খুঁজুন
                               
, ,
           

ইউএনও’র কাছে চা শ্রমিকদের অভিযোগ

৭৮০০ টাকার ভাতা, শ্রমিকদের কেউ পেলেন ৩ হাজার, কেউ ৩৫০০

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
৭৮০০ টাকার ভাতা, শ্রমিকদের কেউ পেলেন ৩ হাজার, কেউ ৩৫০০

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিকদের সরকারি ভাতা বিতরণে নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে বকেয়া টাকা পরিশোধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভাতাভোগী শ্রমিকেরা।

বুধবার এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শ্রমিকেরা।

অভিযোগপত্রে শ্রমিকেরা জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার যে ভাতা দেয়, তা ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাজদিহি চা-বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভাতা বিতরণ করেন। এ সময় নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণের কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে তাদের টিপসই ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে সেখানে ভাতার পুরো অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা।

লিখিত অভিযোগে ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজু রায়, রাম কুমারী নুনিয়া ও সবিতা বাউরীর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য টাকা দিয়েছেন। কেন তারা সেই টাকা আত্মসাৎ করে খাবেন? চা শ্রমিকদের মতো অসহায় জনগোষ্ঠীর ভাতা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম আমাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’

মাজদিহি চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার বলেন, ‘চা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরকারি বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও এজেন্টের লোকজন ভাতা কম দিচ্ছেন। সরকার যে ভাতা দেয়, সেটি শ্রমিকদের প্রাপ্য। প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন কম দেওয়া হবে, তা আমরা জানতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘টাকা পাওয়ার কথা প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকা, অথচ তারা পাচ্ছেন ৩ হাজার টাকা। পঞ্চায়েতের অ্যাডহক কমিটির লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পাননি। ভাতাভোগীদের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংখ্যা তত নয় বলেও জানান তিনি। অনেকের টাকা বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমেও দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানতে আগামীকাল মাজদিহি চা-বাগানে সরেজমিনে যাব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি 

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিস আহমেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই শেখ নাজমুল হাসান জানান, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন রাফিস। এ সময় পাশের একটি দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি চলছিল।

বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে রাফিস সেখানে গেলে একপর্যায়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ আরও দুজনের ওপর হামলা চালান। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর ছুরিকাঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একটি টহল পুলিশ দল আটক করে। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাফিসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সর্জন পদ্ধতিতে একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠ কচু চাষ করছেন তিনি। তাঁর সফলতা দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠ কচু। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুই পাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি জানান, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের উদ্যোগ সফল হওয়ায় মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত বা নিচু জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
একদিনে হামের উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সর্বোচ্চ।

এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দা।

এছাড়া মৃতদের মধ্যে সিলেটের একজন, চট্টগ্রামের দুজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বরের চারটি অপ্রকাশিত মৃত্যু আজকের রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৫৭ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২০ হাজার ৮৫১ এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।

এছাড়া চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ