খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল, ‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল, ‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

আল-খাদার স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট জ্বলে উঠেছিল। গ্যালারিতে তরুণদের গান, পরিবারের সদস্যদের আসন নেওয়া, সামনের সারিতে শিশুদের ছোটাছুটি—কয়েক ঘণ্টার জন্য দৃশ্যটা যেন যুদ্ধের বাস্তবতা ভুলিয়ে দিয়েছিল সবাইকে।

মাঠে নেমেছিল আরব অর্থোডক্স বেইত জালা ও দেইশেহ ইয়ুথ ফুটবল দল। বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে উল্লাস, হতাশা আর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে চিৎকার।

প্রায় তিন বছর পর ফিলিস্তিনি ক্লাবগুলোর প্রথম সংগঠিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল এটি।

বিরতিতে আতঙ্ক

ম্যাচের বিরতিতে হঠাৎ স্টেডিয়ামের পেছনে গোলমালের সৃষ্টি হলে দর্শকেরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। মাঠ থেকেই পরিস্থিতি দেখছিলেন বেইত জালার ২০ বছর বয়সী খেলোয়াড় সিজার সাররাস।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছিলাম যখন দেখলাম সব দর্শক উঠে দাঁড়াচ্ছে।’

ফিলিস্তিনে সংঘাতের কারণে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত সাররাস। তিনি বলেন, কখনো কখনো মাঠে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার খবর শোনেন। তাই প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসেছে।

কিন্তু এবার সেটি সামরিক অভিযান ছিল না। সমর্থকদের মধ্যকার একটি ঝগড়া থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে দর্শকেরা আবার আসনে ফিরে যান, শুরু হয় ম্যাচ।

এরপর পুরো মনোযোগ আবার ফুটবলে।

‘স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি’

১৫ বছর বয়সী রিমাস সারহানের কাছে এই ম্যাচের তাৎপর্য ছিল আরও গভীর। বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরের এই কিশোরী আওদ স্পোর্টস একাডেমি ও ফিলিস্তিনের যুব জাতীয় দলের হয়ে খেলেন।

পূর্ণ গ্যালারির সামনে খেলার অনুভূতিকে তিনি বলেছেন ‘খুব সুন্দর’।

সারহানের ভাষায়, ‘এটি আমাদের অনুভব করায় যে, আমাদের জীবনেও একটু স্বাভাবিকতা আছে। বিদেশের মানুষের মতো।’

নিহত ক্রীড়াবিদদের স্মরণে টুর্নামেন্ট

এই ম্যাচ ছিল ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’-এর অংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ১ হাজার ১৪ জন ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করে টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা হামলার কারণে দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল বন্ধ থাকার পর আবার মাঠে ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হয়েছে এই টুর্নামেন্ট।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সাধারণ সম্পাদক ফিরাস আবু হিলালের অভিযোগ, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে দীর্ঘদিন ফুটবল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চেকপোস্ট, চলাচলে বিধিনিষেধ, ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা এবং খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের কারণে ফুটবল আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি তাঁর।

‘গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেডিয়াম ধ্বংস’

আবু হিলালের দাবি, গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেডিয়াম ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু মাঠে এখন বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাঁবু রয়েছে।

এই দীর্ঘ বিরতির প্রভাব পড়েছে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারেও। সাররাস বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ে বড় হয়েছি, যখন আমাদের উন্নতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে গেছে। সময়টা আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। কোনো লিগ ছিল না।’

তবু এখন ধীরে ধীরে মাঠে ফিরেছে ২০০-এর বেশি ক্লাব। পশ্চিম তীর, গাজা এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে আবার শুরু হয়েছে ফুটবল কার্যক্রম।

প্রত্যাবর্তনের পেছনে অসংখ্য হারানোর গল্প

এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ক্রীড়াবিদের হারানোর গল্প। যুদ্ধের সময় নিহত হয়েছেন অনেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড সুলাইমান আল-ওবেইদ। ২০২৫ সালে গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকার সময় তিনি নিহত হন। ২০২৪ সালে নিহত হন ফিলিস্তিন অলিম্পিক দলের কোচ হানি আল-মাসদার।

আবু হিলাল বলেন, ‘আমরা ফিরে এসেছি পুরো বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে, আমরা এমন একটি জাতি, যাদের বেঁচে থাকতে হবে।’

ম্যাচের চেয়েও বড় বাধা

মাঠে ফিরলেও খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি আগের মতো সহজ হয়নি। পশ্চিম তীরে দূরপাল্লার যাতায়াত কমাতে কাছাকাছি এলাকার দলগুলোকে একই গ্রুপে রেখেছে পিএফএ। তারপরও ম্যাচে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আবু হিলালের ভাষায়, ‘প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহরের প্রবেশপথে একটি করে লোহার সামরিক গেট আছে। দখলদার বাহিনী যেকোনো সময় এসে সেই গেট বন্ধ করে দিতে পারে, তখন দল ম্যাচে পৌঁছাতে পারে না।’

তবে এসব কারণে টুর্নামেন্ট বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

‘ম্যাচ পিছিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বাতিল হবে না। ম্যাচ হতেই হবে, আমাদের খেলতেই হবে।’

অর্থ সংকটেও থামেনি ফুটবল

প্রায় তিন বছর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটও তৈরি হয়েছে। অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে। ফলে পেশাদার ফুটবলারদের কেউ কেউ আবার অপেশাদার পর্যায়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দেইশেহের খেলোয়াড় ও স্থানীয় ফুটবল একাডেমির কোচ মোহাম্মদ এল-জগাইরি বলেন, ‘কিছু মানুষের ক্রীড়া ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।’

নিজের ক্যারিয়ারও নানা বাধায় থেমে গিয়েছিল তাঁর। ইসরায়েলি কারাগারে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে মোট আট বছর ছয় মাস কাটাতে হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেনাদের গুলিতে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় দুই বছর মাঠের বাইরে ছিলেন।

তবে পরে আবার অনুশীলনে ফেরেন তিনি।

‘আত্মসমর্পণের কোনো জায়গা নেই। আমরা প্রতিরোধ করতে চাই, আমরা বাঁচতে চাই এবং আমরা আশাকে আঁকড়ে ধরতে চাই,’ বলেন এল-জগাইরি।

ধ্বংসের হুমকির মধ্যেও মাঠে মেয়েরা

গত তিন বছরে হামলার শিকার হওয়া অনেক মাঠেই এখন আবার ফুটবল চলছে। পিএফএর দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৬৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

পশ্চিম তীরেও ঝুঁকি কমেনি। বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরে আওদ স্পোর্টস একাডেমির মাঠটি ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতাবাদী দেয়াল ও নজরদারি টাওয়ারের ছায়ায় অবস্থিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিবিরটিতে নিয়মিত সামরিক অভিযানও হয়।

থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপে খেলার প্রস্তুতি নেওয়া ২০ বছর বয়সী কারিম বলেন, এসব পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। নিরাপত্তার কারণে নিজের আসল নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মাঠটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদের পর ফিফা ও উয়েফাসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার উদ্যোগে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়। তবে মাঠটির ওপর হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়েছে—এমন আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পায়নি আইদা ইয়ুথ সেন্টার।

কারিম বলেন, ‘এই মাঠ আমাদের জন্য শ্বাস নেওয়ার জায়গা। যখন ধ্বংসের নির্দেশ এসেছিল, আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’

ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠটি অন্যতম কয়েকটি খোলা জায়গা। একই সঙ্গে মেয়েদের জন্যও এটি তৈরি করেছে নতুন সুযোগ।

১৫ বছর বয়সী ফাতিমা লুৎফি বলেন, ‘আমি সেই নিয়ম ভেঙেছি যে ফুটবল মেয়েদের জন্য নয়।’

‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

সব বাধা সত্ত্বেও ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’ নিয়মিত আয়োজনের কথা জানিয়েছে পিএফএ।

আল-খাদার স্টেডিয়াম থেকে সাররাস বলেন, ‘কিছু মানুষের জীবন নির্ভর করে তাদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ওপর। কারণ সেটাই তাদের আশা দেয়।’

এরপর তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে এই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় বার্তা—

‘আমাদের হয়তো অনেক কিছু নেই। কিন্তু আমরা আছি। আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই।’

কালের আলো/এসএ

আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিতে দেখা উড়ন্ত গাড়ি কি এবার বাস্তবে আসতে চলেছে? টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নতুন রোডস্টার স্পোর্টস কারের প্রদর্শনী ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটির বিশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা, মাঝআকাশে ঘোরানো এবং মাটিতে অবতরণের কৌশল দেখানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ির আত্মপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, কোনো গাড়ি অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে উঠতে পারা আর সেটিকে ব্যবহার করে নিয়মিত আকাশপথে যাতায়াত করা এক বিষয় নয়। গাড়িটির বাস্তব কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রদর্শনীতে কী দেখালেন ইলন মাস্ক?

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত প্রদর্শনীতে মাস্ক বলেন, ‘আজ রাতে আপনারা কিছু অবিশ্বাস্য বিষয় দেখতে যাচ্ছেন।’ গাড়িটির প্রদর্শনী এআই দিয়ে তৈরি কোনো দৃশ্য নয়, তা প্রমাণ করার জন্যই দর্শকদের সামনে এটি দেখানোর প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টারে স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত গাড়ির বাইরে নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং গাড়িটির কোন সংস্করণে এসব সুবিধা থাকবে, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আকর্ষণীয় প্রদর্শনী দিয়ে কোনো প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় না।

কীভাবে শূন্যে উঠবে গাড়ি?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাস দ্রুত নির্গত করে থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরির ব্যবস্থা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। বাতাস দ্রুত বেরিয়ে গেলে বিপরীত দিকে বল সৃষ্টি হয়। এই বল কাজে লাগিয়ে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা বা ঘোরানোর মতো কৌশল দেখানো সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে থ্রাস্টের পরিমাণ, গাড়ির ওজন, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসের চাপ ব্যবস্থাপনার ওপর। দীর্ঘ সময় বাতাসে থাকা কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আকাশপথে চলাচলের জন্য আরও জটিল প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই থ্রাস্টার ব্যবহার করে সাময়িকভাবে শূন্যে ওঠার প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড্ডয়নক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

উড়ন্ত গাড়ি হতে হলে যেসব চ্যালেঞ্জ পেরোতে হবে

একটি পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়িকে একই সঙ্গে সড়ক ও আকাশপথে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী হতে হবে। এর জন্য শুধু শক্তিশালী থ্রাস্টার থাকলেই চলবে না; প্রয়োজন হবে নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা, শক্তির ব্যবহার, শব্দদূষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব পরিবেশে এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যবহার করা কঠিন হবে।

২০২৮ সালে উৎপাদনের পরিকল্পনা

মাস্ক জানিয়েছেন, নতুন রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়, গাড়ি সরবরাহের সূচি, চূড়ান্ত মূল্য এবং বিশেষ প্রযুক্তির বাস্তব কার্যক্ষমতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলেও গাড়িটির কোন সংস্করণে থ্রাস্টার প্রযুক্তি থাকবে এবং সেটি ক্রেতাদের জন্য কতটা ব্যবহারযোগ্য হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকবে। উৎপাদনের ঘোষণা আর বাজারে পরীক্ষিত, অনুমোদিত ও ব্যবহারযোগ্য গাড়ি সরবরাহ—দুটি আলাদা বিষয়।

টেসলার প্রদর্শনী উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কিন্তু গাড়িটি দীর্ঘ সময় উড়তে পারে, আকাশপথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে কিংবা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাশর্ত পূরণ করেছে—এমন প্রমাণ এই বর্ণনায় নেই। অতএব, এখনই টেসলার নতুন রোডস্টারকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি বলা ঠিক হবে না। বরং এটিকে থ্রাস্টার প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখা যায়।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

‘বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই।’ কবি রজনীকান্ত সেনের ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার এই পঙ্‌ক্তি বাংলা পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থীর কাছে পরিচিত। নিজের হাতে তৈরি বাসার সৌন্দর্য আর আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বাবুই পাখির পরিচয়ও পেয়েছে বিশেষ মাত্রা। কিন্তু কবিতায় পরিচিত সেই পাখি ও তার নিপুণ বুননের বাসা এখন বাস্তবে অনেকের কাছেই অচেনা হয়ে উঠছে।

একসময় গ্রামবাংলার তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা। পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত গ্রামের পথঘাট। মৌলভীবাজারের বিভিন্ন গ্রাম ও হাওরাঞ্চলেও ছিল এমন দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কমেছে তালগাছ, সংকুচিত হয়েছে বাবুই পাখির আবাসস্থল। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের ব্যবহার, পাখি শিকার এবং অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণের মতো নানা কারণে প্রকৃতির এই পরিচিত দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ শিক্ষক ও পাখিপ্রেমীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, মৌলভীবাজারের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর তালগাছ থাকলেও এখন সেগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোথাও কোথাও তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেও সেখানে আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা দেখা যায় না।

তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত শত বাসা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২ নম্বর উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল সেই সময়ের গ্রামবাংলা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় গ্রামের মেঠোপথের পাশে সারি সারি তালগাছ ছিল। গাছগুলোর পাতায় পাতায় বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা ঝুলত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত পুরো গ্রাম। মুজিবুর রহমান বলেন, শুধু তাঁর গ্রামেই নয়, আবহমান বাংলার বহু গ্রামেই এমন দৃশ্য দেখা যেত। কিন্তু এখন মৌলভীবাজারের গ্রাম-গঞ্জে তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে কমে গেছে বাবুই পাখির উপস্থিতিও।

তাঁর স্মৃতিচারণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কীভাবে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দৃশ্য কয়েক দশকের ব্যবধানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। যে পাখি ও বাসা একসময় গ্রামীণ পরিবেশের স্বাভাবিক অংশ ছিল, এখন তা দেখার জন্যও অনেক জায়গায় খোঁজ করতে হয়।

এক দশকেই বদলে গেছে গ্রামের চিত্র

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার বাসিন্দা জনি দাসও দেখেছেন তালগাছ কমে যাওয়ার এমন পরিবর্তন। তাঁর মতে, প্রায় এক দশক আগেও তাঁদের এলাকায় যত তালগাছ ছিল, এখন তার চার ভাগের এক ভাগও নেই। জনি দাস জানান, ২০০১-২০০২ সালের দিকে শুধু তাঁদের গ্রামেই রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন বাড়িতে অন্তত দুই শতাধিক তালগাছ ছিল। এসব গাছে বাবুই পাখির বাসাও দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে পুরো গ্রাম ঘুরেও একটি তালগাছ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর।

বাবুই পাখির বাসার অবস্থা আরও করুণ বলে মনে করেন তিনি। একসময় যা ছিল গ্রামের পরিচিত দৃশ্য, এখন তা দেখা যেন জাদুঘরে বিরল কোনো নিদর্শন দেখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের এমন অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, তালগাছ কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু গাছের সংখ্যা হ্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বদলে যাচ্ছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাখিদের বসবাসের সুযোগও।

এখনো রয়েছে বাবুইয়ের বাসা দেখার বিরল সুযোগ

তবে মৌলভীবাজারের সব জায়গা থেকেই বাবুই পাখির বাসা হারিয়ে যায়নি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের রূপসপুর বা ফুলবাড়ি এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি তালগাছে এখনো অসংখ্য বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা দেখা যায়। এলাকার এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করেন অনেকে। তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা বাসাগুলো এখনো প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। চারপাশে তালগাছ ও বাবুইয়ের বাসা কমে যাওয়ায় এমন জায়গাগুলো স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্বও পেয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাজী মো. ফজলুর রহমান মনে করেন, নির্বিচারে গাছ কাটা, কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে তালগাছ কমে যাচ্ছে। এতে বাবুই পাখির আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং পাখিটির টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার বিষয়টি শুধু পাখি সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশের ভারসাম্যও জড়িত।

কুলাউড়ায় তালগাছ আছে, নেই বাবুইয়ের বাসা

কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর এলাকার সোলেমান হোসেনের স্মৃতিতেও রয়েছে ছোটবেলায় দেখা অসংখ্য তালগাছ ও বাবুই পাখির বাসার কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর এলাকার চিত্র বদলে গেছে। সোলেমান হোসেন জানান, বর্তমানে পুরো এলাকায় রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে মাত্র একটি তালগাছ রয়েছে। আগে সেই গাছেও বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেখানে আর কোনো বাসা চোখে পড়ছে না।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, শুধু তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেই বাবুই পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না। গাছের পাশাপাশি পাখির উপযোগী পরিবেশ, নিরাপত্তা ও খাদ্যের প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট এলাকায় বাবুই পাখি না থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিনও তাঁর শৈশবের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। ছোটবেলায় তাঁদের এলাকায় অসংখ্য তালগাছ দেখেছেন তিনি। এসব গাছে বাসা বাঁধত বাবুই পাখি। এখন তালগাছ যেমন কম দেখা যায়, তেমনি চোখে পড়ে না পাখিটির শৈল্পিক বাসাও।

তিন প্রজাতির বাবুই নিয়ে উদ্বেগ

পাখিপ্রেমী খোকন সিং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিয়ে খোঁজখবর করেন এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পাখিদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় পাহাড়, টিলা ও হাওরসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দাগি, বাংলা ও দেশি—এই তিন প্রজাতির বাবুই পাখির আবাস ছিল। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলা ও দাগি বাবুইয়ের দেখা প্রায় মেলেই না। তাঁর পর্যবেক্ষণে, কোনোরকমে টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই পাখি।

খোকন সিংয়ের মতে, বাবুই পাখির বাসা তৈরির জন্য তালগাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিটির আবাসস্থলও সংকটের মুখে পড়েছে। বাবুই পাখিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ রোপণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে কোনো প্রজাতির বর্তমান সংখ্যা, বিস্তৃতি কিংবা বিলুপ্তির ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের জরিপ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন। পাখিপ্রেমীদের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও তা দিয়ে পুরো জেলার প্রজাতিগত অবস্থা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

আবাসস্থল ধ্বংসে ঝুঁকিতে পাখি ও বন্যপ্রাণী

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক বলেন, নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে তালগাছ কাটা এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল নষ্ট হচ্ছে। তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তালগাছ সংরক্ষণ এবং বাবুই পাখিকে বিলুপ্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নাজমুল হকের সতর্কবার্তা হলো, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একসময় বাবুই পাখি বাস্তব জীবনের পরিচিত দৃশ্য থেকে হারিয়ে গিয়ে কেবল পাঠ্যপুস্তকের কবিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

তালগাছ রক্ষা ও নতুন করে রোপণ জরুরি

বাবুই পাখির বাসা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি গ্রামবাংলার পরিবেশ ও স্মৃতিরও অংশ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পাখির বাসা বিরল হয়ে পড়ার যে চিত্র স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, তা আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে তালগাছ সংরক্ষণ, উপযুক্ত জায়গায় নতুন চারা রোপণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ, পাখি শিকার প্রতিরোধ এবং কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাবুইয়ের বাসা থাকা গাছগুলো রক্ষা করা এবং পাখির উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

মেয়েকে নিয়ে সকালে অফিসার্স ক্লাবে যান

অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মো. মোশাররফ হোসেন তাঁর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে ক্লাবের সুইমিংপুলের সামনে মেয়েকে রেখে তিনি পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা অংশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।

তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ঘটনা সম্পর্কে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে গিয়েছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। তাঁর চোখে কম দেখার সমস্যা ছিল। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে তিনি নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তিনি নিচে পড়ে যান, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি