খুঁজুন
                               
, ,
           

কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে  বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এক জেলা থেকে আরেক জেলা—একই দিনে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর বিকেলে তিনি যোগ দেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে। দুটি কর্মসূচিতেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত রাখার বার্তা।

  • কিশোরগঞ্জে ‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’ চ্যালেঞ্জ
  • কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হালুয়াঘাটে অনলাইন হুমকির জবাব
  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে মাঠে থাকার ঘোষণা

‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’
দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান। আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।’

‘ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। তাঁর ভাষ্য, গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষগুলো পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করে তাদের ‘ফ্যাসিবাদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাসে আগুনের প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা
সম্প্রতি দুটি বাসে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস পুড়িয়ে বা কোনো চক্রের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করছেন দুটি বাস পুড়িয়ে এবং একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে গলা মেলান নেতাকর্মীরাও
এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘আপা আপা করিস নারে, আপা আর আসবে নারে।’ প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও গলা মেলান।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জের পর গন্তব্য হালুয়াঘাট
কিশোরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করেই বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকার ধান মহলে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আয়োজনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা। এখানেও বক্তব্যের সার কথা—অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা। তবে হালুয়াঘাটের বক্তব্যে অনলাইনভিত্তিক হুমকি এবং ভবিষ্যতে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অনলাইন হুমকির বিপরীতে মাঠের বার্তা
হালুয়াঘাটে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে হুমকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীতে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমনি গুম, খুনসহ সকল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের জনগণ তারেক রহমান—এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে থাকা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রিন্সের
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যা সমাধান এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এতে জেলা ও উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই কর্মসূচিতে অভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা
কিশোরগঞ্জ ও হালুয়াঘাট—দুই কর্মসূচিতেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল ছিল রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা এবং অপরাধের বিচার। কিশোরগঞ্জে ছিল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা এবং হালুয়াঘাটে গুরুত্ব পেয়েছে অনলাইন হুমকি, বিচার ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্ন। একই দিনে দুই জেলার ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততার একটি স্পষ্ট চিত্রও তুলে ধরে। দুপুরে কিশোরগঞ্জের রাজপথের কর্মসূচি থেকে বিকেলে হালুয়াঘাটের সমাবেশ—দিনভর এই ছুটে চলার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাঠের রাজনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরাও আশান্বিত হয়ে উঠেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় স্থানীয় সময় দুপুরে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাতিসংঘে তারেক-শাহবাজ বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে তারেক-শাহবাজ বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই নেতা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪ তলায় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সমসাময়িক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে তাদের মধ্যে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

এছাড়া, বৈঠকে উভয় পক্ষ আগামী দিনে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজপথ—একদিনে দুই মঞ্চে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজপথ—একদিনে দুই মঞ্চে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

একই দিনে সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন পরিসর। সকালে শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, দুপুরে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা; আর বিকেলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব। ময়মনসিংহের নান্দাইলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এমনই বহুমাত্রিক কর্মসূচিতে দিন কাটিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী।

কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় তাঁর দিনের চিত্রটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ—সকালে শিক্ষাঙ্গনে নীতিগত বার্তা, দুপুরে মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা। আর বিকেলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সম্মুখ নেতৃত্ব। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি দায়িত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই দুই স্রোত একই দিনে এসে মিলে নান্দাইলে ইয়াসের খান চৌধুরীর দিনলিপিতে।

  • শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে শিক্ষার মানে ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা
  • বিকেলে অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব

শিক্ষার মানে আপসহীনতার বার্তা

নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকারের জায়গায় রেখে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

শিক্ষার সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতাকে যোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করেছে।’

তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে—শিক্ষার মানোন্নয়নকে তিনি কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন—এই তিনটি উপাদানকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন।

শিক্ষাঙ্গন থেকে সবুজের বার্তা

এর আগে সকালে আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা পরিবেশ ও কলেজের সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের পর কলেজ প্রাঙ্গণে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে দিনের প্রথম পর্বে শিক্ষা ও পরিবেশ—দুটি বিষয়ই সামনে আসে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজনৈতিক ময়দানে

শিক্ষাঙ্গনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বিকেলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে নান্দাইলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি স্থানীয় নতুন বাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব এনামুল কাদির, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, পৌর বিএনপি নেতা হাসনাত মাহমুদ তালহা, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান সরকার এবং সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম শুভসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

কালের আলো/এমএএএমকে