ইসলামপুরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত প্রাথমিকের পাঠদান
জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবলসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৬টি সহকারী শিক্ষক, তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও একজন অফিস সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরে সরকারি, নিবন্ধিত, কেজিসহ মোট ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫১ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮০ জন। ফলে ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
এদিকে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৮ জন। ফলে ১২৮টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব, আবার কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব একই শিক্ষককে পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেও ভারসাম্য থাকছে না। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়।
অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শিক্ষকসংকট নিরসন করা প্রয়োজন।
তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়ার পেছনে বিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন কারণও রয়েছে বলে জানান বীর সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন। তিনি বলেন, আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। আবার টিফিনের সময় বাড়িতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরতে চায় না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। তবে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
কালের আলো/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array