খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল, ‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরল ফুটবল, ‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

আল-খাদার স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট জ্বলে উঠেছিল। গ্যালারিতে তরুণদের গান, পরিবারের সদস্যদের আসন নেওয়া, সামনের সারিতে শিশুদের ছোটাছুটি—কয়েক ঘণ্টার জন্য দৃশ্যটা যেন যুদ্ধের বাস্তবতা ভুলিয়ে দিয়েছিল সবাইকে।

মাঠে নেমেছিল আরব অর্থোডক্স বেইত জালা ও দেইশেহ ইয়ুথ ফুটবল দল। বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে উল্লাস, হতাশা আর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে চিৎকার।

প্রায় তিন বছর পর ফিলিস্তিনি ক্লাবগুলোর প্রথম সংগঠিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল এটি।

বিরতিতে আতঙ্ক

ম্যাচের বিরতিতে হঠাৎ স্টেডিয়ামের পেছনে গোলমালের সৃষ্টি হলে দর্শকেরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। মাঠ থেকেই পরিস্থিতি দেখছিলেন বেইত জালার ২০ বছর বয়সী খেলোয়াড় সিজার সাররাস।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছিলাম যখন দেখলাম সব দর্শক উঠে দাঁড়াচ্ছে।’

ফিলিস্তিনে সংঘাতের কারণে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত সাররাস। তিনি বলেন, কখনো কখনো মাঠে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার খবর শোনেন। তাই প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসেছে।

কিন্তু এবার সেটি সামরিক অভিযান ছিল না। সমর্থকদের মধ্যকার একটি ঝগড়া থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে দর্শকেরা আবার আসনে ফিরে যান, শুরু হয় ম্যাচ।

এরপর পুরো মনোযোগ আবার ফুটবলে।

‘স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি’

১৫ বছর বয়সী রিমাস সারহানের কাছে এই ম্যাচের তাৎপর্য ছিল আরও গভীর। বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরের এই কিশোরী আওদ স্পোর্টস একাডেমি ও ফিলিস্তিনের যুব জাতীয় দলের হয়ে খেলেন।

পূর্ণ গ্যালারির সামনে খেলার অনুভূতিকে তিনি বলেছেন ‘খুব সুন্দর’।

সারহানের ভাষায়, ‘এটি আমাদের অনুভব করায় যে, আমাদের জীবনেও একটু স্বাভাবিকতা আছে। বিদেশের মানুষের মতো।’

নিহত ক্রীড়াবিদদের স্মরণে টুর্নামেন্ট

এই ম্যাচ ছিল ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’-এর অংশ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ১ হাজার ১৪ জন ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করে টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা হামলার কারণে দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল বন্ধ থাকার পর আবার মাঠে ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হয়েছে এই টুর্নামেন্ট।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সাধারণ সম্পাদক ফিরাস আবু হিলালের অভিযোগ, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে দীর্ঘদিন ফুটবল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চেকপোস্ট, চলাচলে বিধিনিষেধ, ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা এবং খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের কারণে ফুটবল আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি তাঁর।

‘গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেডিয়াম ধ্বংস’

আবু হিলালের দাবি, গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেডিয়াম ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু মাঠে এখন বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাঁবু রয়েছে।

এই দীর্ঘ বিরতির প্রভাব পড়েছে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারেও। সাররাস বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ে বড় হয়েছি, যখন আমাদের উন্নতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে গেছে। সময়টা আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। কোনো লিগ ছিল না।’

তবু এখন ধীরে ধীরে মাঠে ফিরেছে ২০০-এর বেশি ক্লাব। পশ্চিম তীর, গাজা এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে আবার শুরু হয়েছে ফুটবল কার্যক্রম।

প্রত্যাবর্তনের পেছনে অসংখ্য হারানোর গল্প

এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ক্রীড়াবিদের হারানোর গল্প। যুদ্ধের সময় নিহত হয়েছেন অনেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড সুলাইমান আল-ওবেইদ। ২০২৫ সালে গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকার সময় তিনি নিহত হন। ২০২৪ সালে নিহত হন ফিলিস্তিন অলিম্পিক দলের কোচ হানি আল-মাসদার।

আবু হিলাল বলেন, ‘আমরা ফিরে এসেছি পুরো বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে, আমরা এমন একটি জাতি, যাদের বেঁচে থাকতে হবে।’

ম্যাচের চেয়েও বড় বাধা

মাঠে ফিরলেও খেলোয়াড়দের জন্য পরিস্থিতি আগের মতো সহজ হয়নি। পশ্চিম তীরে দূরপাল্লার যাতায়াত কমাতে কাছাকাছি এলাকার দলগুলোকে একই গ্রুপে রেখেছে পিএফএ। তারপরও ম্যাচে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আবু হিলালের ভাষায়, ‘প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহরের প্রবেশপথে একটি করে লোহার সামরিক গেট আছে। দখলদার বাহিনী যেকোনো সময় এসে সেই গেট বন্ধ করে দিতে পারে, তখন দল ম্যাচে পৌঁছাতে পারে না।’

তবে এসব কারণে টুর্নামেন্ট বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

‘ম্যাচ পিছিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বাতিল হবে না। ম্যাচ হতেই হবে, আমাদের খেলতেই হবে।’

অর্থ সংকটেও থামেনি ফুটবল

প্রায় তিন বছর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটও তৈরি হয়েছে। অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে। ফলে পেশাদার ফুটবলারদের কেউ কেউ আবার অপেশাদার পর্যায়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দেইশেহের খেলোয়াড় ও স্থানীয় ফুটবল একাডেমির কোচ মোহাম্মদ এল-জগাইরি বলেন, ‘কিছু মানুষের ক্রীড়া ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।’

নিজের ক্যারিয়ারও নানা বাধায় থেমে গিয়েছিল তাঁর। ইসরায়েলি কারাগারে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে মোট আট বছর ছয় মাস কাটাতে হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেনাদের গুলিতে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় দুই বছর মাঠের বাইরে ছিলেন।

তবে পরে আবার অনুশীলনে ফেরেন তিনি।

‘আত্মসমর্পণের কোনো জায়গা নেই। আমরা প্রতিরোধ করতে চাই, আমরা বাঁচতে চাই এবং আমরা আশাকে আঁকড়ে ধরতে চাই,’ বলেন এল-জগাইরি।

ধ্বংসের হুমকির মধ্যেও মাঠে মেয়েরা

গত তিন বছরে হামলার শিকার হওয়া অনেক মাঠেই এখন আবার ফুটবল চলছে। পিএফএর দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৬৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

পশ্চিম তীরেও ঝুঁকি কমেনি। বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরে আওদ স্পোর্টস একাডেমির মাঠটি ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতাবাদী দেয়াল ও নজরদারি টাওয়ারের ছায়ায় অবস্থিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিবিরটিতে নিয়মিত সামরিক অভিযানও হয়।

থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপে খেলার প্রস্তুতি নেওয়া ২০ বছর বয়সী কারিম বলেন, এসব পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। নিরাপত্তার কারণে নিজের আসল নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মাঠটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদের পর ফিফা ও উয়েফাসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার উদ্যোগে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়। তবে মাঠটির ওপর হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়েছে—এমন আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পায়নি আইদা ইয়ুথ সেন্টার।

কারিম বলেন, ‘এই মাঠ আমাদের জন্য শ্বাস নেওয়ার জায়গা। যখন ধ্বংসের নির্দেশ এসেছিল, আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’

ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠটি অন্যতম কয়েকটি খোলা জায়গা। একই সঙ্গে মেয়েদের জন্যও এটি তৈরি করেছে নতুন সুযোগ।

১৫ বছর বয়সী ফাতিমা লুৎফি বলেন, ‘আমি সেই নিয়ম ভেঙেছি যে ফুটবল মেয়েদের জন্য নয়।’

‘আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই’

সব বাধা সত্ত্বেও ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’ নিয়মিত আয়োজনের কথা জানিয়েছে পিএফএ।

আল-খাদার স্টেডিয়াম থেকে সাররাস বলেন, ‘কিছু মানুষের জীবন নির্ভর করে তাদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ওপর। কারণ সেটাই তাদের আশা দেয়।’

এরপর তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে এই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় বার্তা—

‘আমাদের হয়তো অনেক কিছু নেই। কিন্তু আমরা আছি। আমরা শুধু একটি সংখ্যা নই।’

কালের আলো/এসএ

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
হেলিকপ্টারে সুন্দরবন, নৌপথে মোংলা—দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা থেকে শুরু করে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা—দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে হেলিকপ্টারে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে পরিদর্শন করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিচালন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

  • আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ ও জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
  • বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন
এদিন সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুন্দরবন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিপুল জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায়ও এ বন উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী, শুভেচ্ছা জানাতে মানুষের ভিড়
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম উপকূলীয় জনপদটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

নদীভাঙন, পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ
সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের নলিয়ান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। নদীভাঙন, নিরাপদ পানির অভাব, লবণাক্ততা এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উপকূলীয় জনপদের টেকসই উন্নয়নে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি। নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সারা বছর চলাচল উপযোগী সড়ক এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবমুখী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

সফর উপলক্ষে জোরদার নিরাপত্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফর ঘিরে এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন
নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। পরে সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দরের প্রধান ফটকে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

বন্দর সম্প্রসারণে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহন, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য শুধু জেটি বা কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। পণ্য ওঠানামার গতি, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য সহায়ক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা
সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে টার্মিনালের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, অনুমোদন, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রকল্পটির চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়া যায় না। সুন্দরবনের কাছাকাছি বড় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বন, নদী, জলজ প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরে দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নলিয়ানের মানুষের নদীভাঙন, সুপেয় পানি ও যোগাযোগসংকট; অন্যদিকে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

এই দুই ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সুন্দরবন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গুরুত্ব সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন—পরিদর্শনে উঠে আসা সম্ভাবনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান এবং উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

 

সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
সৌদির বিমান চলাচলে বিঘ্ন, বাতিল ১৩৫ ফ্লাইট

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটের মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারীদের ওপরও।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীকে যাত্রার সময় পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি, সৌদি আরবে নতুন করে কাজে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, সময়সূচি ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন