খুঁজুন
                               
, ,
           

নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

মা হওয়ার পর একজন নারীর জীবনে বদলে যায় অনেক কিছু। বদলায় জীবনযাপন, দায়িত্ব, ঘুমের সময়, মানসিকতার সঙ্গে বদলে যায় শরীরও। কিন্তু সেই স্বাভাবিক পরিবর্তনই যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—একজন নারীকে কেন সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও আগের শরীরের মাপে ফিরে যাওয়ার হিসাব দিতে হবে?

এই প্রশ্নই এবার জোরালোভাবে তুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীরের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি কিংবা স্ট্রেচমার্ক নিয়ে কটাক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। এমনকি নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে ট্রোলিংকে ‘একেবারেই অশিক্ষিত’ মানসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ‘জুম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী অভিনয়শিল্পীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরিণীতি। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন—গর্ভধারণের ফলে শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে কেন সৌন্দর্যের নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হবে?

‘সন্তান জন্ম দেওয়ার পর স্ট্রেচমার্ক থাকলে অভিনন্দন জানানো উচিত’

পরিণীতির মতে, একজন নারীর শরীরে সন্তান জন্মের পর যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে লুকানোর বা দ্রুত মুছে ফেলার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অভিনেত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ জিম করে শরীরে পেশি তৈরি করলে মানুষ সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেয়। কেউ সমুদ্রসৈকতে গিয়ে ত্বক তামাটে করে ফিরলে সেটিও স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। তাহলে সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন এলে সেটিকে কেন নেতিবাচকভাবে দেখা হবে—এই প্রশ্নই তার।

পরিণীতির ভাষায়, “একজন নারীর দিকে তাকিয়ে যখন বলা হয়, ‘ওহ মাই গড, তুমি কি সন্তান জন্ম দিয়েছ?’ আর সে যখন বলে, ‘হ্যাঁ, আমার স্ট্রেচমার্ক দেখো, আমি সন্তান জন্ম দিয়েছি’, তখন আমার মনে হয়—‘বাহ, অভিনন্দন! তোমার সন্তান কেমন আছে?’”

তার প্রশ্ন, “এটা কখন নেতিবাচক হয়ে গেল?”

‘ছয় মাস পরই আগের চেহারায় ফিরতে হবে—এমন চাপ কেন?’

সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই নারীদের আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাকেও প্রশ্ন করেছেন পরিণীতি।

তার মতে, মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শরীর আগের মতো না হওয়ায় তাকে নিয়ে মন্তব্য করা বা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কে আপনাকে অধিকার দিয়েছে একজন প্রসব-পরবর্তী নারীকে বলার—‘তোমার সন্তান হওয়ার ছয় মাস হয়ে গেছে, এবার আগের অবস্থায় ফিরে আসো’? আমি এটাকে একেবারেই অশিক্ষিত মানসিকতা মনে করি।”

পরিণীতির বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়—সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো নারীর শরীরের ‘ত্রুটি’ তৈরি করে না। বরং শরীরে থাকা প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

নিজের স্ট্রেচমার্ককে ‘সুন্দর’ মনে করেন পরিণীতি

নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, “আমি আমার স্ট্রেচমার্কের দিকে তাকিয়ে ভাবি—আমি জানি কেন এগুলো হয়েছে। কারণ আমি একটি সন্তান জন্ম দিয়েছি। আমার কাছে এটা খুবই সুন্দর।”

তার প্রশ্ন, “কখন এবং কীভাবে শরীরের এই পরিবর্তন বা স্ট্রেচমার্ক নেতিবাচক হয়ে গেল, সেটাই আমার কাছে অদ্ভুত লাগে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করেন, তাদের এসব কথা গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে মানুষের নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকা উচিত।

নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কেন আলাদা মাপকাঠি?

শুধু প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়েই নয়, বলিউডে নারী ও পুরুষ শিল্পীদের জন্য আলাদা সামাজিক মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিণীতি।

তার মতে, বিয়ের পর কোনো নারী অভিনয়শিল্পী যদি একটু অগোছালো বা ‘মেসি’ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন, তখনও তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু হয়। কিন্তু একই ধরনের চরিত্রে কোনো পুরুষ অভিনয় করলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণত এতটা আলোচনা হয় না।

এই দ্বৈত মানসিকতার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে, নারী অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন, শরীর, বিয়ে, মাতৃত্ব—প্রতিটি বিষয় নিয়েই যেন বাড়তি বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়।

ক্যাটরিনাকে ঘিরে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে

পরিণীতির এই মন্তব্যের সময় স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরেক বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের প্রসঙ্গ।

সন্তান জন্মের পর সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনার উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার চেহারা ও ওজন নিয়ে নানা মন্তব্য করেন কিছু নেটিজেন। বিষয়টি নিয়ে বলিউডের কয়েকজন তারকাও ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়ান। সালমান খানও প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পরিণীতির বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ তিনিও সন্তান জন্মের পর কাজে ফিরেছেন এবং নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পিছপা হননি।

মা হওয়ার পর নতুন কাজে ফিরলেন পরিণীতি

২০২৫ সালে ছেলে নীরের মা হন পরিণীতি চোপড়া। মাতৃত্বের পর এবার অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। তার নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। এটি মা হওয়ার পর তার প্রথম প্রজেক্ট।

সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক মাকে ঘিরে, যার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছর ধরে সে সত্যের সন্ধান চালিয়ে যায়। যতই সময় গড়ায়, ততই সামনে আসতে থাকে নানা গোপন তথ্য ও সম্পর্কের জটিলতা।

রেনসিল ডি’সিলভা ও সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রার নির্মিত এই সিরিজে পরিণীতির সঙ্গে অভিনয় করেছেন জেনিফার উইঙ্গেট, তাহির রাজ ভাসিন, সোনি রাজদান, সুমিত ব্যাসসহ আরও অনেকে।

‘মা হওয়ার পর শরীর বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক’

পরিণীতির বক্তব্য শুধু নিজের শরীর নিয়ে নয়, বরং সন্তান জন্মের পর প্রতিটি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

একজন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার শরীরে ওজন বাড়তে পারে, স্ট্রেচমার্ক দেখা দিতে পারে, আগের মতো শারীরিক গঠন নাও থাকতে পারে—এসবই মাতৃত্ব-পরবর্তী পরিবর্তনের অংশ। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ বা দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার চাপ তৈরি করার বদলে একজন নতুন মাকে সময় ও সম্মান দেওয়া উচিত—এটাই মূলত বলতে চেয়েছেন পরিণীতি।

তার নিজের ক্ষেত্রেও শরীরের পরিবর্তনকে তিনি কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখছেন না। বরং স্ট্রেচমার্ককে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্মৃতি হিসেবেই দেখছেন।

আর তাই তার প্রশ্নটি খুব সরল—যে শরীর একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে এনেছে, সেই শরীরের পরিবর্তনকে কেন লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হবে?

মাতৃত্বের পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরিণীতি যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু বলিউডের নারী তারকাদের জন্য নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করা প্রত্যেকের জন্যই একটি ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে।

কালের আলো/জেএন

দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশালী মহলের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যাংক মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখল ও জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংক নেতারা বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

ব্যাংক নেতারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালু, ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টিম কেলি এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যথেষ্ট প্রমাণ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।

১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বিচারক টিম কেলি ট্রাম্প প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আবারও হোয়াইট হাউসে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নাকচ

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিচারক কেলি প্রশাসনের এই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা হবে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ ট্রাম্পের

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর পর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ

এ সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন কোন সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী হিসেবে দেখছেন। জবাবে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন অধ্যায়

ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বৃহস্পতিবারের আদেশে আপাতত সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা বন্ধ হয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার চলমান বিরোধে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট তিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ