খুঁজুন
                               
, ,
           

মুঠোফোনে ব্যাংকিং, কঠিন সমীকরণ সামনে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
মুঠোফোনে ব্যাংকিং, কঠিন সমীকরণ সামনে

ব্যাংকের ঠিকানা বদলাচ্ছে। ইট-পাথরের শাখা নয়, গ্রাহকের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনই হতে যাচ্ছে নতুন ব্যাংকিংয়ের প্রধান দরজা। সেই পরিবর্তনের পথে আরেক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • এলওআইয়ের পর ৩০০ কোটি টাকার মূলধন, শাখা-উপশাখা ছাড়াই সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি
  • বিকাশ, রবি, ভিওন-স্কয়ারসহ শক্তিশালী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ব্যাংকিংয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র
  • আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি ও তথ্য সুরক্ষাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক ও নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য এটি বড় অগ্রগতি। তবে এলওআই মানেই ব্যাংক চালুর ছাড়পত্র নয়। বরং এখন শুরু হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব—মূলধন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের শর্ত পূরণ করে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার লড়াই।

৫২ আবেদন থেকে পাঁচে
ডিজিটাল ব্যাংকের স্বপ্নের শুরু ২০২৩ সালে। প্রথম দফায় ৫২টি প্রতিষ্ঠান ও জোট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে কড়ি ও নগদ ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দেওয়া হয়েছিল। পরে শর্ত পূরণে জটিলতার কারণে কড়ির অনুমোদন স্থগিত হয়। নতুন শর্তে সেটি আবার এলওআইয়ের পর্যায়ে ফিরেছে। অন্যদিকে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

পরবর্তীতে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে ২০২৫ সালে নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হয়। এবার আবেদন পড়ে ১২টি। মোবাইল আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প খাতের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটিও হয়ে ওঠে ভিন্ন মাত্রার। সেখান থেকেই বাছাই হয়ে পাঁচটি উদ্যোগ পেল এলওআই।

ব্যাংকিংয়ে ঢুকছে বড় প্রযুক্তি-গ্রাহকভিত্তি
নতুন উদ্যোগগুলোর উদ্যোক্তা কাঠামোই বলে দিচ্ছে, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বাজারে প্রতিযোগিতা শুধু ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ডিকে ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে ভুটানের ডিকে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে দেশের বড় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ। বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে রবি আজিয়াটা।

নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা কাঠামোয় রয়েছে ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে হাবিবুল্লাহ এন করিমের নাম। অর্থাৎ একদিকে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে বিপুল গ্রাহকভিত্তি, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—সব মিলিয়ে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেল দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৩০০ কোটি টাকা: প্রথম দরজার চাবি
এই বাজারে ঢুকতে অবশ্য শুধু বড় ব্র্যান্ড যথেষ্ট নয়। সংশোধিত নীতিমালায় ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আগের সীমা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। মূলধনের এই বড় ব্যবধান দেখাচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিটাল ব্যাংককে কেবল প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ হিসেবে দেখতে চাইছে না; বরং পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চাইছে। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ হওয়ার শর্তও তাই গুরুত্বপূর্ণ।

শাখা নেই, সেবা থাকবে স্ক্রিনে
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে গ্রাহকের অভিজ্ঞতায়। অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা স্থানান্তর, আমানত, ঋণ কিংবা বিল পরিশোধ—এসব সেবা শাখা, উপশাখা বা কাউন্টারের পরিবর্তে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত হবে।

ফলে শাখা স্থাপন ও পরিচালনার প্রচলিত ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহক বা ব্যাংকের শাখায় যাওয়া যাদের জন্য ব্যয়বহুল, তাদের কাছেও দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

বদল আসবে ঋণের বাজারে
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা শুধু টাকা পাঠানো বা অ্যাকাউন্ট খোলায় নয়; ঋণ বিতরণেও। গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে প্রচলিত ব্যাংকের নিয়মিত ক্রেডিট ইতিহাস না থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নতুনভাবে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আসতে পারে।

কিন্তু এখানেই প্রশ্নও বড়। কোন তথ্যের ভিত্তিতে একজন গ্রাহককে ঋণযোগ্য বলা হবে, অ্যালগরিদম কতটা নির্ভুল হবে এবং সেই সিদ্ধান্তে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে—এসবের ওপর নির্ভর করবে ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।

প্রযুক্তিই শক্তি, প্রযুক্তিই ঝুঁকি
ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সুবিধা যেখানে প্রযুক্তি, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও সেখানে। সাইবার হামলা, পরিচয় জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল, তথ্য ফাঁস কিংবা প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব শুধু একটি অ্যাপের ওপর পড়বে না; সরাসরি পড়বে গ্রাহকের অর্থ ও ব্যাংকের প্রতি আস্থায়।

প্রচলিত ব্যাংকে গ্রাহকের সামনে একজন কর্মকর্তা থাকেন। ডিজিটাল ব্যাংকে সেই সম্পর্কের বড় অংশই হবে পর্দার আড়ালে থাকা প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে। ফলে শক্তিশালী পরিচয় যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এলওআইয়ের পর আসল পরীক্ষা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণ করে প্রস্তুতির কথা জানালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফলে পাঁচটি এলওআইকে ডিজিটাল ব্যাংকের শেষ সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বরং চূড়ান্ত লাইসেন্সের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার শুরু। এখন দেখতে হবে—যারা বড় গ্রাহকভিত্তি, প্রযুক্তি ও মূলধনের শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে, তারা সেই শক্তিকে কতটা নিরাপদ, সুশাসিত ও টেকসই ব্যাংকিং সেবায় রূপ দিতে পারে। কারণ ব্যাংকের ঠিকানা মোবাইলের পর্দায় বদলালেই ব্যাংকিং বদলে যায় না।

এম/এএইচ

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে কিছু অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে চিঠি দিয়ে প্রকল্পটিকে সংস্থাটির ‘ইন্টেগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বড় যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার সুবিধা, দ্রুত উড়োজাহাজ ওঠানামা, আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক, রেল ও এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে, দ্রুত বের হওয়ার ট্যাক্সিওয়ে, বড় উড়োজাহাজের জন্য ৬ থেকে ৮টি পার্কিং স্ট্যান্ড এবং প্রায় ৬টি বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে বছরে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা দেড় কোটি থেকে ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্গো ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে তা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কার্গো হাবে বন্ডেড গুদাম, এক্সপ্রেস কার্গো, ই-কমার্স সুবিধা, হিমাগার ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন হয়েছিল ৯ লাখ ৭৭ হাজার। ২০২৫ সালেও এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য ঢাকায় নিয়ে সেখান থেকে উড়োজাহাজে বিদেশে পাঠাতে হয়।

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড, কোল্ড চেইন হাব এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আছিফ চৌধুরী বলেন, শাহ আমানতকে কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে লাউঞ্জ, চেকিং কাউন্টার ও কার্গো ভিলেজের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
প্রমোশনের সমীকরণে খালেদের ঝড়

কাউন্টি ক্রিকেটে আবারও আলো ছড়াল বাংলাদেশের পেস। দল যখন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, সামনে যখন প্রমোশনের হাতছানি—ঠিক তখনই বল হাতে জ্বলে উঠলেন খালেদ আহমেদ। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বাংলাদেশি পেসার।

ক্যান্টারবুরিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে খালেদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামিয়েছেন ম্যাট মিলনেসও। তাঁর ৪ উইকেটের সঙ্গে খালেদের ৩ উইকেটে মাত্র ২২৯ রানেই গুটিয়ে যায় গ্লুচেস্টারশায়ার।

তবে এই ম্যাচে খালেদের ৩ উইকেটের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্টের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমোশন-সমীকরণের অংশ। আর সেই সমীকরণে প্রথম দিনেই বড় সুবিধা করে নিয়েছে দলটি।

১১০ ওভারের আগেই অলআউট, মিলল গুরুত্বপূর্ণ বোনাস

গ্লুচেস্টারশায়ারকে মাত্র ৬৯.৫ ওভারে অলআউট করেছে কেন্ট। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ১১০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারলে বোলিংয়ে ৩ বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়।

প্রমোশনের লড়াইয়ে থাকা কেন্টের জন্য এই অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমের শেষ ম্যাচে এসে প্রতিটি পয়েন্টই যখন টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে, তখন খালেদদের দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।

গ্লুচেস্টারশায়ারের ইনিংস দ্রুত শেষ করার পেছনে খালেদের অবদানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট

খালেদ এ ম্যাচে আউট করেছেন দারুশ আহমেদ, সাই কিশোর ও চে সিমন্সকে। এর মধ্যে দারুশ ও সাই কিশোরকে ফিরিয়েছেন টানা দুই ওভারে। পরপর দুই ওভারে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের মিডল অর্ডারে চাপ তৈরি করেন তিনি। পরে সেই চাপ কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে ফেলে কেন্ট। শেষ পর্যন্ত ২২৯ রানে অলআউট হয় গ্লুচেস্টারশায়ার। কেন্টের হয়ে ম্যাট মিলনেস নেন ৪ উইকেট, আর খালেদের শিকার ৩ উইকেট।

বাংলাদেশি এই পেসারের জন্য এটিও ছিল আরেকটি কার্যকর পারফরম্যান্স। এর আগের ম্যাচেই কেন্টের হয়ে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ফলে টানা দুই ম্যাচে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন খালেদ।

কেন্টের সামনে এখন প্রমোশনের দরজা

এই ম্যাচটি কেন্টের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাদের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। প্রথম বিভাগে ওঠার সমীকরণও বেশ পরিষ্কার—এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রমোশন নিশ্চিত করবে কেন্ট। বর্তমানে ১৯৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দলটি। তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে নর্দাম্পটনশায়ার, যাদের পয়েন্ট ১৯১। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র ৪ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচে কেন্টের প্রতিটি রান, উইকেট এবং বোনাস পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পয়েন্ট সমান হয়ে গেলেও কেন্ট এগিয়ে থাকবে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের কারণে। চলতি মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের চেয়ে কেন্টের জয় দুটি বেশি। তাই শেষ পর্যন্ত দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে জয়সংখ্যার হিসাবেই প্রমোশন নিশ্চিত হতে পারে কেন্টের।

প্রথম দিনেই কেন্টের দাপট

শুধু বোলিংয়েই নয়, প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতেও ভালো অবস্থানে রয়েছে কেন্ট। গ্লুচেস্টারশায়ারকে ২২৯ রানে অলআউট করার পর দিনের খেলা শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭১ রান। অর্থাৎ হাতে রয়েছে ৯ উইকেট, আর প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের রানও পেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে দলটি। ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে কেন্ট যে অবস্থান তৈরি করেছে, তাতে প্রমোশনের লড়াইয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ার কথা।

অন্যদিকে একই সময়ে নর্দাম্পটনশায়ারের অবস্থা বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাবে মিডলসেক্স প্রথম ইনিংসে তুলেছে ২৫৫ রান। ফলে ইতোমধ্যেই ১৫২ রানের লিড পেয়েছে মিডলসেক্স। নর্দাম্পটনশায়ারের এই পরিস্থিতি কেন্টের জন্য সমীকরণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

হাসানের পর এবার খালেদের আলো

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য কাউন্টি ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়টা বেশ ইতিবাচক। কেন্টের হয়েই এর আগে হাসান মাহমুদ বল হাতে নজর কেড়েছিলেন। এবার সেই দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খালেদ আহমেদ।

খালেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও তাকে কেন্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে। আগের ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়ার পর এবার প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট—দুই ম্যাচে বল হাতে তার কার্যকারিতাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন্টের প্রমোশন-স্বপ্ন এখন অনেকটাই নিজেদের হাতে। শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রথম বিভাগে ওঠার পথ খুলে যাবে তাদের সামনে।

আর সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই খালেদ আহমেদের ৩ উইকেট ও কেন্টের বোলিং আক্রমণের দাপট দলকে এনে দিয়েছে মূল্যবান সুবিধা। মৌসুমের শেষ ম্যাচে প্রমোশন নিশ্চিত করার অপেক্ষায় থাকা কেন্টের জন্য তাই প্রথম দিনের গল্পটা বেশ আশাব্যঞ্জক—আর সেই গল্পের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ।

কালের আলো/জেএন

ইসলামপুরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান

ইসলামপুর(জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ইসলামপুরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবলসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৬টি সহকারী শিক্ষক, তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও একজন অফিস সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরে সরকারি, নিবন্ধিত, কেজিসহ মোট ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫১ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮০ জন। ফলে ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৮ জন। ফলে ১২৮টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব, আবার কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব একই শিক্ষককে পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেও ভারসাম্য থাকছে না। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শিক্ষকসংকট নিরসন করা প্রয়োজন।

তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়ার পেছনে বিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন কারণও রয়েছে বলে জানান বীর সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন। তিনি বলেন, আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। আবার টিফিনের সময় বাড়িতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরতে চায় না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। তবে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কালের আলো/এমএসআইপি