনকি মাথায় ঘোমটা ঠিকভাবে আটকে দেওয়ার পর শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুমে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানান তিনি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। তবে পর্দায় সেই সাজ সুন্দরভাবে ফুটে ওঠায় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

ইউটিউব নাটক নিয়ে বদলে যাচ্ছে দর্শকের অভ্যাস
বর্তমানে ইউটিউব নাটকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দর্শকের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় বিনোদনশিল্পকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সুনেরাহ। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা এবং দ্রুত এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়ার অভ্যাস দর্শকের মনোযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে ইউটিউব কনটেন্ট দেখার সুযোগও এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দর্শকের এই পরিবর্তনকে শুধু ইউটিউব নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, সব মাধ্যমেই মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। সুনেরাহ মনে করেন, নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে যেসব মানের কাজ দর্শকেরা দেখেন, স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা, সিরিজ ও টেলিভিশন নাটক—সব ধরনের কনটেন্টেরই প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ, প্রতিটি মাধ্যমের দর্শক আলাদা এবং তাঁদের পছন্দও ভিন্ন। তাই দর্শকের রুচি ও চাহিদা বুঝে মানসম্মত কাজ তৈরি করতে পারলেই বিনোদনশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কনটেন্টের মান নিয়ে ভাবছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তাঁর কথায় উঠে এসেছে, পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দর্শকের ভালোবাসা, কাজের মান এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতাও একজন শিল্পীর পথচলায় সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ/জেএন