খুঁজুন
                               
, ,
           

ফিফা এসিয়ান কাপের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পেল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফিফা এসিয়ান কাপের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পেল বাংলাদেশ

ফিফা এসিয়ান কাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আর দুই দিন পর। এর আগে গতকাল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম। তাঁর যোগদানে অনুশীলনে প্রথমবারের মতো ২৩ সদস্যের পুরো স্কোয়াডকে একসঙ্গে পেয়েছেন হেড কোচ টমাস ডুলি।

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর জাকার্তায় পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। এরপর দলের সঙ্গে যোগ দেন হামজা চৌধুরী। গতকাল ফারহান আলী ওয়াহিদ ও শমিত সোমও দলের সঙ্গে যোগ দেন।

ভিসা জটিলতার কারণে শুরুতে দলের সঙ্গে যেতে পারেননি মিডফিল্ডার মো. সোহেল রানা। সেই জটিলতা কাটিয়ে তিনিও পৌঁছে গেছেন জাকার্তায়। তাঁর যোগদানে বাংলাদেশের মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

পুরো দল পেয়ে খুশি ডুলি

২৩ সদস্যের পুরো দলকে একসঙ্গে অনুশীলনে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন টমাস ডুলি। তিনি বলেন, সবাই উপস্থিত থাকায় এখন পুরোপুরি অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে।

ডুলির ভাষায়, জাকার্তার মাঠ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভালো। টার্ফে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা উপভোগ করেছেন খেলোয়াড়েরা। অনুশীলন সেশনে দলের খেলোয়াড়দের এনার্জিও ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন কোচ।

প্রস্তুতির জন্য সময় কম

তবে পুরো স্কোয়াড হাতে পেলেও প্রথম ম্যাচের আগে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে দলে নতুন কয়েকজন খেলোয়াড় থাকায় তাঁদের দ্রুত নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডুলি।

কোচ বলেন, পুরো স্কোয়াড নিয়ে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য তাঁদের হাতে মাত্র দুই থেকে তিন দিন সময় রয়েছে। দলের কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় আগে শমিত, হামজা ও ফাহাদের সঙ্গে খেলেননি। তাই দ্রুত পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মোরসালিনের চোট নিয়ে অপেক্ষা

এদিকে শেখ মোরসালিনের চোট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর পায়ের কাফ মাসলে এখনো সমস্যা আছে বলে জানিয়েছেন ডুলি।

মোরসালিনের স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দল। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁর অনুশীলনে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল থেকেই তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন কোচ।

প্রথম ম্যাচের আগে পূর্ণ স্কোয়াড পাওয়ার স্বস্তি এলেও অল্প সময়ে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের সমন্বয় করেই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

কালের আলো/এসএ

শিশুশ্রম ঠেকাতে ঘানায় পুরো গ্রাম বানালেন মিস্টার বিস্ট, খরচ ১২৩ কোটি টাকা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
শিশুশ্রম ঠেকাতে ঘানায় পুরো গ্রাম বানালেন মিস্টার বিস্ট, খরচ ১২৩ কোটি টাকা

ইউটিউবের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা মিস্টার বিস্ট এবার চমক দেখালেন ভিন্ন এক উদ্যোগে। আফ্রিকার দেশ ঘানায় শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য একটি পুরো গ্রাম তৈরি করেছেন তিনি। প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই গ্রাম।

‘আবনা ডাকওয়া ভিলেজ’ নামের গ্রামটি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ করে কোকোয়া শিল্পে শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য। গ্রামটিতে রয়েছে বসবাসের বাড়ি, স্কুল, খেলার মাঠ, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বাজার এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার সুযোগ।

চার দিনেই প্রায় ৬ কোটি ভিউ

মিস্টার বিস্টের আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন। তাঁর জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত নতুন একটি ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও গ্রামটির বর্তমান চিত্র।

প্রায় ১৯ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে মিস্টার বিস্ট নিজেও বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিডিওটি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটির নিচে জমা পড়েছে ৭৫ হাজারের বেশি মন্তব্য।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকেরা সেখানে উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে অনেকে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরে মিস্টার বিস্টের কাছে সহায়তাও চেয়েছেন।

মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য আগে থেকেই পরিচিত মিস্টার বিস্ট। তবে তাঁর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘আবনা ডাকওয়া ভিলেজ’ এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে বড় আর্থিক মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি।

আট মাসে শেষ নির্মাণকাজ

অনুন্নত একটি জমিতে গ্রামটি গড়ে তুলতে প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর প্রায় আট মাস ধরে চলে নির্মাণকাজ।

গ্রামটিতে শিক্ষকদের বিনা মূল্যে থাকার জন্য রয়েছে ১০টি বাড়ি। রয়েছে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, কমিউনিটি মার্কেট এবং এমন একটি স্কুল, যেখানে ৩০০-এর বেশি শিশুকে পড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে।

ইতিমধ্যে গ্রামটিতে বসবাস করছেন ১ হাজার ৬২ জন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শিশু, যারা আগে কোকোয়া খামারে কাজ করত। এখন তারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

স্কুলে ফেরাতে বিনা মূল্যে খাবার

শিশুদের স্কুলমুখী রাখতে শুধু স্কুল নির্মাণেই থেমে থাকেননি মিস্টার বিস্ট। শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী পাঁচ বছর প্রতিদিন বিনা মূল্যে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনহিতকর ও দাতব্য সংস্থা রকফেলার ফাউন্ডেশন।

উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো শিশুদের শ্রম থেকে সরিয়ে শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোর জীবনযাপনের জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি করা।

সৌরবিদ্যুৎ, পানি ও জীবিকার ব্যবস্থা

গ্রামটিকে ভবিষ্যতে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতেও বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রয়েছে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

বিশুদ্ধ পানির জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি বড় পানির ট্যাংক। পাশাপাশি রয়েছে কৃষিকাজের অবকাঠামো ও মাছ চাষের ব্যবস্থা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামবাসী যাতে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আয় করার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।

বসবাসের জন্য বাড়ি ও মৌলিক সেবার পাশাপাশি বাজার ও জীবিকার সুযোগ থাকায় প্রকল্পটি শুধু আবাসন তৈরির উদ্যোগ নয়; দীর্ঘমেয়াদে একটি সম্প্রদায়কে স্বনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনাও এতে রাখা হয়েছে।

ঘানায় শিশুশ্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

ঘানাসহ পশ্চিম আফ্রিকার কোকোয়া উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে শিশুশ্রম দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। মিস্টার বিস্ট তাঁর ভিডিওর একটি মন্তব্যে জানিয়েছেন, ঘানায় প্রায় ১৫ লাখ শিশু স্কুলে না গিয়ে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে।

আরেকটি ভিডিওতে পশ্চিম আফ্রিকার কোকোয়া খামারগুলোয় শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে বড় চকলেট কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফও পশ্চিম আফ্রিকার কোকোয়া উৎপাদনকারী অঞ্চলে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কৃষিকাজে যুক্ত থাকার বিষয়টি নথিবদ্ধ করেছে।

‘শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব দিতে চাই’

ভিডিওটির নিচে পিন করে রাখা মন্তব্যে মিস্টার বিস্ট জানিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা হলো এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে অনুপ্রাণিত হবেন।

ইউটিউবের বিনোদনধর্মী ও চ্যালেঞ্জভিত্তিক ভিডিও দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠা মিস্টার বিস্টের এই উদ্যোগ তাই তাঁর কনটেন্টের বাইরে গিয়ে আরেকটি বার্তা সামনে এনেছে—শিশুদের শিক্ষা, নিরাপদ জীবন ও ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করাও মানবিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কালের আলো/এসএ

দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশালী মহলের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যাংক মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখল ও জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংক নেতারা বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

ব্যাংক নেতারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালু, ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি