খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিআইজিসহ পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
ডিআইজিসহ পুলিশের আরও ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বাংলাদেশ পুলিশের এক ডিআইজিসহ বিভিন্ন পদের আরও ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুল, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিলেটের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ৮ এপিবিএন, উখিয়া, কক্সবাজারের (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরুলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার এবং ঢাকা জেলার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) শহিদুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এসব প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের ক্ষমতায়নেই সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জনগণের ক্ষমতায়নেই সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: তারেক রহমান

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জোর

তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব কার্ডকে সমন্বিত করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’কে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত জুনে সারাদেশে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চান

বাংলাদেশ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াকে সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন কামনা করেন তিনি।

জলবায়ু ন্যায়বিচারে জোর

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ক্লিন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শান্তি ও মানবিক বিশ্বের পক্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা যাতে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়—এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ কাজ করছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কারাবন্দি অবস্থায় বেতন নেওয়ার অভিযোগ, প্রভাষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কাউনিয়া (রংপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
কারাবন্দি অবস্থায় বেতন নেওয়ার অভিযোগ, প্রভাষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা অবস্থায় বেতন-ভাতা উত্তোলন, দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদের সই করা নোটিশে তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নিয়ে দীর্ঘদিন ‘শিক্ষা ছুটি’র নামে অনুপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী বাবু। একই সঙ্গে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বেতন-ভাতা উত্তোলন ও হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষরের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মাউশির নোটিশে এসব কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অসদাচরণ, জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর গোলাম মাজেদ বলেন, মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি, কারাবন্দি অবস্থায় বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষরের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার একটি মামলায় ২০২৪ সালের শেষ দিকে নীলফামারী থেকে মোহাম্মদ আলী বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর গত ১৫ মে দিবাগত রাতে রংপুর মহানগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে বের হন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে তিনি কারাগারে থাকলেও কলেজের এমপিও শিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের বেতন-ভাতাও তিনি পেয়েছেন। অন্যদিকে কলেজের উপস্থিতি রেজিস্টারে ১০ মে থেকে তার নামের পাশে ‘শিক্ষা ছুটি’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাউশির নোটিশের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময়। এক বুক আশা আর ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিকতার খাতিরে সেদিন সীমান্ত খুলে দিলেও, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভারে আজ রীতিমতো হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমন এক দমবন্ধ করা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, যে সংকটের জন্ম মিয়ানমারে, তার সমাধানও সেখানেই হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক জোরালো ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দেন। বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার কথা।

ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

শুধুমাত্র প্রত্যাবাসনই নয়, যতদিন না এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হচ্ছে, ততদিন রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনেন তিনি।

বিশ্ববিবেকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ