খুঁজুন
                               
, ,
           

মেটার এআই এজেন্ট ‘মিউজ’-এর জনপ্রিয়তা, অ্যামাজনে নিষিদ্ধ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
মেটার এআই এজেন্ট ‘মিউজ’-এর জনপ্রিয়তা, অ্যামাজনে নিষিদ্ধ

মেটার এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ উন্মোচনের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যবহারকারীর হয়ে ই–মেইল পাঠানো, ভ্রমণের টিকিট বুক করা, অনলাইনে পণ্য কেনাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ করতে পারে এই এআই এজেন্ট।

গত ৮ সেপ্টেম্বর চালুর পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠে আসে মিউজ। সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে অ্যাপটি ২৫ লাখের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মিউজকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অনলাইনে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মিউজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অ্যামাজন।

কেন মিউজকে নিষিদ্ধ করল অ্যামাজন

অ্যামাজনের দাবি, মিউজ কোনো অনুমতি ছাড়াই তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এতে গ্রাহকের তথ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে মিউজ ব্যবহার করে পণ্য কেনার চেষ্টা করলে ব্যবহারকারীরা একটি সতর্কবার্তা দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে মিউজকে ‘অননুমোদিত এআই এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে অ্যামাজনে প্রবেশ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করছে।

অ্যামাজনের ভাষ্য, মিউজ ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগে তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি। এমনকি মেটাও মিউজ সম্পর্কে আগে অ্যামাজনকে জানায়নি।

গ্রাহকের তথ্য নিয়ে উদ্বেগ

অ্যামাজনের অভিযোগ, মিউজ ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তনের সক্ষমতাও রয়েছে এআই এজেন্টটির।

এসব কারণে গ্রাহকের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামাজন। এ কারণেই তাদের প্ল্যাটফর্মে মিউজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মিউজ কীভাবে কাজ করে

মেটার তথ্যমতে, মিউজ এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশ পাওয়ার পর নিজে থেকে একাধিক ধাপে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ‘স্পার্ক’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই এআই এজেন্ট সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করে।

কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি মিউজ ব্যবহারকারীর হয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ফরম পূরণ, ই–মেইলের ইনবক্স গোছানো, রান্নার রেসিপি থেকে বাজারের তালিকা তৈরি কিংবা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাঠানোর মতো কাজ করতে পারে।

এমনকি অনলাইনে পণ্য কেনার মতো কাজও সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে মিউজের।

নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ

মিউজ নিয়ে নিরাপত্তা গবেষকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা মিউজের ম্যাকওএস অ্যাপে একটি ত্রুটি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, ওই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে কম্পিউটারে থাকা ক্ষতিকর সফটওয়্যার মিউজের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ফলে এআই এজেন্টটির কার্যকারিতার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এসএ

সর্দি-কাশির ঘরোয়া যত্ন থেকে চিকিৎসা, জেনে নিন করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সর্দি-কাশির ঘরোয়া যত্ন থেকে চিকিৎসা, জেনে নিন করণীয়

সর্দি-কাশি খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাইনোভাইরাসসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণে এ সমস্যা দেখা দেয়। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা—সর্দি-কাশির লক্ষণ, করণীয় ও প্রতিরোধ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন।

যেভাবে ছড়ায়

সর্দি-কাশির ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়াতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাসযুক্ত কোনো বস্তু স্পর্শ করার পর অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলেও সংক্রমণ হতে পারে।

হাত মেলানো বা আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। ঠান্ডা বা ধুলাবালুযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। শীত ও বর্ষাকালে এ ধরনের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

সাধারণ লক্ষণ

সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—

  • নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হওয়া
  • হাঁচি, বিশেষ করে সকালে
  • গলাব্যথা বা গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • শুকনো কিংবা কফযুক্ত কাশি
  • শরীর বা মাথাব্যথা
  • মৃদু থেকে মাঝারি জ্বর
  • চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কখনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও যুক্ত হতে পারে।

ঘরোয়া যত্নে যা করতে পারেন

সাধারণ সর্দি-কাশি অনেক ক্ষেত্রেই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যায়। উপসর্গের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান করা জরুরি।

গরম পানি ও লবণ দিয়ে গার্গল করলে গলাব্যথায় সাময়িক আরাম মিলতে পারে। গরম পানির ভাপ নাক বন্ধভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। মধু বা আদা কিছু মানুষের কাশিতে আরাম দিতে পারে।

তবে যেকোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স, অ্যালার্জি ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্কতা

জ্বর বা শরীরব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ বা সর্দির উপসর্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে ওষুধ নেওয়া উচিত।

কাশি শুকনো নাকি কফযুক্ত—তার ওপর চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় একাধিক কাশির ওষুধ না খাওয়াই ভালো।

সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

সর্দি-কাশির সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

  • ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর এবং তা তিন দিনের বেশি থাকা
  • শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
  • ঘন হলুদ বা সবুজ কফ
  • প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপসর্গ গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রতিরোধে যা করবেন

সর্দি-কাশির সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। অপরিষ্কার হাতে খাবার খাওয়া বা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা দরকার।

আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক।

কালের আলো/এসএ

বিদ্যুৎ অবকাঠামো আধুনিকায়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ অবকাঠামো আধুনিকায়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন

ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপশহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ অর্থে শিল্প ও নগর অঞ্চলের বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীন ঢাকা ও আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও নগর এলাকার ১৩টি পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে।

বাড়বে সাবস্টেশনের সক্ষমতা

প্রকল্পের আওতায় ৫২টি নতুন সাবস্টেশনে ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ট্রান্সফরমার সক্ষমতা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ এমভিএ বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ স্থাপন করা হবে। নদী পারাপারের ট্রান্সমিশন কাঠামো ও সুইচিং স্টেশনও নির্মাণ করা হবে।

জলবায়ু সহনশীলতায় গুরুত্ব

এডিবির ঋণের মধ্যে ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার আশপাশের শিল্প ও বাণিজ্যিক করিডোরে উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

প্রশিক্ষণ পাবেন কর্মকর্তারা

প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। এ ছাড়া উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রয়োগ ও কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য এডিবি পরিচালিত ‘রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি অনুদান দেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বুক না কেটেই ১১ বছরের শিশুর অস্ত্রোপচার, পরদিনই খেলল ফুটবল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
বুক না কেটেই ১১ বছরের শিশুর অস্ত্রোপচার, পরদিনই খেলল ফুটবল

দীর্ঘদিন ধরে মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে ভুগছিল ১১ বছরের একটি শিশু। রোগ নিয়ন্ত্রণে তাকে উচ্চমাত্রার ওষুধ নিতে হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও প্রচলিত পদ্ধতিতে বুকের হাড় কেটে অস্ত্রোপচার করতে হয় বলে ভয় পাচ্ছিল শিশুটি। পরিবারও এতে রাজি ছিল না। এভাবে কেটে যায় প্রায় ছয় মাস।

শেষ পর্যন্ত রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে শিশুটির। বুকের হাড় কাটতে হয়নি; ছোট কয়েকটি ছিদ্রের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, অস্ত্রোপচারের পরদিন সকালেই চিকিৎসকের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে শিশুটি।

রোবোটের সহায়তায় অস্ত্রোপচার

গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে শিশুটির অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মোফাসসেল উদ্দীন আহমেদ।

এর আগে ৩১ আগস্ট একই হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে একজন পুরুষ রোগীর পিত্তথলি এবং একজন নারী রোগীর জরায়ু অপসারণ করা হয়।

অধ্যাপক মোফাসসেল উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে দীর্ঘ সময় ভারী কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। খেলাধুলায় ফিরতেও কয়েক মাস সময় লাগে। কিন্তু রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে পরদিনই ফুটবল খেলতে দেখা যায়।

রোবট নিজে অস্ত্রোপচার করে না

রোবোটিক সার্জারি নিয়ে অনেকের ধারণা, রোবট নিজে থেকেই অস্ত্রোপচার করে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বিষয়টি এমন নয়। এখানে সার্জনই অস্ত্রোপচারের মূল নিয়ন্ত্রক, আর রোবট তাঁকে সহায়তা করে।

অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন বলেন, প্রচলিত অস্ত্রোপচারে সার্জন নিজের হাতে যন্ত্র পরিচালনা করেন। রোবোটিক সার্জারিতে সার্জন রোবোটিক বাহুগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। সামনে থাকা থ্রিডি মনিটরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রিমাত্রিক ও বড় আকারের ছবি দেখা যায়।

রোবোটিক যন্ত্রগুলো তুলনামূলক বেশি নমনীয় হওয়ায় সূক্ষ্ম ও জটিল জায়গায় কাজ করা সহজ হয়। যন্ত্রগুলোর প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি নড়াচড়ার সুবিধাও রয়েছে।

রফিকুস সালেহীনের ভাষায়, দেশে রোবোটিক সার্জারির এই যাত্রা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

চীনা প্রযুক্তির রোবট

ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে ব্যবহৃত রোবটটির নাম ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’। চীনে তৈরি এই রোবটটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আনা হয়।

রোবোটিক সার্জারি পরিচালনার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকেরা চীনে দুই দফা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের সময় কৃত্রিম অঙ্গ ও প্রাণীর অঙ্গে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেন তারা। পরে চীনা চিকিৎসকদের সঙ্গে মানুষের অস্ত্রোপচারেও অংশ নেন।

প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট অর্জনের পর সরকারি অনুমতি পাওয়া গেলে গত মাসে দেশে রোবোটিক সার্জারির কার্যক্রম শুরু হয়।

অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১২ জন রোগীর রোবোটিক সার্জারি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সবাই সুস্থ আছেন।

জটিল অস্ত্রোপচারে বাড়ছে ব্যবহার

ইউরোলজি বিভাগের প্রধান ও কনসালট্যান্ট হাসিনা সাদিয়া খান রোবটের সহায়তায় ১৭ বছর বয়সী এক রোগীর পাইলোপ্লাস্টি করেন। রোগীর শারীরিক গঠন তুলনামূলক চিকন হওয়ায় পেটে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে কাজ করার জায়গা কম ছিল। রোবোটিক পদ্ধতিতে অল্প জায়গায়ও তুলনামূলক সহজে কাজ করা গেছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, বিশ্বে রোবোটিক সার্জারির বড় একটি অংশ ইউরোলজিক অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত হয়। গাইনোকোলজিতেও এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

অধ্যাপক সামছাদ জাহান বলেন, রোবোটিক সার্জারিতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও গঠন বড় করে দেখা যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বড় করে দেখার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি সার্জনের হাতের স্বাভাবিক কাঁপুনি বা ট্রেমর ফিল্টার করা যায়। এতে আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমিয়ে তুলনামূলক নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হতে পারে।

দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ

রোবোটিক সার্জারিতে সাধারণত ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলে প্রচলিত বড় কাটাছেঁড়ার তুলনায় রক্তপাত, ব্যথা ও শারীরিক ধকল কম হতে পারে এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

অধ্যাপক মোফাসসেল উদ্দীন আহমেদের মতে, খেলোয়াড়দের মতো যাদের দ্রুত মাঠে ফিরতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতি বিশেষভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।

খরচ বেশি, তবে সম্ভাবনাও আছে

রোবোটিক সার্জারির অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা এর ব্যয়। দেশে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের খরচ ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির তুলনায় প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তবে বিদেশে একই ধরনের চিকিৎসার তুলনায় দেশের খরচ কম।

চিকিৎসকদের আশা, দেশে রোবোটিক সার্জারি চালু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকেও রোগীরা বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসতে পারেন।

প্রশিক্ষণের নতুন সুযোগ

রোবোটিক সার্জারি চালু হওয়ায় দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদেশে যেতে হয়, যা ব্যয়বহুল।

অধ্যাপক সামছাদ জাহানের মতে, ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের দেশেই রোবোটিক সার্জারির প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

চিকিৎসকদের ধারণা, আগামী দিনে কোলন, পাকস্থলী, অন্ত্র, কিডনি, প্রোস্টেট ও জরায়ুর বিভিন্ন অস্ত্রোপচারসহ ক্যানসারের চিকিৎসায় রোবোটিক সার্জারির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ