‘স্টপ দ্য গেম’: ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলতে আইরিশ ফুটবলারদের প্রতি আহ্বান
ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন দুটি ম্যাচ বয়কট করতে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ১৬০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ নামের একটি গোষ্ঠীর উদ্যোগে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৬০-এর বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই ম্যাচ
২০২৬–২৭ উয়েফা নেশন্স লিগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। এরপর ৪ অক্টোবর দুই দল আবার মুখোমুখি হবে। উয়েফার সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচে ইসরায়েল ‘হোম’ দল এবং দ্বিতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘হোম’ দল। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে ম্যাচ দুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
‘খেলা বন্ধ করার সুযোগ এখনো আছে’
খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই), উয়েফা এবং আইরিশ সরকারের আরও আগেই ম্যাচ দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তবে এখনো খেলোয়াড়দের সামনে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন স্বাক্ষরকারীরা।
চিঠিতে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন দুই ম্যাচেই অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাক্ষরকারীদের ভাষ্য, খেলাধুলা ঐক্য, ন্যায়সংগত আচরণ ও সমতার বার্তা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হতে পারে।
যাঁরা সই করেছেন
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিয়ান কিয়ারা ম্যাগিন, সাবেক আইরিশ ফুটবলার লুইস কুইন, সাবেক রাগবি খেলোয়াড় টনি ওয়ার্ড, বক্সার টাইরন ম্যাককেনা ও এরিক ডোনোভান। গেইলিক ফুটবলের পরিচিত মুখ প্যাড্রেইগ ও’হোরা, জো ব্রলি, কলম ও’রুর্ক, মাইকেল দারাহ ম্যাকঅলি, ফিলি ম্যাকমাহন, ভ্যালেরি মালকাহি ও রেনা বাকলিও এতে সই করেছেন।
টনি ওয়ার্ড এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আইরিশ রাগবি দলের সফর বয়কট করেছিলেন। কয়েকজন স্বাক্ষরকারী চলতি বছরও ইসরায়েলের বিপক্ষে নিজেদের সংশ্লিষ্ট ম্যাচে অংশ নেননি।
কোচের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের সাম্প্রতিক মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না, গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, ইসরায়েলের সঙ্গে নয়।’
হালগ্রিমসনের মন্তব্যের পর ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করে। সংস্থাটি তাঁকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও বোকামি’র অভিযোগে আক্রমণ করেছে।
ম্যাচ বাতিলের চাপ এফএআইয়ের ওপরও
এদিকে এফএআই জানিয়েছে, তারা একতরফাভাবে ম্যাচ বাতিল করতে চায়নি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উয়েফার কাছে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটি কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর আগে এফএআইয়ের সাধারণ সভাতেও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে উয়েফা প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট হয়েছিল।
এরই মধ্যে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে ম্যাচ বয়কটের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর দুই ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
গাজা যুদ্ধ ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। হতাহতের সংখ্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের সামরিক অভিযানকে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে।
এই রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কের মধ্যেই এবার ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array