জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নতুন দায়িত্বে জাইমা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমানকে বাংলাদেশ থেকে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার দায়িত্বের মধ্যে কার্যালয়ের আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করা রয়েছে। জাতিসংঘের প্রোফাইলে তাকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ছয়জন। জাইমা রহমান ছাড়া অন্য পাঁচজন হলেন—আব্দুল আলিম, মোয়াজ্জেম হোসেন, মাফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।
বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে আব্দুল আলিম দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে। মোয়াজ্জেম হোসেন রয়েছেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে। মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।
জাইমা যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নিয়মিত কর্মী নন। সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়মিত বাজেটের পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে একটি ট্রাস্ট ফান্ডও রয়েছে।
জাতিসংঘের ট্রাস্ট ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১০টি সদস্যরাষ্ট্র মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৭ মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিনিধিত্ব ও যোগাযোগ এবং ৮১তম অধিবেশনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
কালের আলো/জেএন


আপনার মতামত লিখুন
Array