খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণের ক্ষমতায়নেই সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জনগণের ক্ষমতায়নেই সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: তারেক রহমান

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জোর

তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব কার্ডকে সমন্বিত করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’কে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত জুনে সারাদেশে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চান

বাংলাদেশ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াকে সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন কামনা করেন তিনি।

জলবায়ু ন্যায়বিচারে জোর

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ক্লিন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শান্তি ও মানবিক বিশ্বের পক্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা যাতে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়—এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ কাজ করছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাটির ঘরে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের সুখ-দুঃখের স্মৃতি

সখিপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
মাটির ঘরে জড়িয়ে আছে প্রজন্মের সুখ-দুঃখের স্মৃতি

একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি জনপদেই দেখা মিলত মাটির ঘরের। পুরু মাটির দেয়াল, খড় বা টিনের ছাউনি আর মাটির লেপ দেওয়া উঠান—সব মিলিয়ে এসব ঘর ছিল গ্রামীণ জীবনের চেনা প্রতিচ্ছবি। ঈদের আগে ঘর লেপাপোছা ও নতুন করে সাজানোর মধ্যেও ছিল আলাদা আনন্দ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় টিনের ঘর ও পাকা ভবনের বিস্তারে সখীপুরের গ্রামাঞ্চল থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো হাতে গোনা কিছু মাটির ঘর টিকে আছে। এসব ঘর কোথাও বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কোথাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অনেক পরিবারের কাছে এসব ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগের অংশ।

গজারিয়া ইউনিয়নের পাথারপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সি আনোয়ারা খাতুন এখনো স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির ঘরে বসবাস করছেন। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ঘরটি তার ঠিকানা। প্রায় দুই দশক আগে স্বামী মারা গেলেও তিনি ঘরটি ছেড়ে যাননি। জীবনের দীর্ঘ সময়ের সুখ-দুঃখের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই ঘরের সঙ্গে।

হতেয়া রাজাবাড়ী ইউনিয়নের হতেয়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সি আনোয়ারা বেগমের জীবনও একইভাবে মাটির ঘরকে ঘিরে। স্বামী রমিজ উদ্দিন মারা যাওয়ার এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুরোনো ঘরেই কাটছে তার জীবনের শেষ সময়। মেয়ে নাজমা আক্তারের ভাষায়, ‘মাটির ঘরটি শুধু আমাদের বসতবাড়ি নয়, এটি মায়ের জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী।’

করুটিয়াপাড়া, হতেয়া, পাথারপুর, কচুয়া, বড়চওনা, ছোট মৌশাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় বাপ-দাদার তৈরি এসব ঘরেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করত। পুরু মাটির দেয়ালের কারণে গরমের সময় ঘরের ভেতর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত। কোথাও কোথাও দুইতলা মাটির ঘরও তৈরি করা হতো, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘কোঠা ঘর’ নামে পরিচিত ছিল।

মাটির ঘর নির্মাণেও ছিল নিজস্ব ঐতিহ্য। মাটির সঙ্গে তুষ ও চুনা মিশিয়ে কাঠের খুঁটির ওপর স্তরে স্তরে মাটি লেপে দেয়াল তৈরি করা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই নির্মাণকৌশলও হারিয়ে যেতে বসেছে।

পাথারপুর গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই আমাদের বাড়িতে মাটির ঘর ছিল। এখন আমরা টিনের ঘরে থাকি। আমার মা এখনো মাটির ঘরেই থাকেন। বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতেই ঘরটি ভাঙিনি।’

ছোট মৌশা গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবা-মাকে মাটির ঘরে থাকতে দেখেছি। পরিবারের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি এই ঘরকে ঘিরে। ঈদের আগে মা-বাবা ঘরটি নতুন করে লেপে দিতেন। ঘরটিও যেন ঈদের সঙ্গে নতুন প্রাণ ফিরে পেত।’

সখীপুর সরকারি কলেজের ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক মোছা. নাছিমা আক্তার বলেন, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মাটির ঘরের সম্পর্ক ছিল গভীর। একসময় টিনের ঘর ও দালানকোঠার প্রচলন না থাকায় মানুষ মাটির ঘরেই বসবাস করত। বর্তমানে এসব ঘর কমে গেলেও কোথাও কোথাও এখনো মানুষ বসবাস করছেন এবং তাদের জীবনের নানা স্মৃতি এসব ঘরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

আধুনিকতার চাপে মাটির ঘরের সংখ্যা কমে গেলেও সখীপুরে টিকে থাকা অল্প কিছু ঘর এখনো গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে। মাটি, তুষ ও চুনে তৈরি এসব স্থাপনা যেন হারিয়ে যাওয়া এক জীবনধারা, পারিবারিক স্মৃতি ও শেকড়ের নীরব গল্প বহন করে চলেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মুঠোফোনে ব্যাংকিং, কঠিন সমীকরণ সামনে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
মুঠোফোনে ব্যাংকিং, কঠিন সমীকরণ সামনে

ব্যাংকের ঠিকানা বদলাচ্ছে। ইট-পাথরের শাখা নয়, গ্রাহকের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনই হতে যাচ্ছে নতুন ব্যাংকিংয়ের প্রধান দরজা। সেই পরিবর্তনের পথে আরেক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • এলওআইয়ের পর ৩০০ কোটি টাকার মূলধন, শাখা-উপশাখা ছাড়াই সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি
  • বিকাশ, রবি, ভিওন-স্কয়ারসহ শক্তিশালী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ব্যাংকিংয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র
  • আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি ও তথ্য সুরক্ষাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক ও নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য এটি বড় অগ্রগতি। তবে এলওআই মানেই ব্যাংক চালুর ছাড়পত্র নয়। বরং এখন শুরু হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব—মূলধন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের শর্ত পূরণ করে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার লড়াই।

৫২ আবেদন থেকে পাঁচে
ডিজিটাল ব্যাংকের স্বপ্নের শুরু ২০২৩ সালে। প্রথম দফায় ৫২টি প্রতিষ্ঠান ও জোট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে কড়ি ও নগদ ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়া হয়েছিল। পরে শর্ত পূরণে জটিলতার কারণে কড়ির অনুমোদন স্থগিত হয়। নতুন শর্তে সেটি আবার এলওআইয়ের পর্যায়ে ফিরেছে। অন্যদিকে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

পরবর্তীতে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে ২০২৫ সালে নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হয়। এবার আবেদন পড়ে ১২টি। মোবাইল আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প খাতের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটিও হয়ে ওঠে ভিন্ন মাত্রার। সেখান থেকেই বাছাই হয়ে পাঁচটি উদ্যোগ পেল এলওআই।

ব্যাংকিংয়ে ঢুকছে বড় প্রযুক্তি-গ্রাহকভিত্তি
নতুন উদ্যোগগুলোর উদ্যোক্তা কাঠামোই বলে দিচ্ছে, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বাজারে প্রতিযোগিতা শুধু ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ডিকে ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে ভুটানের ডিকে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে দেশের বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ। বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে রবি আজিয়াটা।

নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা কাঠামোয় রয়েছে ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে হাবিবুল্লাহ এন করিমের নাম। অর্থাৎ একদিকে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে বিপুল গ্রাহকভিত্তি, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—সব মিলিয়ে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেল দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৩০০ কোটি টাকা: প্রথম দরজার চাবি
এই বাজারে ঢুকতে অবশ্য শুধু বড় ব্র্যান্ড যথেষ্ট নয়। সংশোধিত নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আগের সীমা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। মূলধনের এই বড় ব্যবধান দেখাচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিটাল ব্যাংককে কেবল প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ হিসেবে দেখতে চাইছে না; বরং পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চাইছে। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ হওয়ার শর্তও তাই গুরুত্বপূর্ণ।

শাখা নেই, সেবা থাকবে স্ক্রিনে
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে গ্রাহকের অভিজ্ঞতায়। অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা স্থানান্তর, আমানত, ঋণ কিংবা বিল পরিশোধ—এসব সেবা শাখা, উপশাখা বা কাউন্টারের পরিবর্তে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত হবে।

ফলে শাখা স্থাপন ও পরিচালনার প্রচলিত ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহক বা ব্যাংকের শাখায় যাওয়া যাদের জন্য ব্যয়বহুল, তাদের কাছেও দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

বদল আসবে ঋণের বাজারে
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা শুধু টাকা পাঠানো বা অ্যাকাউন্ট খোলায় নয়; ঋণ বিতরণেও। গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে প্রচলিত ব্যাংকের নিয়মিত ক্রেডিট ইতিহাস না থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নতুনভাবে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আসতে পারে।

কিন্তু এখানেই প্রশ্নও বড়। কোন তথ্যের ভিত্তিতে একজন গ্রাহককে ঋণযোগ্য বলা হবে, অ্যালগরিদম কতটা নির্ভুল হবে এবং সেই সিদ্ধান্তে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে—এসবের ওপর নির্ভর করবে ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।

প্রযুক্তিই শক্তি, প্রযুক্তিই ঝুঁকি
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সুবিধা যেখানে প্রযুক্তি, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও সেখানে। সাইবার হামলা, পরিচয় জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল, তথ্য ফাঁস কিংবা প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব শুধু একটি অ্যাপের ওপর পড়বে না; সরাসরি পড়বে গ্রাহকের অর্থ ও ব্যাংকের প্রতি আস্থায়।

প্রচলিত ব্যাংকে গ্রাহকের সামনে একজন কর্মকর্তা থাকেন। ডিজিটাল ব্যাংকে সেই সম্পর্কের বড় অংশই হবে পর্দার আড়ালে থাকা প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে। ফলে শক্তিশালী পরিচয় যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এলওআইয়ের পর আসল পরীক্ষা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করে প্রস্তুতির কথা জানালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফলে পাঁচটি এলওআইকে ডিজিটাল ব্যাংকের শেষ সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বরং চূড়ান্ত লাইসেন্সের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার শুরু। এখন দেখতে হবে—যারা বড় গ্রাহকভিত্তি, প্রযুক্তি ও মূলধনের শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে, তারা সেই শক্তিকে কতটা নিরাপদ, সুশাসিত ও টেকসই ব্যাংকিং সেবায় রূপ দিতে পারে। কারণ ব্যাংকের ঠিকানা মোবাইলের পর্দায় বদলালেই ব্যাংকিং বদলে যায় না।

এম/এএইচ

স্বাস্থ্য বিভাগে নেই কীটতত্ত্ববিদ, জরিপও হয় না

যশোরে একদিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩২, হাসপাতালে ভর্তি ১০১

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
যশোরে একদিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩২, হাসপাতালে ভর্তি ১০১

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

যশোরে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেডিসিন ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে অভয়নগরে ১০ জন, বাঘারপাড়ায় ৬ জন, ঝিকরগাছায় একজন, কেশবপুরে ৮ জন, মণিরামপুরে ৪ জন, শার্শায় ৩ জন এবং সদর উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।

এ নিয়ে চলতি মৌসুমে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৮ জনে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৯ জনকে যশোর থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ মৌসুমে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার বাইরে পুরুষ ও নারী মেডিসিন ওয়ার্ডেও তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং পুরুষ ও নারী মেডিসিন ওয়ার্ড মিলিয়ে বর্তমানে ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালটির বহির্বিভাগে একদিনে ২৩২ জন পুরুষ ও ৩১১ জন নারী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক হুসাইন শাফায়েত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য শুরুতে ২০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেককে নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স কাজ করছেন। বর্তমানে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি