খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বাস্থ্য বিভাগে নেই কীটতত্ত্ববিদ, জরিপও হয় না

যশোরে একদিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩২, হাসপাতালে ভর্তি ১০১

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
যশোরে একদিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩২, হাসপাতালে ভর্তি ১০১

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

যশোরে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের পাশাপাশি মেডিসিন ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে অভয়নগরে ১০ জন, বাঘারপাড়ায় ৬ জন, ঝিকরগাছায় একজন, কেশবপুরে ৮ জন, মণিরামপুরে ৪ জন, শার্শায় ৩ জন এবং সদর উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।

এ নিয়ে চলতি মৌসুমে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৮ জনে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৯ জনকে যশোর থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ মৌসুমে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার বাইরে পুরুষ ও নারী মেডিসিন ওয়ার্ডেও তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং পুরুষ ও নারী মেডিসিন ওয়ার্ড মিলিয়ে বর্তমানে ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালটির বহির্বিভাগে একদিনে ২৩২ জন পুরুষ ও ৩১১ জন নারী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক হুসাইন শাফায়েত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য শুরুতে ২০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেককে নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স কাজ করছেন। বর্তমানে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চ্যাটজিপিটির ৫৩ ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
চ্যাটজিপিটির ৫৩ ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ

ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি অনুমতি ছাড়া বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জুলাইয়ে। ওই সময় ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলো এআই প্রযুক্তি শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এতে প্রায় ৭০০ এআই এজেন্ট জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ওপেনএআই। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওই ঘটনায় চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব ছবি কী ধরনের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।

ফাঁস হওয়া ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছিল, নাকি বাস্তব মানুষের এমন ছবি ছিল যেখান থেকে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব—এ বিষয়েও পরিষ্কার কোনো তথ্য দেয়নি ওপেনএআই। ছবিগুলো কখন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ঠিক কীভাবে এআই এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সেগুলো বাইরে চলে গেল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া বেশির ভাগ ছবি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ছবিগুলোও সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক ও ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে নতুন উদ্বেগ

রয়টার্সসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআই ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের এমন কিছু তথ্য ব্যবহার করে, যেগুলো থেকে সরাসরি তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না। কোনো ব্যবহারকারী আলাদাভাবে এই সুবিধা বন্ধ না করলে তাঁর কিছু তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

তথ্য থেকে ব্যক্তির সরাসরি পরিচয় সরিয়ে নেওয়া হলেও এ ধরনের ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের মতে, আলাদা আলাদা তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। আবার তথ্য থেকে পরিচয় মুছে ফেলার আগেই সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সর্বশেষ ঘটনাটি এআই এজেন্টের কার্যক্রম কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন অনলাইন ব্যবস্থা বা সফটওয়্যারে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই অতিরিক্ত সক্ষমতার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একটি এআই এজেন্ট কীভাবে কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে কিংবা কোনো অনলাইন ব্যবস্থায় প্রবেশের পর কী ধরনের কাজ করবে, তা সব সময় আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঘটনাটি নিজেদের তৈরি এআই এজেন্টের আচরণ ও কার্যক্রম পুরোপুরি অনুমান বা নিয়ন্ত্রণ করা ওপেনএআইয়ের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে দেখিয়েছে। এআই যত বেশি কাজ নিজে থেকে সম্পন্ন করতে পারছে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাও তত জটিল হয়ে উঠছে।

তদন্ত নিয়ে গোপনীয়তার অভিযোগ

রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়ে হওয়া তদন্ত সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি বলেছেন, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোম্পানির আইনজীবীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্তটি অস্বাভাবিক মাত্রায় গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে ৫৩টি ছবি কীভাবে বাইরে চলে গেল, কখন সেগুলো প্রকাশ হলো এবং এ ঘটনায় ঠিক কোন ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার হয়নি।

ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েই নয়, এআই এজেন্টের কাজের সীমা, ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর—এসব বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এআই এজেন্টকে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা এবং এজেন্টের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/এসএ

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭,৮৯০, মৃত্যু ৩,৭৯৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭,৮৯০, মৃত্যু ৩,৭৯৯

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৯০ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৯৯ জন। অর্থাৎ, শনাক্ত আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই প্রাণ হারিয়েছেন।

চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও মানুষের বাস্তুচ্যুতির কারণে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো, তাঁদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ উবাঙ্গি গভর্নরেটের বুলু এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী ওত-উয়েলে প্রদেশের দুঙ্গুতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, সংঘাত ও মানুষের বাস্তুচ্যুতির কারণে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো এবং ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টেড্রোস আরও জানান, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের চিকিৎসা কঠিন, কারণ এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে ইবোলার টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ডব্লিউএইচও।

সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

ইবোলা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা। বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় শনাক্ত করা ব্যক্তির সংখ্যা এখনো অনেক কম।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) মহাপরিচালক ড. জ্যাঁ কাসেইয়া বলেন, ৭ হাজারের বেশি নিশ্চিত আক্রান্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে। মে মাসে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে প্রদেশটিতে ৬ হাজার ৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২১ দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৮ জন।

এরপর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উত্তর কিভু প্রদেশে। সেখানে মোট ১ হাজার ৪৮০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২১ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬৭ জন।

রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন উত্তর কিভু প্রদেশে ঘটছে।

তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কিভুতে শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশ মারা গেছেন। এই মৃত্যুহার ডিআর কঙ্গোর জাতীয় গড় ৪৮ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেক রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে চাইছেন না। ফলে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের কাজও কঠিন হয়ে পড়ছে।

উত্তর কিভুর বুটেম্বোর একটি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ড. মিশেল পালুকু মুকুলোলি বলেন, অনেক রোগী মনে করেন হাসপাতালে গেলে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং সেখানে তাঁদের মৃত্যু হবে।

তাঁর মতে, রোগীদের এই ভয় ইবোলা শনাক্ত ও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

উত্তর কিভু প্রদেশে এর আগেও তিনবার ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এর মধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবটি ছিল চলতি বছরের আগ পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

তবে আগের এসব প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ইবোলা ভাইরাসের ভিন্ন একটি ধরন—‘জায়ার স্ট্রেইন’। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন সম্পর্কে এখনো তুলনামূলকভাবে কম তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুর দিকে বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনে আক্রান্ত রোগীদের অনেকের উপসর্গ তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকে। ফলে এসব উপসর্গ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের মতো সাধারণ রোগের উপসর্গ বলে ভুল হতে পারে।

এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসা নিয়ে মানুষের ভয় এবং রোগ শনাক্তকরণে ঘাটতি—সব মিলিয়ে ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন ইউনিট আগামী সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন ইউনিট আগামী সপ্তাহে

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের জন্য আলাদা ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই নতুন এই ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি)। এ পদ পুলিশ সদর দফতরে না থাকলে নতুন করে পদ সৃষ্টি করা হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম মেট্রো, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত থাকবে। থানা ও জেলা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ বিশ্লেষণ ও তদন্তের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম রাখা হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দফতর ও বিভাগীয় পর্যায়ে বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউনিট গঠনের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই দেওয়া হয়েছে। জটিল সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিশ্লেষণ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে করা হবে। আর থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব এমন অপরাধ সংশ্লিষ্ট পর্যায়েই তদন্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ আধুনিক অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধরন হয়ে উঠেছে। এ কারণে বাংলাদেশেও সাইবার নিরাপত্তাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এমএসআইপি