খুঁজুন
                               
, ,
           

‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

শরৎকালের দিকে এগিয়ে যাওয়া এক বিষণ্ণ বিকেলে পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে যায়। সেই স্মৃতির কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ, যিনি বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার জগতে দুই বাংলার পাঠকের কাছেই ছিলেন পরিচিত ও সম্ভ্রমজাগানো নাম—কেতকী কুশারী ডাইসন। তবে অনেকের কাছে তিনি যতটা না ‘কেতকী কুশারী ডাইসন’, তার চেয়েও বেশি আপন ছিলেন ‘কেতকীদি’ নামে।

ছবি<< সংগৃহীত

অক্সফোর্ডের বাড়িতে এক অন্যরকম জগৎ

বইয়ে ঠাসা পড়ার ঘর, লেখালেখির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও কিবোর্ড, আর বাড়ির সামনে নিজের মতো বেড়ে ওঠা গাছপালা—সব মিলিয়ে সেই বাড়িতে ছিল না কোনো বাড়তি আড়ম্বর। ছিল শান্ত, নিবিড় এক জীবনযাপন।

কেতকী চিনিয়েছিলেন হর্সচেস্টনাট, হানিসাকল ও উইপিং উইলোর মতো গাছ।  ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রেপসিডের ক্ষেত। প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। ইংল্যান্ডের মাটি ও প্রকৃতি যেমন তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল, তেমনি বাংলাদেশের ও বাংলার স্মৃতিও তাঁর সৃষ্টির ভেতর থেকে কখনো হারিয়ে যায়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

 

শিউলি আর হর্সচেস্টনাটের মধ্যে দেশ খোঁজা

কেতকীর কবিতায় প্রবাসজীবনের এই দ্বৈত অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ পাওয়া যায় ‘বৃষ্টির পর’ কবিতায়। বৃষ্টির পর ভেজা বিকেলে একটি লাল গাড়ির গায়ে লেপ্টে থাকা ফুল দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেগুলো বুঝি শিউলি।

শরতের অগ্রদূত শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শুধু একটি ফুল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘরে ফেরার স্মৃতি, উৎসব ও শৈশবের অনুভূতি। কিন্তু পরে মনে হয়, ফুলগুলো হয়তো ইংল্যান্ডের হর্সচেস্টনাটের ফুল। শিউলির সঙ্গে তার মিল খুঁজে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু ফুলের উৎস জানার আগেই গাড়িটি চলে যায়।

এই ছোট্ট ঘটনাটিই যেন প্রবাসী জীবনের এক বড় সত্যকে সামনে আনে—দূরের দেশে থেকেও মানুষ নিজের শিকড়কে খুঁজে ফেরে পরিচিত গন্ধ, ফুল, ঋতু ও স্মৃতির ভেতর।

ছবি<< সংগৃহীত

দোলনচাঁপায় ফুটেছিল প্রবাসের শারদ উপহার

কেতকীর ‘দোলনচাঁপায় ফুল ফুটেছে’ কবিতাতেও রয়েছে একই রকম শিকড়ের টান। বীরভূম থেকে একটি দোলনচাঁপার চারা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অক্সফোর্ডের বাড়িতে। শীত এলে গাছটির মাটির ওপরের অস্তিত্ব হারিয়ে যেত, বসন্তে আবার নতুন করে জীবন ফিরে পেত। কিন্তু বছরের পর বছর ফুল ফুটত না।

অবশেষে বাড়িতে আনার প্রায় ১২ বছর পর দোলনচাঁপায় ফুল ফুটল। দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন যেন একটি করে ফুল দিয়ে প্রবাসী জীবনে নিয়ে এল বাংলার শরতের ঘ্রাণ।

দোলনচাঁপা যেন তখন শুধু একটি গাছ ছিল না, হয়ে উঠেছিল লেখিকার নিজের জীবনের প্রতীক। যে মানুষটি বহু দশক আগে দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে বসতি গড়েছিলেন, তিনিও যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদেশের মাটিতে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে, বাংলা থেকে কখনো দূরে নয়

১৯৬০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দেশ ছাড়েন কেতকী কুশারী ডাইসন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা শেষে কলকাতায় ফিরে কিছুদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে ১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ডের সহপাঠী পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র রবার্ট ডাইসনকে বিয়ে করে আবার ব্রিটেনে ফিরে যান।

কয়েক বছর কানাডার ভ্যাংকুভারে থাকার সময় বাদ দিলে জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে অক্সফোর্ডশায়ারের কিডলিংটনে। সেখানেই সংসার, সন্তান পালন এবং লেখালেখির পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন বিস্তৃত গবেষণা ও সাহিত্যচর্চা।

সাধারণ ব্রিটিশ জীবনের পরিসরের মধ্যেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ঘর-সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

গবেষণার বিষয়েও ছিল আন্তর্বিদ্য দৃষ্টিভঙ্গি

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণার পরিসর ছিল বিস্তৃত এবং আন্তর্বিদ্য। তিনটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে দুটি ইংরেজিতে এবং একটি বাংলায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘A Various Universe: A Study of the Journals and Memoirs of British Men and Women in the Indian Subcontinent 1705–1856’, ‘In Your Blossoming Flower Garden: Rabindranath Tagore and Victoria Ocampo’ এবং ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ: রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার’।

প্রথম বইটি ছিল তাঁর ডক্টরেট গবেষণার ফল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতবর্ষে আসা ব্রিটিশ নারী-পুরুষের ডায়েরি, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা নিয়ে করা এই গবেষণার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন উপন্যাসের সম্ভাবনা।

সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই পরে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’। গবেষণার বিষয়বস্তু ও নিজের প্রবাসজীবনের মধ্যে এক ধরনের সমান্তরালতাও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

 

রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো নিয়ে অভিনব নিরীক্ষা

তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’-তে গবেষণা ও কথাসাহিত্যকে একসঙ্গে নিয়ে আসেন কেতকী।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অনামিকা গবেষণার সূত্র ধরে রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও অন্তর্জগৎ অনুসন্ধান করে। একই সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতে হয় নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন ও সংকটের।

গবেষণা ও ব্যক্তিজীবনের এই দুই স্রোত ধীরে ধীরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। কেতকীর সাহিত্যকর্মে গবেষণা ও সৃজনশীলতার এমন মেলবন্ধন তাঁর স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ছবি<< সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথের রঙের জগত নিয়েও গভীর অনুসন্ধান

কেতকীর গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টি ও তাঁর সাহিত্য-চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার। একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের লেখা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকেই এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক চিত্রকল্প এবং চিত্রকলার রঙ ব্যবহারের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে সাহিত্য, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি বিস্তৃত গবেষণাকর্ম।

প্রায় আট বছরের শ্রমে সম্পন্ন সেই গবেষণা তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ‘আনন্দ পুরস্কার’ এনে দেয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় এই কাজ নিয়ে দীর্ঘ নীরবতাও ছিল বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি<< সংগৃহীত

উপন্যাসের পাশাপাশি নাটকেও ছিল স্বতন্ত্র কণ্ঠ

কেতকী কুশারী ডাইসন শুধু কবি, গবেষক বা ঔপন্যাসিক ছিলেন না; নাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর তিনটি নাটক হলো ‘রাতের রোদ’ (১৯৯০), ‘মোৎসার্ট চকোলেট’ (১৯৯৮) এবং ‘সুপর্ণরেখা’ (২০০১)।

এসব নাটকে রাজনীতি, সমাজ, লিঙ্গ, পরিবেশ ও উপনিবেশোত্তর চিন্তার নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। ‘রাতের রোদ’-এর ইংরেজি অনুবাদ Nights Sunlight প্রকাশের পর পাশ্চাত্যের বিদ্বৎসমাজেও এটি আলোচনায় আসে।

‘মোৎসার্ট চকোলেট’-এ প্রবাসী দুই বাঙালি নারীর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে পরিচয়, উপনিবেশোত্তর বাস্তবতা, স্মৃতি এবং প্রবাসী জীবনের নানা স্তর।

ছবি<< সংগৃহীত

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা দেশ

প্রবাসী বাঙালি নারীর স্মৃতির সঙ্গে শাড়ির সম্পর্কও তাঁর লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। একটি শাড়ি হয়ে ওঠে স্মৃতির অ্যালবাম—কখনো বিশেষ মানুষের উপহার, কখনো কোনো বিশেষ মুহূর্তের স্মারক, আবার কখনো দেশ ছাড়ার আগের জীবনের চিহ্ন।

সেই স্মৃতির ভাঁজে ফিরে আসে মেহেরপুরের শৈশব, স্কুলজীবন, কলেজের দিন, প্রেসিডেন্সি কলেজের সাহিত্যচর্চা এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।

দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু বাংলা ছাড়েননি। ব্রিটেনের মাটিতে বসেও মাতৃভাষাকে নিজের সৃষ্টির প্রধান আশ্রয় করে রেখেছিলেন কেতকী কুশারী ডাইসন। তাঁর সাহিত্য তাই একদিকে প্রবাসের জীবন, অন্যদিকে শিকড়ের টান—দুইয়েরই এক দীর্ঘ সংলাপ।

কবিতা, উপন্যাস, নাটক ও গবেষণার নানা শাখা পেরিয়ে কেতকীর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে মানুষ, প্রকৃতি, স্মৃতি, পরিচয়, দেশান্তর ও ভাষা। দোলনচাঁপার মতোই তাঁর সৃষ্টিশীলতাও যেন প্রতিকূল মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বারবার নতুন করে ফুল ফুটিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আকাশে উঠল টেসলার রোডস্টার? উড়ন্ত গাড়ির দাবি নিয়ে যত প্রশ্ন

বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিতে দেখা উড়ন্ত গাড়ি কি এবার বাস্তবে আসতে চলেছে? টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নতুন রোডস্টার স্পোর্টস কারের প্রদর্শনী ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটির বিশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা, মাঝআকাশে ঘোরানো এবং মাটিতে অবতরণের কৌশল দেখানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ির আত্মপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, কোনো গাড়ি অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে উঠতে পারা আর সেটিকে ব্যবহার করে নিয়মিত আকাশপথে যাতায়াত করা এক বিষয় নয়। গাড়িটির বাস্তব কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রদর্শনীতে কী দেখালেন ইলন মাস্ক?

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত প্রদর্শনীতে মাস্ক বলেন, ‘আজ রাতে আপনারা কিছু অবিশ্বাস্য বিষয় দেখতে যাচ্ছেন।’ গাড়িটির প্রদর্শনী এআই দিয়ে তৈরি কোনো দৃশ্য নয়, তা প্রমাণ করার জন্যই দর্শকদের সামনে এটি দেখানোর প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টারে স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত গাড়ির বাইরে নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং গাড়িটির কোন সংস্করণে এসব সুবিধা থাকবে, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আকর্ষণীয় প্রদর্শনী দিয়ে কোনো প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় না।

কীভাবে শূন্যে উঠবে গাড়ি?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে উচ্চচাপে সংরক্ষিত বাতাস দ্রুত নির্গত করে থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরির ব্যবস্থা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। বাতাস দ্রুত বেরিয়ে গেলে বিপরীত দিকে বল সৃষ্টি হয়। এই বল কাজে লাগিয়ে গাড়িটিকে সাময়িকভাবে শূন্যে তোলা বা ঘোরানোর মতো কৌশল দেখানো সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে থ্রাস্টের পরিমাণ, গাড়ির ওজন, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসের চাপ ব্যবস্থাপনার ওপর। দীর্ঘ সময় বাতাসে থাকা কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আকাশপথে চলাচলের জন্য আরও জটিল প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই থ্রাস্টার ব্যবহার করে সাময়িকভাবে শূন্যে ওঠার প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ উড্ডয়নক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

উড়ন্ত গাড়ি হতে হলে যেসব চ্যালেঞ্জ পেরোতে হবে

একটি পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়িকে একই সঙ্গে সড়ক ও আকাশপথে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী হতে হবে। এর জন্য শুধু শক্তিশালী থ্রাস্টার থাকলেই চলবে না; প্রয়োজন হবে নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা, শক্তির ব্যবহার, শব্দদূষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব পরিবেশে এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যবহার করা কঠিন হবে।

২০২৮ সালে উৎপাদনের পরিকল্পনা

মাস্ক জানিয়েছেন, নতুন রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়, গাড়ি সরবরাহের সূচি, চূড়ান্ত মূল্য এবং বিশেষ প্রযুক্তির বাস্তব কার্যক্ষমতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলেও গাড়িটির কোন সংস্করণে থ্রাস্টার প্রযুক্তি থাকবে এবং সেটি ক্রেতাদের জন্য কতটা ব্যবহারযোগ্য হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকবে। উৎপাদনের ঘোষণা আর বাজারে পরীক্ষিত, অনুমোদিত ও ব্যবহারযোগ্য গাড়ি সরবরাহ—দুটি আলাদা বিষয়।

টেসলার প্রদর্শনী উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কিন্তু গাড়িটি দীর্ঘ সময় উড়তে পারে, আকাশপথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে কিংবা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাশর্ত পূরণ করেছে—এমন প্রমাণ এই বর্ণনায় নেই। অতএব, এখনই টেসলার নতুন রোডস্টারকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি বলা ঠিক হবে না। বরং এটিকে থ্রাস্টার প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখা যায়।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে বাবুই, বাস্তবে নেই—তালগাছ কমে হারাচ্ছে বাংলার চিরচেনা দৃশ্য

‘বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই।’ কবি রজনীকান্ত সেনের ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার এই পঙ্‌ক্তি বাংলা পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থীর কাছে পরিচিত। নিজের হাতে তৈরি বাসার সৌন্দর্য আর আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বাবুই পাখির পরিচয়ও পেয়েছে বিশেষ মাত্রা। কিন্তু কবিতায় পরিচিত সেই পাখি ও তার নিপুণ বুননের বাসা এখন বাস্তবে অনেকের কাছেই অচেনা হয়ে উঠছে।

একসময় গ্রামবাংলার তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত বাবুই পাখির অসংখ্য বাসা। পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত গ্রামের পথঘাট। মৌলভীবাজারের বিভিন্ন গ্রাম ও হাওরাঞ্চলেও ছিল এমন দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কমেছে তালগাছ, সংকুচিত হয়েছে বাবুই পাখির আবাসস্থল। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের ব্যবহার, পাখি শিকার এবং অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণের মতো নানা কারণে প্রকৃতির এই পরিচিত দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ শিক্ষক ও পাখিপ্রেমীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, মৌলভীবাজারের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর তালগাছ থাকলেও এখন সেগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোথাও কোথাও তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেও সেখানে আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা দেখা যায় না।

তালগাছের পাতায় পাতায় ঝুলত শত বাসা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২ নম্বর উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল সেই সময়ের গ্রামবাংলা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় গ্রামের মেঠোপথের পাশে সারি সারি তালগাছ ছিল। গাছগুলোর পাতায় পাতায় বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা ঝুলত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত পুরো গ্রাম। মুজিবুর রহমান বলেন, শুধু তাঁর গ্রামেই নয়, আবহমান বাংলার বহু গ্রামেই এমন দৃশ্য দেখা যেত। কিন্তু এখন মৌলভীবাজারের গ্রাম-গঞ্জে তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে কমে গেছে বাবুই পাখির উপস্থিতিও।

তাঁর স্মৃতিচারণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কীভাবে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দৃশ্য কয়েক দশকের ব্যবধানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। যে পাখি ও বাসা একসময় গ্রামীণ পরিবেশের স্বাভাবিক অংশ ছিল, এখন তা দেখার জন্যও অনেক জায়গায় খোঁজ করতে হয়।

এক দশকেই বদলে গেছে গ্রামের চিত্র

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার বাসিন্দা জনি দাসও দেখেছেন তালগাছ কমে যাওয়ার এমন পরিবর্তন। তাঁর মতে, প্রায় এক দশক আগেও তাঁদের এলাকায় যত তালগাছ ছিল, এখন তার চার ভাগের এক ভাগও নেই। জনি দাস জানান, ২০০১-২০০২ সালের দিকে শুধু তাঁদের গ্রামেই রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন বাড়িতে অন্তত দুই শতাধিক তালগাছ ছিল। এসব গাছে বাবুই পাখির বাসাও দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে পুরো গ্রাম ঘুরেও একটি তালগাছ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর।

বাবুই পাখির বাসার অবস্থা আরও করুণ বলে মনে করেন তিনি। একসময় যা ছিল গ্রামের পরিচিত দৃশ্য, এখন তা দেখা যেন জাদুঘরে বিরল কোনো নিদর্শন দেখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের এমন অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, তালগাছ কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু গাছের সংখ্যা হ্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বদলে যাচ্ছে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাখিদের বসবাসের সুযোগও।

এখনো রয়েছে বাবুইয়ের বাসা দেখার বিরল সুযোগ

তবে মৌলভীবাজারের সব জায়গা থেকেই বাবুই পাখির বাসা হারিয়ে যায়নি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের রূপসপুর বা ফুলবাড়ি এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি তালগাছে এখনো অসংখ্য বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা দেখা যায়। এলাকার এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করেন অনেকে। তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা বাসাগুলো এখনো প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। চারপাশে তালগাছ ও বাবুইয়ের বাসা কমে যাওয়ায় এমন জায়গাগুলো স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্বও পেয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাজী মো. ফজলুর রহমান মনে করেন, নির্বিচারে গাছ কাটা, কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে তালগাছ কমে যাচ্ছে। এতে বাবুই পাখির আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে এবং পাখিটির টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার বিষয়টি শুধু পাখি সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে গ্রামীণ পরিবেশের ভারসাম্যও জড়িত।

কুলাউড়ায় তালগাছ আছে, নেই বাবুইয়ের বাসা

কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর এলাকার সোলেমান হোসেনের স্মৃতিতেও রয়েছে ছোটবেলায় দেখা অসংখ্য তালগাছ ও বাবুই পাখির বাসার কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর এলাকার চিত্র বদলে গেছে। সোলেমান হোসেন জানান, বর্তমানে পুরো এলাকায় রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে মাত্র একটি তালগাছ রয়েছে। আগে সেই গাছেও বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেখানে আর কোনো বাসা চোখে পড়ছে না।

এই অভিজ্ঞতা দেখায়, শুধু তালগাছের অস্তিত্ব থাকলেই বাবুই পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত হয় না। গাছের পাশাপাশি পাখির উপযোগী পরিবেশ, নিরাপত্তা ও খাদ্যের প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট এলাকায় বাবুই পাখি না থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিনও তাঁর শৈশবের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। ছোটবেলায় তাঁদের এলাকায় অসংখ্য তালগাছ দেখেছেন তিনি। এসব গাছে বাসা বাঁধত বাবুই পাখি। এখন তালগাছ যেমন কম দেখা যায়, তেমনি চোখে পড়ে না পাখিটির শৈল্পিক বাসাও।

তিন প্রজাতির বাবুই নিয়ে উদ্বেগ

পাখিপ্রেমী খোকন সিং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিয়ে খোঁজখবর করেন এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পাখিদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় পাহাড়, টিলা ও হাওরসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দাগি, বাংলা ও দেশি—এই তিন প্রজাতির বাবুই পাখির আবাস ছিল। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলা ও দাগি বাবুইয়ের দেখা প্রায় মেলেই না। তাঁর পর্যবেক্ষণে, কোনোরকমে টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই পাখি।

খোকন সিংয়ের মতে, বাবুই পাখির বাসা তৈরির জন্য তালগাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিটির আবাসস্থলও সংকটের মুখে পড়েছে। বাবুই পাখিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ রোপণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে কোনো প্রজাতির বর্তমান সংখ্যা, বিস্তৃতি কিংবা বিলুপ্তির ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের জরিপ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন। পাখিপ্রেমীদের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেও তা দিয়ে পুরো জেলার প্রজাতিগত অবস্থা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

আবাসস্থল ধ্বংসে ঝুঁকিতে পাখি ও বন্যপ্রাণী

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক বলেন, নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে তালগাছ কাটা এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল নষ্ট হচ্ছে। তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তালগাছ সংরক্ষণ এবং বাবুই পাখিকে বিলুপ্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নাজমুল হকের সতর্কবার্তা হলো, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একসময় বাবুই পাখি বাস্তব জীবনের পরিচিত দৃশ্য থেকে হারিয়ে গিয়ে কেবল পাঠ্যপুস্তকের কবিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

তালগাছ রক্ষা ও নতুন করে রোপণ জরুরি

বাবুই পাখির বাসা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি গ্রামবাংলার পরিবেশ ও স্মৃতিরও অংশ। তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পাখির বাসা বিরল হয়ে পড়ার যে চিত্র স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, তা আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে তালগাছ সংরক্ষণ, উপযুক্ত জায়গায় নতুন চারা রোপণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ, পাখি শিকার প্রতিরোধ এবং কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বাবুইয়ের বাসা থাকা গাছগুলো রক্ষা করা এবং পাখির উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

মেয়েকে নিয়ে সকালে অফিসার্স ক্লাবে যান

অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মো. মোশাররফ হোসেন তাঁর ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে ক্লাবের সুইমিংপুলের সামনে মেয়েকে রেখে তিনি পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশের ফাঁকা অংশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।

তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ঘটনা সম্পর্কে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে গিয়েছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। তাঁর চোখে কম দেখার সমস্যা ছিল। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে তিনি নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তিনি নিচে পড়ে যান, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি