খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসলামপুরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান

ইসলামপুর(জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ইসলামপুরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবলসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৬টি সহকারী শিক্ষক, তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও একজন অফিস সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরে সরকারি, নিবন্ধিত, কেজিসহ মোট ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫১ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮০ জন। ফলে ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৮ জন। ফলে ১২৮টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব, আবার কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব একই শিক্ষককে পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেও ভারসাম্য থাকছে না। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শিক্ষকসংকট নিরসন করা প্রয়োজন।

তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়ার পেছনে বিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন কারণও রয়েছে বলে জানান বীর সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন। তিনি বলেন, আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। আবার টিফিনের সময় বাড়িতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরতে চায় না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। তবে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নাটোরের কাঁচাগোল্লা। স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে দেশজুড়ে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তবে জিআই স্বীকৃতির পরও এই মিষ্টির মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি ভেজাল মিষ্টিকে কাঁচাগোল্লা নামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কার্যক্রম মূলত বছরে এক দিনের উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় কাঁচাগোল্লার নামে নিম্নমানের মিষ্টি বাজারজাত করছেন। বিশেষ করে নাটোর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন পরিবহনে ময়দার তৈরি লাড্ডুকে কাঁচাগোল্লা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কাঁচাগোল্লার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাটোরের লালবাজারে মধুসূদন পালের দোকানে কাঁচাগোল্লার উৎপত্তি। ১৭৫৭ সাল থেকে এটি ব্যাপক পরিচিতি পেতে শুরু করে। একদিন কারিগর না আসায় বিপুল পরিমাণ ছানা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চিনির রসে বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার পর ভিন্ন স্বাদের যে মিষ্টি তৈরি হয়, সেখান থেকেই কাঁচাগোল্লার প্রচলন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

কাঁচা ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর নাম হয় ‘কাঁচাগোল্লা’। প্রচলিত গোলাকার মিষ্টির মতো দেখতে না হলেও ঝরঝরে ও হালকা রসাল হওয়াই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রানী ভবানীর শাসনামলে নাটোরের এই মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজপরিবারের অতিথিদেরও কাঁচাগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো বলে জানা যায়।

কমছে বিক্রি, বাড়ছে ভেজালের অভিযোগ

ঐতিহ্যবাহী জয়কালী বাড়ি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী রবীন্দ্র নাথ কুন্ডু বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে আমি দোকানে বসছি। একসময় আমরা প্রতিদিন কয়েক মণ মিষ্টি বিক্রি করেছি। এখন দিনে এক মণও হয় না। মানসম্পন্ন কারিগরের অভাব এবং বাজারের বর্তমান অবস্থায় আমরা শুধু বাপ-দাদার আমলের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কাঁচাগোল্লার সঙ্গে নিম্নমানের মিষ্টির পার্থক্য না জানায় অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পণ্যটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

জড়িত শত শত পরিবার

কাঁচাগোল্লাকে ঘিরে নাটোরের স্থানীয় অর্থনীতিতেও রয়েছে বড় ধরনের কর্মসংস্থান। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার কেজি কাঁচাগোল্লা বিক্রি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

নিচাবাজারের মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, লালবাজারের জয়কালী বাড়ি এবং নাটোর রেলস্টেশনের ঘোষ মিষ্টান্ন দোকানে কাঁচাগোল্লার বেচাকেনা বেশি। খামারি ও দুধ বিক্রেতা থেকে শুরু করে ছানা প্রস্তুতকারী, কারিগর, দোকানি ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শত শত পরিবার যুক্ত।

রপ্তানির উদ্যোগ নেই

দেশজুড়ে পরিচিতি থাকলেও কাঁচাগোল্লাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া কিংবা বিদেশে রপ্তানির জন্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দেশে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এগিয়ে না এলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি উদ্যোগে এটি সম্ভব নয়। রপ্তানিমুখী বাজারজাত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচাগোল্লার ঐতিহ্য ও মান ধরে রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ কারিগর তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিআই পণ্যের স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাঁচাগোল্লা উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদেরও নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাহার গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রাসেল বলেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় চিকিৎসা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।

বামরাইল ইউনিয়নের মুন্ডুপাশা গ্রামের রাফিয়া বলেন, রোগী বেশি থাকায় হাসপাতালে চাপ দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. ওয়াসিমও জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত মলি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

তিনি জানান, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, শয্যা, ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে, বদলে যাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে কিছু অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টরের কাছে চিঠি দিয়ে প্রকল্পটিকে সংস্থাটির ‘ইন্টেগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বড় যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনার সুবিধা, দ্রুত উড়োজাহাজ ওঠানামা, আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক, রেল ও এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার ও প্রস্থ ৪৫ মিটার। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে, দ্রুত বের হওয়ার ট্যাক্সিওয়ে, বড় উড়োজাহাজের জন্য ৬ থেকে ৮টি পার্কিং স্ট্যান্ড এবং প্রায় ৬টি বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে বছরে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সক্ষমতা দেড় কোটি থেকে ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্গো ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে তা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কার্গো হাবে বন্ডেড গুদাম, এক্সপ্রেস কার্গো, ই-কমার্স সুবিধা, হিমাগার ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন হয়েছিল ৯ লাখ ৭৭ হাজার। ২০২৫ সালেও এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য ঢাকায় নিয়ে সেখান থেকে উড়োজাহাজে বিদেশে পাঠাতে হয়।

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড, কোল্ড চেইন হাব এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আছিফ চৌধুরী বলেন, শাহ আমানতকে কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে লাউঞ্জ, চেকিং কাউন্টার ও কার্গো ভিলেজের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরকে ফুয়েল হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি