খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় ৬ দফা প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় ৬ দফা প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

ডেঙ্গু ও হামে বিপুলসংখ্যক শিশুসহ মানুষের মৃত্যু এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। তবে মিছিলটি সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে সংগঠনটির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এটি পরিচালনা করেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিবছর নতুন করে জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। মশক নিধন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হামের উপসর্গসহ শিশু মৃত্যুর বিষয়ে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

৬ দফা দাবি

স্মারকলিপিতে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি গঠন এবং ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সবাইকে পরিকল্পিতভাবে হামের টিকা দেওয়ার দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ার পর গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাইরে) ৩৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন।

২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৩০৩ জন, যা এ বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০৯ জন।

এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যৎ কমান্ড কাঠামোর জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) সম্পন্ন করেছেন দেশ-বিদেশের ৫৮ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে আয়োজিত সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কোর্সটির আনুষ্ঠানিক পর্ব।

  • কক্সবাজারে শেষ হলো বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি
  • নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা অর্জনে বিশেষ প্রশিক্ষণ
  • সেরা নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হাসিন তানভীরের

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র ও ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর, জিডি (পি) অর্জন করেন ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’। সনদ বিতরণের পাশাপাশি উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিমান বাহিনী প্রধান।

এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; প্রশিক্ষণের কাঙ্ক্ষিত ফল—পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষ—কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তারও একটি প্রতিফলন।

শ্রেণিকক্ষ থেকে কমান্ড কাঠামোয়
জেসিএসসি এমন একটি প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও কর্মঅভিজ্ঞতাকে পরবর্তী পর্যায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোর্সের মূল উদ্দেশ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশনামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থাপনায় শুধু নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়; পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ের প্রশিক্ষণকে ভবিষ্যৎ দায়িত্বের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে বিস্তৃত পরিসর
এবারের কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিদেশি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ৫৮ কর্মকর্তার এই অংশগ্রহণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি বহুপাক্ষিক পরিসর দিয়েছে। ভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামরিক পরিবেশ থেকে আসা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (সিএসটিআই) প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন অধ্যায়, অনুমোদন পেল ৫ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন অধ্যায়, অনুমোদন পেল ৫ ব্যাংক

দেশে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। পাশাপাশি আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব আবেদনের মধ্যে ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, আমার ডিজিটাল ব্যাংক, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক এবং মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংকও ছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর।

পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের সময়ে জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্য থেকেই এবার পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি